০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

রেলকর্মীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে: অর্থ উপদেষ্টা

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রেলের কর্মীদের ওভারটাইমের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন অন্যান্য দাবি-দাওয়াগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখবে। আমার এখানে যদি আসে যৌক্তিক কিছু থাকলে, অর্থ মন্ত্রণালয় মানা করবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মানবিক কারণে বা মানুষের চাকরি ব্যাপারে সমস্যা হলে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রেলওয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, রেলের বরাদ্দের জন্য আপনার মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এখন আপনি যেটা করবেন সেটাই। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রেলের কর্মচারীদের কিছু দাবি ছিল, আমরা বেশ কয়েকদিন আগেই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছি। তারপরও তারা কেন এটা করেছে সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন, প্রত্যেকের একাধিক দাবি থাকে। তারা বলেছে ওভারটাইম এলাও করতে হবে। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা করেছি। যেভাবে দেওয়ার আমরা দিয়েছি। আমার মনে হয় মোটামুটি যেটা যৌক্তিক ছিল সে সুবিধা আমরা দিয়েছি। উপদেষ্টা বলেন, এখন অন্যান্য দাবি-দাওয়াগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখবে। আমার এখানে যদি আসে যৌক্তিক কিছু থাকলে, অর্থ মন্ত্রণালয় মানা করবে না। মানবিক কারণে বা মানুষের চাকরি ব্যাপারে সমস্যা হলে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে কত বরাদ্দ দিয়েছেন, নতুন করে কত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন যেগুলো করেছে, অন্য লোকদের একই দাবি আছে। অতএব রেলের জন্য আলাদা করে আমি বলব যে, তোমাদের জন্য আমি দেখলাম..। ওরা যেটা বলেছে ওভারটাইমের ইস্যু এসেছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। এখন যদি বলে পেনশন গ্র্যাচুইটি যোগ করতে হবে। তো অন্যান্য সংস্থার তো আরও অনেক দাবি আছে। এখন যেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে রেল বন্ধ করে দিয়েছে, এটির কি হবে সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটা রেলওয়ে উপদেষ্টা বলবেন। বৈঠকের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈঠকে চাল, চিনি, মসুর ডাল, সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জিনিসগুলো যাতে রোজার আগে বা রোজা চলাকালীন, এমনকি রোজার শেষেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তিনি বলেন, এখানে বাজারের সাপ্লায়ের অন্য বিষয় আছে। আমরা আনার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সেখানে মার্কেট মনিটরিংয়ের ব্যাপার আছে। শুধু আনলেই হবে না। সময় মতো ঠিকভাবে যায় কিনা দেখতে হবে।
মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা পাবেন কি পাবেন না সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সরকারি চাকরিজীবীরা কি মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে এখন আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তাহলে কি মহার্ঘ ভাতার বিষয় থেকে সরকার সরে আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা কে দিল? কে দিয়েছে ঘোষণা আমি জানি না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আসলে তারপরে সিদ্ধান্ত নেব দেবো কি দেবো না। তারপর ঘোষণা দেবো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাবনা গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা তো এখনো ঘোষণা দেয়নি। আমিতো এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। সম্প্রতি সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে মূল বেতনের সর্বনি¤œ ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার খসড়া প্রস্তুত করেছিল অর্থ বিভাগ। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীর বাড়তি ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বাদ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। অর্থ বিভাগের হিসাবে এটি বাস্তবায়নে এক অর্থবছরে বাড়তি খরচ হবে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের খসড়া প্রস্তাবে ব্যয় কিছুটা কমাতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে পাঁচ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকার প্রয়োজন ছিল। আর ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় আরেকটু বেড়ে দাঁড়াত প্রায় ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ এ পরিমাণ টাকার সংস্থান করে সংশোধিত বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করে।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

রেলকর্মীদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রেলের কর্মীদের ওভারটাইমের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন অন্যান্য দাবি-দাওয়াগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখবে। আমার এখানে যদি আসে যৌক্তিক কিছু থাকলে, অর্থ মন্ত্রণালয় মানা করবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মানবিক কারণে বা মানুষের চাকরি ব্যাপারে সমস্যা হলে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রেলওয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, রেলের বরাদ্দের জন্য আপনার মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এখন আপনি যেটা করবেন সেটাই। সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রেলের কর্মচারীদের কিছু দাবি ছিল, আমরা বেশ কয়েকদিন আগেই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছি। তারপরও তারা কেন এটা করেছে সেটা তাদের ব্যাপার। তিনি বলেন, প্রত্যেকের একাধিক দাবি থাকে। তারা বলেছে ওভারটাইম এলাও করতে হবে। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা করেছি। যেভাবে দেওয়ার আমরা দিয়েছি। আমার মনে হয় মোটামুটি যেটা যৌক্তিক ছিল সে সুবিধা আমরা দিয়েছি। উপদেষ্টা বলেন, এখন অন্যান্য দাবি-দাওয়াগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দেখবে। আমার এখানে যদি আসে যৌক্তিক কিছু থাকলে, অর্থ মন্ত্রণালয় মানা করবে না। মানবিক কারণে বা মানুষের চাকরি ব্যাপারে সমস্যা হলে, সে বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে কত বরাদ্দ দিয়েছেন, নতুন করে কত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নতুন যেগুলো করেছে, অন্য লোকদের একই দাবি আছে। অতএব রেলের জন্য আলাদা করে আমি বলব যে, তোমাদের জন্য আমি দেখলাম..। ওরা যেটা বলেছে ওভারটাইমের ইস্যু এসেছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। এখন যদি বলে পেনশন গ্র্যাচুইটি যোগ করতে হবে। তো অন্যান্য সংস্থার তো আরও অনেক দাবি আছে। এখন যেসব দাবি-দাওয়া নিয়ে রেল বন্ধ করে দিয়েছে, এটির কি হবে সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটা রেলওয়ে উপদেষ্টা বলবেন। বৈঠকের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈঠকে চাল, চিনি, মসুর ডাল, সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জিনিসগুলো যাতে রোজার আগে বা রোজা চলাকালীন, এমনকি রোজার শেষেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। তিনি বলেন, এখানে বাজারের সাপ্লায়ের অন্য বিষয় আছে। আমরা আনার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সেখানে মার্কেট মনিটরিংয়ের ব্যাপার আছে। শুধু আনলেই হবে না। সময় মতো ঠিকভাবে যায় কিনা দেখতে হবে।
মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মহার্ঘ ভাতা পাবেন কি পাবেন না সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সরকারি চাকরিজীবীরা কি মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে এখন আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। তাহলে কি মহার্ঘ ভাতার বিষয় থেকে সরকার সরে আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা কে দিল? কে দিয়েছে ঘোষণা আমি জানি না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আসলে তারপরে সিদ্ধান্ত নেব দেবো কি দেবো না। তারপর ঘোষণা দেবো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাবনা গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা তো এখনো ঘোষণা দেয়নি। আমিতো এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। সম্প্রতি সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে মূল বেতনের সর্বনি¤œ ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার খসড়া প্রস্তুত করেছিল অর্থ বিভাগ। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীর বাড়তি ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বাদ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। অর্থ বিভাগের হিসাবে এটি বাস্তবায়নে এক অর্থবছরে বাড়তি খরচ হবে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের খসড়া প্রস্তাবে ব্যয় কিছুটা কমাতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে পাঁচ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকার প্রয়োজন ছিল। আর ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় আরেকটু বেড়ে দাঁড়াত প্রায় ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ এ পরিমাণ টাকার সংস্থান করে সংশোধিত বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করে।