১২:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

রংপুরে আত্মসমর্পণকারী অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ফিরেছে পুরনো পেশায়

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৫৪৫ বার পড়া হয়েছে

 

মমিনুর রহমান, রংপুর :
রংপুরে আত্মসমর্পণকারী অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী পুরনো পেশায় আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রায় চার বছর আগের কথা, ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে মাদক ব্যবসায়ীদের সাধারণ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ প্রশাসনের ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এই বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ৩ হাজার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গিকার করেন। এদের কেউ কেউ অঙ্গিকার রক্ষা করে মাদক ছেড়ে অন্য ব্যবসায় গেলেও অনেকেই পুরনো ব্যবসা ছাড়তে পারেনি। ফলে মাদকের নিরাপদ রুটগুলো নিরাপদই রয়ে গেছে এবং কিছু এলাকায় রুট পরিবর্তন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । ২০১৮ সালের প্রথম দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন হওয়ার আগে রংপুরের হারাগাছ ছিল মাদক কেনা বেচার একটি বৃহত্তর রুট। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল আরোহী হারাগাছে যেত মাদক সেবনের জন্য। এখানে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
সে সময় পুলিশ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে হারাগাছে মাদক ব্যবসায় ভাটা পড়ে। ২০১৮ সেপ্টেম্বরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করা হলে হারাগাছ মেট্রোপলিটনের অধীনে চলে আসে। হারাগাছে আগের মত রমরমা মাদক ব্যবসা না থাকলেও চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। ওইসব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী এতই বেপরোয়া যে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হত্যা করতেও ছাড়ছে না। গত শুক্রবার রাতে রংপুরের হারাগাছে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে পুলিশের এএসআই পিয়ারুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় সচেতন মহল মনে করছেন মাদকের ভয়াবহতা বন্ধ করতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হতে পারে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি এন্ড মিডিয়া ) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাগাড়সহ কোনো স্থানেই ময়লা পোড়ানো যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

রংপুরে আত্মসমর্পণকারী অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী ফিরেছে পুরনো পেশায়

আপডেট সময়ঃ ১০:১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

 

মমিনুর রহমান, রংপুর :
রংপুরে আত্মসমর্পণকারী অধিকাংশ মাদক ব্যবসায়ী পুরনো পেশায় আত্মনিয়োগ করেছেন। প্রায় চার বছর আগের কথা, ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগে মাদক ব্যবসায়ীদের সাধারণ জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। পুলিশ প্রশাসনের ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন সময়ে এই বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ৩ হাজার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অঙ্গিকার করেন। এদের কেউ কেউ অঙ্গিকার রক্ষা করে মাদক ছেড়ে অন্য ব্যবসায় গেলেও অনেকেই পুরনো ব্যবসা ছাড়তে পারেনি। ফলে মাদকের নিরাপদ রুটগুলো নিরাপদই রয়ে গেছে এবং কিছু এলাকায় রুট পরিবর্তন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । ২০১৮ সালের প্রথম দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন হওয়ার আগে রংপুরের হারাগাছ ছিল মাদক কেনা বেচার একটি বৃহত্তর রুট। প্রতিদিন শত শত মোটরসাইকেল আরোহী হারাগাছে যেত মাদক সেবনের জন্য। এখানে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
সে সময় পুলিশ বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ফলে হারাগাছে মাদক ব্যবসায় ভাটা পড়ে। ২০১৮ সেপ্টেম্বরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করা হলে হারাগাছ মেট্রোপলিটনের অধীনে চলে আসে। হারাগাছে আগের মত রমরমা মাদক ব্যবসা না থাকলেও চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। ওইসব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবী এতই বেপরোয়া যে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হত্যা করতেও ছাড়ছে না। গত শুক্রবার রাতে রংপুরের হারাগাছে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে পুলিশের এএসআই পিয়ারুল ইসলাম নিহত হন। এ ঘটনায় সচেতন মহল মনে করছেন মাদকের ভয়াবহতা বন্ধ করতে না পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হতে পারে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি এন্ড মিডিয়া ) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।