০৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

মেহেরপুরে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভুয়া এনজিও

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেহেরপুরে ‘সিডার’ ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি নামের একটি সংস্থা গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার নাম করে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। গত রোববার ঋণ নিতে এসে গ্রাহকরা দেখেন আসবাবপত্র নিয়ে অফিস গুটিয়ে পালিয়েছে কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অভিযুক্তের বিচার দাবি করেন। মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনা, গোপালপুর, শ্যামপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহক সংগ্রহ করে ঋণ দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ করে জামানত সংগ্রহ করে সংস্থাটি। সংস্থার মেহেরপুর শাখার ম্যানেজার হিসেবে গ্রাহকদের কাছে আশরাফুল আলম নামে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করেন। এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক আগে শহরের কুষ্টিয়া সড়কে দিঘীর পাড়ায় আবদুল মতিন নামের একজনের কাছে থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা অফিস করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। হঠাৎ দুয়েকদিন আসা-যাওয়া করে। গত রোববার গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার দিনে তারা আসবাবপত্র নিয়ে উধাও হয়েছে। তবে তাদের কখনও কেউ দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পরে বাড়ি মালিক এনজিওর নামে লাগানো সাইনবোর্ডটি খুলে দেন। নতুন মদনাডাঙ্গা গ্রামের সীমা খাতুন জানান, তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে তার থেকে ১৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। গত রোববার তার ঋণের তিন লাখ টাকা দেওয়া কথা। কিন্তু সকালে অফিসে এসে দেখতে পান অফিসে কেউ নেই। আসবাবপত্রও নেই। তিনি বলেন, তার স্বামীকে গোপন করে তিনি এ টাকা দিয়েছেন। তার স্বামী জানতে পারলে তাকে বাড়িতে উঠতে দেবে না। এখন পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। একই গ্রামের হেলাল জানান, তার সঙ্গেও তিন লাখ ঋণ নেওয়ার কথা বলে ১৮ হাজার নেওয়া হয়েছে। নাজমা খাতুন, হাফিদজুল ইসলামসহ মদনাডাঙ্গা গ্রাম থেকে ৯ জন দিয়েছেন এক লাখ টাকা। এ সময় তাদের কাছে সংস্থাটি পাসবই দেয় বলে জানান তারা। কুতুরপুর গ্রামের সাজেদা খাতুন এক লাখ ঋণ পাবেন বলে দিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। মর্জিনা খাতুন দিয়েছেন ৫ হাজার, হিরা খাতুন ৭ হাজার, আনোয়ার হোসেন ৭ হাজার টাকা। শ্যামপুরের ভ্যান চালক মাসুম হোসেন দুই লাখ টাকা ঋণ পাবেন বলে দিয়েছেন ১২ হাজার। ঋণ নিতে এসে অফিস উধাওয়ের খবর পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ছাড়াও সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রাহকরা এসে অফিসে কাউকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সেখানে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের শান্ত করেন। এনজিও কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি গ্রাহকদের আশ্বাস দেন। তবে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কাজী কাদের ফজলে রাব্বী বলেন, সিডার নামের কোনো এনজিওর অনুমোদন মেহেরপুরে নেই। এক ধরনের প্রতারকরা নাম সর্বস্ব এনজিও খুলে মানুষের কাছে থেকে টাকা লগ্নি করে উধাও হচ্ছে। এদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের কাছে টাকা দেওয়ার আগে অবশ্যই তাদের কাগজপত্র যাচাই করে নিতে হবে। এ ছাড়া জেলা সমবায় অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিডার ফাউন্ডেশন নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তাদের দপ্তরেও নেই। বাড়ির মালিক আবদুল মতিন জানান, কয়েক দিন আগে সিডার এনজিও সংস্থার মেহেরপুর শাখার ম্যানেজার হিসেবে আশরাফুল আলম নামে একজন ১৪ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে বাসা ভাড়া নেন। ১০ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও শনিবার থেকে এনজিও ম্যানেজারের ফোন বন্ধ পান। পরে বাড়ির সামনে গ্রাহকদের ভিড় জমতে দেখেন। বাসা ভাড়ার সময় একটি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করেন তারা।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

