০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

হে বন্ধু ওপারে ভালো থাকিস

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:২৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • ১৯৮ বার পড়া হয়েছে

এড. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল :
এ এফ এম গোলাম ফাত্তাহ, গত ১৪ ফেব্রুয়ারী আমাদের ছেড়ে মহান আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন), আমরা ফাত্তা বলেই ডাকতাম, আমি ৯৪-৯৫ ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নির্বাহী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করা কালীন সময়ে পদাধিকার বলে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
ফাত্তাহ ৯৫-৯৫ সদস্য পদে নির্বাচন করছে, ওর ব্যালট নং -১, সারারাত ব্যাচেলর নং -১ বলে কল দিলাম, সে প্রথম হল, সেই থেকে ঘনিষ্ঠতা।
ইবনে আজিজ মোঃ নুরুল হুদা, ফাত্তাহ, মাহাফুজ, শেখ রফিক, বাবুল,ফেরদৌস,হিরন, আনিস, কামাল,মাসুম বিল্লাহ, ফারুক, রুহুল আমিন, মাহাবুব, ডি এ জি আমিন উদ্দিন মানিক সহ আরও অনেকে, আমাদের সকলের এই ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য আমরা ইউনাইটেড ল’ইয়ারস এসোসিয়েশন গঠন করি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির দুপুরের খাওয়ার মাঝে অনেক দুঃষ্টমীতে সবাই মেতে উঠি। ফাত্তার হাত সর্বশেষ আব্দুল জলিল ভাই এবং ফারুক আমাদের সদস্য হন। আজ তাঁর স্মৃতির স্বাক্ষর হিসাবে যেন তাদের এই সংযোজন। ফাত্তার সাথে গতকাল শেষ বিকেলে আমার, হুদা,মাহফুজ, শিহাব,ফারুক, সাইফুল ও গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ সর্বশেষ আলাপচারিত হয়।
ফাত্তাহ মানেই সাদা মনের মানুষ, সদালাপী, মিষ্টিভাষী, হাস্যরসে মাতিয়ে রাখা একজন বন্ধুবৎসল প্রানবন্ত দিলখোলা মানুষ। সে পরবর্তী সময়ে সে নিষ্ঠার সাথে সহ-সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে। কিছুদিন ভার প্রাপ্ত পাঠাগা সম্পাদক এবং সর্বশেষ দুদকের পি পি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মত সকল গুণাবলী তাঁর মধ্যে ছিল আমি বলব ঢাকা আইনজীবী সমিতি তাঁর সেবা থেকে বঞ্চিত হল।
জানাজার সময় অনেককেই নীরবে কাঁদতে দেখেছি, বন্ধু আমিনুল গনি টিটু, ফারুক, পলাশ এবং জলিল ভাইয়ের কান্না সকলের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে। বলতে হচ্ছে “যেতে নাহি দিব, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায় “।
পরিশেষে বলব, হে বন্ধু বিদায়। ওপারে ভালো থাকিস। হে আল্লাহ তুমি আমাদের বন্ধুকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব কর। আমিন।
সাধারণ সম্পাদক, ইউনাইটেড ল’ইয়ারস এসোসিয়েশন।
সাবেক সহ-সভাপতি
সাবেক সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক
সাবেক নির্বাহী সদস্য
ঢাকা আইনজীবী সমিতি

একজন গোলাম ফাত্তাহ্র চির বিদায়
ড. ইবনে আজিজ মোঃ নুরুল হুদা :
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক এজিএস এ, এফ, এম, গোলাম ফাত্তাহ্ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৩ রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯ টায় আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।
ফাত্তাহ্ আমাদের অত্যন্ত কাছের বন্ধু। ঢাকা বারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। একজন মানুষের নেতৃত্ব দেবার জন্য যে সব গুনাবলীর প্রয়োজন, তার সব টুকু গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও নমিনেশন না পাবার কারণে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার অপূর্ণতা নিয়ে চলে গেল।
ফাত্তাহ্ ছিল মিষ্টভাসির সজ্জন, আপাদমস্তক ভালো মানুষ। তার পদচারনাই ছিল এমন ধরনের যে, তাকে না দেখেই দূর থেকে বুঝা যেত সে আসছে। কখনো কেউ বলতে পারবে না সে কখনো কারো সাথে মুখ গম্ভীর করে কথা বলছে, ঝগড়া-ফাসাদ তো অনেক দূরের কথা।
আমরা যারা ঢাকা বারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন কমিশনে কাজ করেছি তার মধ্যে ফাত্তাহর উপস্থিতি ছিল স্মরণে রাখার মত। আমরা সাবেক নির্বাচন কমিশনের সদস্য বৃন্দ ২০০৩ সনের ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখে “ইউনাইটেড ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন” গঠন করি, এই কমিটির সাথে সে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিল।
ফাত্তাহ্ চলে গেছে রেখে গেছে হাজারো স্মৃতি। তার চলে যাওয়াটা অসম্ভব বেদনার। বিধাতার বিধান কে করিবে খন্ডন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইলো সমবেদনা আর মহান আল্লাহ যেন আমাদের বন্ধু কে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এই হোক আমাদের সকলের দোয়া।

