০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

লালমনিরহাটে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা: গোলাম মর্তুজার জামিন বহাল

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:০৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৫৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোলাম মর্তুজা নামের এক ব্যক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে ওই ব্যক্তির জামিন বহাল থাকছে। জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। গোলাম মর্তুজার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. হাসান রাজিব প্রধান। শহিদুন্নবী জুয়েল গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে যান। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। কিন্তু কোরআন অবমাননার অভিযোগে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ টেনে পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এ ঘটনায় জাতীয় মানবধিকার কমিশনের তদন্ত দল গত ১ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, মসজিদে কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পায়নি। নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। চাকরিচ্যুত হওয়ায় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

লালমনিরহাটে পিটিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা: গোলাম মর্তুজার জামিন বহাল

আপডেট সময়ঃ ১০:০৭:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোলাম মর্তুজা নামের এক ব্যক্তিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে ওই ব্যক্তির জামিন বহাল থাকছে। জামিন বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। গোলাম মর্তুজার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. হাসান রাজিব প্রধান। শহিদুন্নবী জুয়েল গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিকেলে সুলতান রুবায়াত সুমন নামে এক সঙ্গীসহ বুড়িমারী বেড়াতে যান। বিকেলে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। কিন্তু কোরআন অবমাননার অভিযোগে সন্দেহবশত জুয়েল ও সুলতান রুবায়াত সুমনকে পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং ওসি বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে প্রশাসনের কাছ থেকে জুয়েলকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ টেনে পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এ ঘটনায় জাতীয় মানবধিকার কমিশনের তদন্ত দল গত ১ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানায়, মসজিদে কোরআন অবমাননার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও কোরআন অবমাননার সত্যতা পায়নি। নিহত শহিদুন্নবী জুয়েল রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গ্রন্থাগারিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। চাকরিচ্যুত হওয়ায় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।