সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে : ডয়চে ভেলেকে তারেক রহমান
- আপডেট সময়ঃ ১২:০৫:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১২ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসের কথা বললেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি৷
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম–খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেছেন তিনি৷
ডয়েচে ভেলের সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম বিএনপি প্রধানের কাছে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চান।
বিএনপি এর আগেও জাতীয় সরকারের বিষয় নাকচ করে দিয়েছিল কিন্তু জামায়াত বারবারই বলেছে, সুযোগ পেলে তারা বিএনপির সঙ্গে এখনও ঐক্যের সরকার করতে রাজি এবং তারা বিএনপিকে সে আমন্ত্রণও জানাবে৷
সেক্ষেত্রে তারেক রহমান সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন কিনা, এমন প্রশ্ন ছিল তার কাছে।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা কনফিডেন্ট যে, ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাবো৷ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হবো – এককভাবে৷ সেক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে৷ কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয় তাদের সেক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে৷ সবাই সরকারে চলে আসলে কেমন করে দেশ চলবে?’
১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান৷
নির্বাচনের ডামাডোলে মায়ের মৃত্যুর কষ্টটুকুও ঠিকমতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাননি বলেও কিছুটা আক্ষেপ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমশ অবনতির প্রসঙ্গ তুলে ডয়েচে ভেলে জানতে চায়, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের অবস্থান কী হবে?
জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী, সেটা যে কোনো দেশের সঙ্গেই হোক না কেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে৷ কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে৷ কাজেই যেকোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সাথে যাবে না, সেক্ষেত্রে যে কারো সাথেই আমাদের এরকম দূরত্ব হতে পারে৷’
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একা বসবাস করতে পারব না৷ গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে৷ কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করবে৷ আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরিবাকরি বিভিন্ন কারণে৷ কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে৷’
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে দেশে নারী ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে জানিয়ে ডয়েচে ভেলে এ বিষয়ে তারেক রহমানের কোনো বার্তা আছে কিনা জানতে চায়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে নয়৷ এটি বাংলাদেশে কিছু কিছু অন্য রাজনৈতিক দল আছে যাদের বিভিন্ন কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বিভিন্ন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে মানুষের মাঝে বা নারীদের মাঝে৷ আমরা সবসময়ই নারীদের এম্পাওয়ারমেন্ট এর কথা বলেছি৷ কারণ আমরা যত যাই পরিকল্পনাই করি না কেন, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হয়ে থাকেন, তাদেরকে আলাদা রেখে আমরা দেশকে সামনে নিতে পারব না৷ আমাদের সকলকে নিয়েই নিতে হবে৷’
‘সেজন্যই আমরা তাদের শিক্ষার আরও এমন ব্যবস্থা করতে চেয়েছি যাতে তারা আরও উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে সহজে৷ আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাইছি যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে৷ অর্থাৎ তাদের কনফিডেন্স আমরা আরও স্ট্রং করতে চাইছি৷ তাদের আত্মবিশ্বাসটা আমরা দৃঢ় করতে চাইছি৷’
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা দেশে এমন শিল্পও নিয়ে আসতে চাই যেখানে নারীরা তাদের কর্মসংস্থানে বেশি হবে৷ কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন, সেই জন্য কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে৷ আমরা এটাও বলেছি যে, নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে আমরা নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস ইন্ট্রোডিউস করব, যেটা শুধু নারীরাই ব্যবহার করবেন এবং সেই বাস পরিচালনাও করবেন নারীরা৷
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং কোন কোন বিশেষজ্ঞ এরকম মত দিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ অংশ না নেয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না৷ এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?’
জবাবে তিনি বলেণ, ‘দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি৷ আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে৷ কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না৷ আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ অগাস্ট যার উদাহরণ।’


