চলে গেল ফাত্তাহ্ !
এড. আমিনুল গনি টিটু :
কাল যে রেবতী ম্যানশনের সামনে দেখা হলো কই
বললে না তো চলে যাবে?
ঠোঁট জুড়ে তো সেই মিষ্টি হাসি
বিষাদের ছায়া দেখিনি চোখে
সামান্য ইঙ্গিত কি ছিল
না মনে পড়ছে না
তবে কেন পাখি ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙা চোখে
দেখতে হবে তোর চলে যাওয়ার সংবাদ
বারবার মনে হচ্ছে
কি এমন তাড়া যে তোকে সাত তাড়াতাড়ি যেতে হবে প্রতি মুহূর্তের রসিকতা ছেড়ে
মাহমুদ এর চেম্বারে কে আর জমিয়ে রাখবে আড্ডা
কে আর ধূম্রশলাকাকে বলবে ফর্মালিন মুক্ত নির্ভেজাল
সকল ব্যস্ততা ফেলে কে ছুটে আসবে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে
এমন সতেজ নিখাদ বন্ধু বিস্তর আয়োজন ফেলে
কোন শূন্যে মিলিয়ে গেল
তুই এখন দেখা না দেখার উর্ধ্বে কর্পূর ধূপকাঠি ধোঁয়া
প্রিয়ভাষী বন্ধু এখন নিথর শোকের স্মারক

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

হে বন্ধু ওপারে ভালো থাকিস

আপডেট সময়ঃ ০৯:২৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

এড. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন দুলাল :
এ এফ এম গোলাম ফাত্তাহ, গত ১৪ ফেব্রুয়ারী আমাদের ছেড়ে মহান আল্লাহর ডাকে সারা দিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন), আমরা ফাত্তা বলেই ডাকতাম, আমি ৯৪-৯৫ ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নির্বাহী সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করা কালীন সময়ে পদাধিকার বলে নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।
ফাত্তাহ ৯৫-৯৫ সদস্য পদে নির্বাচন করছে, ওর ব্যালট নং -১, সারারাত ব্যাচেলর নং -১ বলে কল দিলাম, সে প্রথম হল, সেই থেকে ঘনিষ্ঠতা।
ইবনে আজিজ মোঃ নুরুল হুদা, ফাত্তাহ, মাহাফুজ, শেখ রফিক, বাবুল,ফেরদৌস,হিরন, আনিস, কামাল,মাসুম বিল্লাহ, ফারুক, রুহুল আমিন, মাহাবুব, ডি এ জি আমিন উদ্দিন মানিক সহ আরও অনেকে, আমাদের সকলের এই ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখার জন্য আমরা ইউনাইটেড ল’ইয়ারস এসোসিয়েশন গঠন করি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সংগঠনটির দুপুরের খাওয়ার মাঝে অনেক দুঃষ্টমীতে সবাই মেতে উঠি। ফাত্তার হাত সর্বশেষ আব্দুল জলিল ভাই এবং ফারুক আমাদের সদস্য হন। আজ তাঁর স্মৃতির স্বাক্ষর হিসাবে যেন তাদের এই সংযোজন। ফাত্তার সাথে গতকাল শেষ বিকেলে আমার, হুদা,মাহফুজ, শিহাব,ফারুক, সাইফুল ও গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ সর্বশেষ আলাপচারিত হয়।
ফাত্তাহ মানেই সাদা মনের মানুষ, সদালাপী, মিষ্টিভাষী, হাস্যরসে মাতিয়ে রাখা একজন বন্ধুবৎসল প্রানবন্ত দিলখোলা মানুষ। সে পরবর্তী সময়ে সে নিষ্ঠার সাথে সহ-সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে। কিছুদিন ভার প্রাপ্ত পাঠাগা সম্পাদক এবং সর্বশেষ দুদকের পি পি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মত সকল গুণাবলী তাঁর মধ্যে ছিল আমি বলব ঢাকা আইনজীবী সমিতি তাঁর সেবা থেকে বঞ্চিত হল।
জানাজার সময় অনেককেই নীরবে কাঁদতে দেখেছি, বন্ধু আমিনুল গনি টিটু, ফারুক, পলাশ এবং জলিল ভাইয়ের কান্না সকলের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে। বলতে হচ্ছে “যেতে নাহি দিব, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায় “।
পরিশেষে বলব, হে বন্ধু বিদায়। ওপারে ভালো থাকিস। হে আল্লাহ তুমি আমাদের বন্ধুকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব কর। আমিন।
সাধারণ সম্পাদক, ইউনাইটেড ল’ইয়ারস এসোসিয়েশন।
সাবেক সহ-সভাপতি
সাবেক সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক
সাবেক নির্বাহী সদস্য
ঢাকা আইনজীবী সমিতি

