০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কলমানি মার্কেটকে প্রভাবিত করতে কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন, প্রতারণা বা জালিয়াতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে বাজারে গুজব ছড়ালে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কলমানি মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পকালীন ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করতে পারবে। তবে দুর্বল প্রতিষ্ঠান সীমার বেশি ধার করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কলমানিতে ধার দিলে সাধারণত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করে না। কিন্তু বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্রাতিরিক্ত ধার নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে কলমানিতেও খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনেকে ধার দিতে চাচ্ছে না। তাতে মুদ্রাবাজারের গভীরতা নষ্ট হচ্ছে। ওই বাজারে কেবল বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেনদেন হয়। কোনো জামানতের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে ওই বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। ওসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কলমানি মার্কেট পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করছে। সূত্র জানায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অংশ হিসাবে কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য ‘গাইডলাইন্স ফর অপারেটিং ইলেক্ট্রনিক ডিলিং সিস্টেমস ফর ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেট’ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনদের মতামত নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে যেসব প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব রয়েছে কেবল তারাই কলমানি মার্কেটে অংশ নিতে পারে। আর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরই কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব রয়েছে। ফলে তারাই কলমানি মার্কেটে অংশ নিতে পারে। বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প মেয়াদে বা একদিনের জন্য ধার করতে পারে। যদিও ধার দেয়া ও নেয়া দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তার মেয়াদ বাড়ানো যায়। নতুন নীতিমালায় কলমানি মার্কেট থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করা যাবে। স্বল্পকালীন এক কর্মদিবসের জন্যও অর্থ দেয়া হবে। ২ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে সেটি লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। মেয়াদি ধার ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সূত্র আরো জানায়, নতুন নীতিমালায় কলমানি বাজারে ঝুঁকি কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সেজন্য লেনদেনের সব ধরনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিতে হবে। কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে থাকবে ব্যবস্থাপনা ও মধ্যবর্তী অফিস, লেনদেন করবে ডিলাররা এবং লেনদেন নিষ্পত্তি করবে ব্যাক অফিস ও চেকার। মধ্যবর্তী অফিস লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে সুপারভিশন করবে। বাজারে অশোভন বাজার আচরণ, অসদাচরণ, ভুল বোঝাবুঝি বিষয়ে তদারকি করবে। ডিলারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং ডাটা সংরক্ষণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখার মতো ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাজারের স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সব পক্ষকে নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং সুযোগ বুঝে সুদের হার বাড়িয়ে অনৈতিক ব্যবসা করা যাবে না।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

আপডেট সময়ঃ ০৯:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অক্টোবর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মুদ্রাবাজারের কলমানি মার্কেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কলমানি মার্কেটকে প্রভাবিত করতে কোনো ধরনের ম্যানিপুলেশন, প্রতারণা বা জালিয়াতি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে বাজারে গুজব ছড়ালে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কলমানি মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পকালীন ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করতে পারবে। তবে দুর্বল প্রতিষ্ঠান সীমার বেশি ধার করতে পারবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কলমানিতে ধার দিলে সাধারণত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করে না। কিন্তু বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্রাতিরিক্ত ধার নিয়ে সেগুলো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে কলমানিতেও খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অনেকে ধার দিতে চাচ্ছে না। তাতে মুদ্রাবাজারের গভীরতা নষ্ট হচ্ছে। ওই বাজারে কেবল বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে লেনদেন হয়। কোনো জামানতের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের কারণে ওই বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। ওসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কলমানি মার্কেট পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করছে। সূত্র জানায়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অংশ হিসাবে কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য ‘গাইডলাইন্স ফর অপারেটিং ইলেক্ট্রনিক ডিলিং সিস্টেমস ফর ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেট’ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশীজনদের মতামত নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে যেসব প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব রয়েছে কেবল তারাই কলমানি মার্কেটে অংশ নিতে পারে। আর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোরই কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব রয়েছে। ফলে তারাই কলমানি মার্কেটে অংশ নিতে পারে। বর্তমানে কলমানি মার্কেট থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প মেয়াদে বা একদিনের জন্য ধার করতে পারে। যদিও ধার দেয়া ও নেয়া দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তার মেয়াদ বাড়ানো যায়। নতুন নীতিমালায় কলমানি মার্কেট থেকে স্বল্পমেয়াদি ধারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ধারও করা যাবে। স্বল্পকালীন এক কর্মদিবসের জন্যও অর্থ দেয়া হবে। ২ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে সেটি লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। মেয়াদি ধার ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। সূত্র আরো জানায়, নতুন নীতিমালায় কলমানি বাজারে ঝুঁকি কমানো ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। সেজন্য লেনদেনের সব ধরনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিতে হবে। কলমানি মার্কেট পরিচালনার জন্য সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে থাকবে ব্যবস্থাপনা ও মধ্যবর্তী অফিস, লেনদেন করবে ডিলাররা এবং লেনদেন নিষ্পত্তি করবে ব্যাক অফিস ও চেকার। মধ্যবর্তী অফিস লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে সুপারভিশন করবে। বাজারে অশোভন বাজার আচরণ, অসদাচরণ, ভুল বোঝাবুঝি বিষয়ে তদারকি করবে। ডিলারদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং ডাটা সংরক্ষণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখার মতো ব্যবস্থা থাকতে হবে। বাজারের স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সব পক্ষকে নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে এবং সুযোগ বুঝে সুদের হার বাড়িয়ে অনৈতিক ব্যবসা করা যাবে না।