ঢাকা, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ই-পেপার

শেষ বলে ছক্কায় সিলেটের অবিস্মরণীয় জয়

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৪১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৩ বার পড়া হয়েছে

ইশ, স্কোরটা যদি আরেকটু বড় করতে পারত ব্যাটার তাহলে ম্যাচের ফলটা অন্যরকম হতে পারত। বিপিএল থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর হয়তো এমন দীর্ঘশ্বাসই নিচ্ছেন রংপুর রাইডার্সের বোলাররা।

তবে শেষ ওভারে ম্যাচটা জমিয়ে দিয়েছিলেন ফাহিম আশরাফ। কিন্তু শেষ বলে দুর্দান্ত বোলিংটার পূর্ণতা দিতে পারলেন না পাকিস্তানের পেসার।

১ বলে ৬ রানের সমীকরণের সময় কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক বনে যান ক্রিস ওকস। ইংল্যান্ড পেসারের হাঁকানো শটটি বাউন্ডারি ছাড়া হতেই দুই ডাগআউটে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
সিলেট টাইটানসের ডাগআউট থেকে পাগলাটে দৌড়ে মাঠে ঢুকে উদযাপনে মাতেন মেহেদী হাসান মিরাজ-পারভেজ হোসেন ইমনরা। নায়ক ওকস শুধু মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে জানান দিলেন বন্দরে পৌঁছে গেছে জাহাজ।

বিপরীতে মুঠো থেকে জয় হারানোর হতাশায় নিমজ্জিত হয় রংপুরের ডাগআউট। কয়েকজন ক্রিকেটার তো মাঠেই শুয়ে পড়লেন।
১১২ রান তাড়া করতে নেমে সহজ জয় দেখছিল সিলেট। তবে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ দিতে রাজি ছিলেন না রংপুরের বোলাররা।

তাই তো শেষ ওভারে ম্যাচ নিয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানারা। কিন্তু শেষ ওভারে ৬ বলে ৯ সমীকরণে দারুণ বোলিং করেও পরাজিত দলেই থাকলেন ফাহিম। প্রথম বলে ডাবল দেওয়ার পর টানা দুই বল ডট দেন তিনি।
চতুর্থ বলে মঈন আলীকে আউট করে রংপুরকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন ফাহিম। কিন্তু শেষ বলে ওকসকে আর বিট করতে পারলেন না পাকিস্তানি পেসার।

তাতে সিলেটের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ওকস।
ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ১১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারায় সিলেট। সেখান থেকে স্যাম বিলিংসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে সহজ জয় এনে দেওয়ার পথে ছিলেন মিরাজ।

তবে ৩ রানের ব্যবধানে দুজনকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরে রংপুর। কিন্তু শেষে ফলটা আর নিজেদের পক্ষে পাওয়া হলো না। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন বিলিংস। রংপুরের হয়ে পাঁচ জন বোলারই অন্তত একটি করে উইকেট পেলেও সর্বোচ্চ ২ টি করে নিয়েছেন মুস্তাফিজ ও আলিস আল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং নেমে বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। দলীয় ৬৩ রানেই ৫ ‍উইকেট হারিয়ে বসে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নরা। পরে এক শর ওপরে দলকে স্কোর এনে দেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। মাহমুদ উল্লাহর সর্বোচ্চ ৩৩ রানের বিপরীতে ৩০ রান করেন খুশদিল। ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন পেসার খালেদ আহমেদ।

এবারেরসহ বিপিএলের টানা ৪ আসরে শেষ চারে থামতে হলো রংপুরকে। অন্যদিকে ফাইনালে খেলতে হলে আরেকটি ধাপ টপকাতে হবে সিলেটকে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে তা আজ রাতেই নিশ্চিত হবে। চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যেকার প্রথম কোয়ালিফায়ারে যে দল হারবে তাদের বিপক্ষে খেলবে সিলেট।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শেষ বলে ছক্কায় সিলেটের অবিস্মরণীয় জয়

