মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে আনসার সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: দুর্ধর্ষ ডাকাতি প্রচেষ্টা প্রতিহত, আটক ১
- আপডেট সময়ঃ ০৫:০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
অদ্য ০৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ ভোররাতে কক্সবাজারের মহেশখালীস্থ মাতারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (KPI) ‘কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (CPGCBL)’ প্রকল্পে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র ডাকাতচক্রের অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের অসীম সাহসিকতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং পেশাদারিত্বের ফলে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় ২০–২৫ জনের এই সংঘবদ্ধ চক্রকে প্রতিহত করে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা জাতীয় সম্পদ ও কৌশলগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন—যা বাহিনীর অটল দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আনসার-ভিডিপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিবাগত রাত আনুমানিক ০৩:৫০ মিনিটে প্রকল্পের ‘মুগডেইল পোস্ট’-এ দায়িত্বরত দুইজন সশস্ত্র আনসার সদস্য সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ করেন। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র—রামদা, ছুরি ও লাঠিসোটা—নিয়ে অতর্কিত হামলার চেষ্টা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্য মোঃ আশিকুর রহমান দৃঢ়তার সাথে তাঁর শর্টগান থেকে ০২ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ফাঁকা ফায়ার করেন। আকস্মিক প্রতিরোধ ও গুলির শব্দে ডাকাতদল ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে নিকটস্থ নৌবাহিনীর একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার সদস্যদের সাথে যৌথ তৎপরতা শুরু করে। সমন্বিত ধাওয়ার একপর্যায়ে ডাকাতচক্রের অন্যতম সদস্য শহিদুল্লাহ (৪০)-কে আটক করা সম্ভব হয়। তিনি মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মগডেইল গ্রামের আব্দুস শুক্কুর ও আনোয়ারা দম্পতির পুত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্ধকারের সুযোগে চক্রের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, পেশাগত দক্ষতা এবং অবিচল দেশপ্রেমের ফলে একটি সম্ভাব্য বৃহৎ নাশকতা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। কৌশলগত জাতীয় স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষায় বাহিনীর এই তৎপরতা ও আত্মনিবেদন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এবং ভবিষ্যতেও যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতার প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
