একজন গোলাম ফাত্তাহ্র চির বিদায়
ড. ইবনে আজিজ মোঃ নুরুল হুদা :
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক এজিএস এ, এফ, এম, গোলাম ফাত্তাহ্ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২৩ রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৯ টায় আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।
ফাত্তাহ্ আমাদের অত্যন্ত কাছের বন্ধু। ঢাকা বারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। একজন মানুষের নেতৃত্ব দেবার জন্য যে সব গুনাবলীর প্রয়োজন, তার সব টুকু গুনাবলী থাকা সত্ত্বেও নমিনেশন না পাবার কারণে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার অপূর্ণতা নিয়ে চলে গেল।
ফাত্তাহ্ ছিল মিষ্টভাসির সজ্জন, আপাদমস্তক ভালো মানুষ। তার পদচারনাই ছিল এমন ধরনের যে, তাকে না দেখেই দূর থেকে বুঝা যেত সে আসছে। কখনো কেউ বলতে পারবে না সে কখনো কারো সাথে মুখ গম্ভীর করে কথা বলছে, ঝগড়া-ফাসাদ তো অনেক দূরের কথা।
আমরা যারা ঢাকা বারের নির্বাচনে দীর্ঘদিন কমিশনে কাজ করেছি তার মধ্যে ফাত্তাহর উপস্থিতি ছিল স্মরণে রাখার মত। আমরা সাবেক নির্বাচন কমিশনের সদস্য বৃন্দ ২০০৩ সনের ফেব্রুয়ারি মাসের ৯ তারিখে “ইউনাইটেড ল’ ইয়ার্স এসোসিয়েশন” গঠন করি, এই কমিটির সাথে সে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত ছিল।
ফাত্তাহ্ চলে গেছে রেখে গেছে হাজারো স্মৃতি। তার চলে যাওয়াটা অসম্ভব বেদনার। বিধাতার বিধান কে করিবে খন্ডন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইলো সমবেদনা আর মহান আল্লাহ যেন আমাদের বন্ধু কে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এই হোক আমাদের সকলের দোয়া।

চলে গেল ফাত্তাহ্ !
এড. আমিনুল গনি টিটু :
কাল যে রেবতী ম্যানশনের সামনে দেখা হলো কই
বললে না তো চলে যাবে?
ঠোঁট জুড়ে তো সেই মিষ্টি হাসি
বিষাদের ছায়া দেখিনি চোখে
সামান্য ইঙ্গিত কি ছিল
না মনে পড়ছে না
তবে কেন পাখি ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙা চোখে
দেখতে হবে তোর চলে যাওয়ার সংবাদ
বারবার মনে হচ্ছে
কি এমন তাড়া যে তোকে সাত তাড়াতাড়ি যেতে হবে প্রতি মুহূর্তের রসিকতা ছেড়ে
মাহমুদ এর চেম্বারে কে আর জমিয়ে রাখবে আড্ডা
কে আর ধূম্রশলাকাকে বলবে ফর্মালিন মুক্ত নির্ভেজাল
সকল ব্যস্ততা ফেলে কে ছুটে আসবে আক্রান্ত বন্ধুর পাশে
এমন সতেজ নিখাদ বন্ধু বিস্তর আয়োজন ফেলে
কোন শূন্যে মিলিয়ে গেল
তুই এখন দেখা না দেখার উর্ধ্বে কর্পূর ধূপকাঠি ধোঁয়া
প্রিয়ভাষী বন্ধু এখন নিথর শোকের স্মারক