আপডেট সময়ঃ ০৫:৪১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ইশ, স্কোরটা যদি আরেকটু বড় করতে পারত ব্যাটার তাহলে ম্যাচের ফলটা অন্যরকম হতে পারত। বিপিএল থেকে বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর হয়তো এমন দীর্ঘশ্বাসই নিচ্ছেন রংপুর রাইডার্সের বোলাররা।

তবে শেষ ওভারে ম্যাচটা জমিয়ে দিয়েছিলেন ফাহিম আশরাফ। কিন্তু শেষ বলে দুর্দান্ত বোলিংটার পূর্ণতা দিতে পারলেন না পাকিস্তানের পেসার।

১ বলে ৬ রানের সমীকরণের সময় কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে নায়ক বনে যান ক্রিস ওকস। ইংল্যান্ড পেসারের হাঁকানো শটটি বাউন্ডারি ছাড়া হতেই দুই ডাগআউটে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
সিলেট টাইটানসের ডাগআউট থেকে পাগলাটে দৌড়ে মাঠে ঢুকে উদযাপনে মাতেন মেহেদী হাসান মিরাজ-পারভেজ হোসেন ইমনরা। নায়ক ওকস শুধু মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে জানান দিলেন বন্দরে পৌঁছে গেছে জাহাজ।

বিপরীতে মুঠো থেকে জয় হারানোর হতাশায় নিমজ্জিত হয় রংপুরের ডাগআউট। কয়েকজন ক্রিকেটার তো মাঠেই শুয়ে পড়লেন।
১১২ রান তাড়া করতে নেমে সহজ জয় দেখছিল সিলেট। তবে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী’ দিতে রাজি ছিলেন না রংপুরের বোলাররা।

তাই তো শেষ ওভারে ম্যাচ নিয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানারা। কিন্তু শেষ ওভারে ৬ বলে ৯ সমীকরণে দারুণ বোলিং করেও পরাজিত দলেই থাকলেন ফাহিম। প্রথম বলে ডাবল দেওয়ার পর টানা দুই বল ডট দেন তিনি।
চতুর্থ বলে মঈন আলীকে আউট করে রংপুরকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন ফাহিম। কিন্তু শেষ বলে ওকসকে আর বিট করতে পারলেন না পাকিস্তানি পেসার।

তাতে সিলেটের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলেন ওকস।
ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ১১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারায় সিলেট। সেখান থেকে স্যাম বিলিংসের সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে সহজ জয় এনে দেওয়ার পথে ছিলেন মিরাজ।

তবে ৩ রানের ব্যবধানে দুজনকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফেরে রংপুর। কিন্তু শেষে ফলটা আর নিজেদের পক্ষে পাওয়া হলো না। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন বিলিংস। রংপুরের হয়ে পাঁচ জন বোলারই অন্তত একটি করে উইকেট পেলেও সর্বোচ্চ ২ টি করে নিয়েছেন মুস্তাফিজ ও আলিস আল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং নেমে বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। দলীয় ৬৩ রানেই ৫ ‍উইকেট হারিয়ে বসে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নরা। পরে এক শর ওপরে দলকে স্কোর এনে দেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। মাহমুদ উল্লাহর সর্বোচ্চ ৩৩ রানের বিপরীতে ৩০ রান করেন খুশদিল। ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন পেসার খালেদ আহমেদ।

এবারেরসহ বিপিএলের টানা ৪ আসরে শেষ চারে থামতে হলো রংপুরকে। অন্যদিকে ফাইনালে খেলতে হলে আরেকটি ধাপ টপকাতে হবে সিলেটকে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে তা আজ রাতেই নিশ্চিত হবে। চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যেকার প্রথম কোয়ালিফায়ারে যে দল হারবে তাদের বিপক্ষে খেলবে সিলেট।