নিজস্ব প্রতিবেদক :
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সরকারি হাসপাতালগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশের সব সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবামূলক কাজের মান বাড়াতেই হবে। স্বাস্থ্যখাতে বাজেট যতটুকুই বাড়ুক, বাড়ানো হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পাবেন বলেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও স্বাস্থ্যখাতের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আজ সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে দেশের সব জেলার সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত কর্মচারীদের নিজ নিজ কাজে অবহেলার জন্যই হাসপাতাল পরিপূর্ণ পরিচ্ছন্ন হচ্ছে না। রোগীদের সঙ্গে থাকা লোকদের ভিড় থামানো যাচ্ছে না, দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো যাচ্ছে না। এর ফলে হাসপাতালের সেবার মানও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নেওয়া যাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রতিটি রোগীর সঙ্গে তিন থেকে পাঁচজন করে ভিজিটর দিনের বেলা এমনকি রাতেও হাসপাতালে অবস্থান করে থাকেন। এতে হাসপাতালে মূল রোগীদের সেবা পাওয়া বিঘিœত হয়। এর মানে হচ্ছে, হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী ও নার্সদের ঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। এজন্যই রোগীরা সঙ্গে করে একাধিক অ্যাটেন্ডেন্টস আনছেন ও রাখছেন। সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ কাক্সিক্ষত সরকারি সেবা পাবে না, এটা চলতে পারে না। হাসপাতালে যার যা ডিউটি তাকে সেটিই করতে হবে। তা না হলে নির্দিষ্ট হাসপাতালের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগী কম বা বেশি যাই থাকুক হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতেই হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের সব সরকারি হাসপাতালে সেবামূলক কাজের মান কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, কীভাবে হাসপাতালগুলো মানসম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, কর্মচারী ও নার্সদের ডিউটি বাড়িয়ে দিয়ে কীভাবে রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত ভিজিটর কমানো যায়, নার্স ও ডাক্তারদের চলমান ডিউটি কতটা কার্যকর হচ্ছে ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় বিষয় তুলে ধরে কর্মশালায় উপস্থিত ও অনলাইনে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। দেশের মানুষের সেবার মান বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন সারাদেশে অন্তত ১০ লাখ সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন। ১০ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য সরকারি হাসপাতালও করা হয়েছে জেলা শহর থেকে একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ে। লোকবল আমাদের ঘাটতি আছে ঠিকই, তবে আমাদের যতটুকু সম্পদ আছে সেটি দিয়েই দেশের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। এজন্যই যারা যারা হাসপাতালে কর্মরত আছেন তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। দেশের মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি অভিযোগও নিয়মিতই করছে। এ অভিযোগগুলো সব সত্যি না হলেও কিছু তো সত্যি। সরকারি সেবা পাওয়ার ঘাটতি নিয়ে মানুষের অভিযোগগুলোকে আমাদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মুহ. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) নাজমুল হক খান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রশাসন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সিভিল সার্জন্স ও হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়করা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষঃ
স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
দৈনিক আইন বার্তা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ জুলাই ২০২৩
- ১৭২ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