মেহেরপুরে ঋণ দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ভুয়া এনজিও

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেহেরপুরে ‘সিডার’ ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি নামের একটি সংস্থা গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার নাম করে অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। গত রোববার ঋণ নিতে এসে গ্রাহকরা দেখেন আসবাবপত্র নিয়ে অফিস গুটিয়ে পালিয়েছে কর্মকর্তারা। এ সময় সেখানে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অভিযুক্তের বিচার দাবি করেন। মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনা, গোপালপুর, শ্যামপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহক সংগ্রহ করে ঋণ দেওয়ার নামে ১০ শতাংশ করে জামানত সংগ্রহ করে সংস্থাটি। সংস্থার মেহেরপুর শাখার ম্যানেজার হিসেবে গ্রাহকদের কাছে আশরাফুল আলম নামে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করেন। এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক আগে শহরের কুষ্টিয়া সড়কে দিঘীর পাড়ায় আবদুল মতিন নামের একজনের কাছে থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তারা অফিস করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। হঠাৎ দুয়েকদিন আসা-যাওয়া করে। গত রোববার গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার দিনে তারা আসবাবপত্র নিয়ে উধাও হয়েছে। তবে তাদের কখনও কেউ দেখতে পাননি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পরে বাড়ি মালিক এনজিওর নামে লাগানো সাইনবোর্ডটি খুলে দেন। নতুন মদনাডাঙ্গা গ্রামের সীমা খাতুন জানান, তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে তার থেকে ১৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। গত রোববার তার ঋণের তিন লাখ টাকা দেওয়া কথা। কিন্তু সকালে অফিসে এসে দেখতে পান অফিসে কেউ নেই। আসবাবপত্রও নেই। তিনি বলেন, তার স্বামীকে গোপন করে তিনি এ টাকা দিয়েছেন। তার স্বামী জানতে পারলে তাকে বাড়িতে উঠতে দেবে না। এখন পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। একই গ্রামের হেলাল জানান, তার সঙ্গেও তিন লাখ ঋণ নেওয়ার কথা বলে ১৮ হাজার নেওয়া হয়েছে। নাজমা খাতুন, হাফিদজুল ইসলামসহ মদনাডাঙ্গা গ্রাম থেকে ৯ জন দিয়েছেন এক লাখ টাকা। এ সময় তাদের কাছে সংস্থাটি পাসবই দেয় বলে জানান তারা। কুতুরপুর গ্রামের সাজেদা খাতুন এক লাখ ঋণ পাবেন বলে দিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। মর্জিনা খাতুন দিয়েছেন ৫ হাজার, হিরা খাতুন ৭ হাজার, আনোয়ার হোসেন ৭ হাজার টাকা। শ্যামপুরের ভ্যান চালক মাসুম হোসেন দুই লাখ টাকা ঋণ পাবেন বলে দিয়েছেন ১২ হাজার। ঋণ নিতে এসে অফিস উধাওয়ের খবর পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ছাড়াও সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে গ্রাহকরা এসে অফিসে কাউকে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সেখানে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রাহকদের শান্ত করেন। এনজিও কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি গ্রাহকদের আশ্বাস দেন। তবে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কাজী কাদের ফজলে রাব্বী বলেন, সিডার নামের কোনো এনজিওর অনুমোদন মেহেরপুরে নেই। এক ধরনের প্রতারকরা নাম সর্বস্ব এনজিও খুলে মানুষের কাছে থেকে টাকা লগ্নি করে উধাও হচ্ছে। এদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। তাদের কাছে টাকা দেওয়ার আগে অবশ্যই তাদের কাগজপত্র যাচাই করে নিতে হবে। এ ছাড়া জেলা সমবায় অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিডার ফাউন্ডেশন নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তাদের দপ্তরেও নেই। বাড়ির মালিক আবদুল মতিন জানান, কয়েক দিন আগে সিডার এনজিও সংস্থার মেহেরপুর শাখার ম্যানেজার হিসেবে আশরাফুল আলম নামে একজন ১৪ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে বাসা ভাড়া নেন। ১০ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও শনিবার থেকে এনজিও ম্যানেজারের ফোন বন্ধ পান। পরে বাড়ির সামনে গ্রাহকদের ভিড় জমতে দেখেন। বাসা ভাড়ার সময় একটি জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করেন তারা।