ঢাকা, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ই-পেপার

আ. লীগ নেতা আহমদ ও রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহায়েল রিমান্ডে

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৯৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও নৌবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে আহমদ হোসেন ও বনানী এলাকা থেকে সোহায়েলকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান বরখাস্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলকে পল্টন থানায় দায়ের করা যুবদল নেতা নবীন তালুকদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় আহমদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গতকাল বুধবার নবীন তালুকদার হত্যা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল হাচান। মামলার রিমান্ড আবেদনে জানানো হয়, যুবদল নেতা নবীন তালুকদারকে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আহমদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা এবং মোহাম্মদ সোহায়েল সরকারি উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তারা মামলার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড। সারা বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় অবস্থান করলে আসামিদের নির্দেশে ও হুকুমে আন্দোলনকারীরা ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তা থেকে সরানোর জন্য এবং আন্দোলন দমানোর জন্য তাদের পরিকল্পনায় ও পরোক্ষ মদতে অজ্ঞাতনামা দুষ্কতকারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যমে এলোপাথারিভাবে গুলি করে। এতে ভিকটিম নবীন তালুকদার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। আরও বলা হয়, আহমদ হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য হয়ে আন্দোলন দমানোর জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল সরকারের উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা হয়ে তিনিসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ করেছে মর্মে বাপক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আসামিদের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে বিচারকের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ঘটনার দিন আমি চট্টগ্রামে আমার কর্মস্থলে বসা ছিলাম। ঘটনার বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়েছে। আহমদ হোসেনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন মর্মে আদালতকে জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। কোটা বিরোধী আন্দোলনে গত ১৯ জুলাই পল্টন থানা এলাকায় পুলিশের গুলিতে যুবদল নেতা নবীন তালুকদার মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী রুমা আক্তার মামলাটি দায়ের করেন। গত ২০ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে আহমদ হোসেন ও বনানী এলাকা থেকে সোহায়েলকে আটক করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আ. লীগ নেতা আহমদ ও রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহায়েল রিমান্ডে

আপডেট সময়ঃ ১০:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও নৌবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে, মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে আহমদ হোসেন ও বনানী এলাকা থেকে সোহায়েলকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান বরখাস্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলকে পল্টন থানায় দায়ের করা যুবদল নেতা নবীন তালুকদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় আহমদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গতকাল বুধবার নবীন তালুকদার হত্যা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর নাজমুল হাচান। মামলার রিমান্ড আবেদনে জানানো হয়, যুবদল নেতা নবীন তালুকদারকে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আহমদ হোসেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা এবং মোহাম্মদ সোহায়েল সরকারি উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। তারা মামলার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও মাস্টারমাইন্ড। সারা বাংলাদেশে কোটা বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় অবস্থান করলে আসামিদের নির্দেশে ও হুকুমে আন্দোলনকারীরা ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তা থেকে সরানোর জন্য এবং আন্দোলন দমানোর জন্য তাদের পরিকল্পনায় ও পরোক্ষ মদতে অজ্ঞাতনামা দুষ্কতকারীরা আগ্নেয়াস্ত্রের মাধ্যমে এলোপাথারিভাবে গুলি করে। এতে ভিকটিম নবীন তালুকদার গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। আরও বলা হয়, আহমদ হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য হয়ে আন্দোলন দমানোর জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল সরকারের উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা হয়ে তিনিসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ করেছে মর্মে বাপক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ইন্সপেক্টর মো. আসাদুজ্জামান দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আসামিদের কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে বিচারকের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ঘটনার দিন আমি চট্টগ্রামে আমার কর্মস্থলে বসা ছিলাম। ঘটনার বিষয়ে কিছু জানি না। আমাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়েছে। আহমদ হোসেনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন মর্মে আদালতকে জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিমের আদালত প্রত্যেকের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। কোটা বিরোধী আন্দোলনে গত ১৯ জুলাই পল্টন থানা এলাকায় পুলিশের গুলিতে যুবদল নেতা নবীন তালুকদার মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী রুমা আক্তার মামলাটি দায়ের করেন। গত ২০ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে আহমদ হোসেন ও বনানী এলাকা থেকে সোহায়েলকে আটক করা হয়।