ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

জুলাই সনদ নিয়ে নতুন সংকট, ‘অতি জরুরি’ বৈঠক সন্ধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০৪:২১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • / ৩৯০ বার পড়া হয়েছে

জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ বলে জানা গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘অতি জরুরি’ বৈঠকে বসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর আগে কমিশনের সদস্যরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সর্বমোট ৬টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। এটি আগামী শুক্রবার স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। তবে এখনো সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। কমিশন এ বিষয়ে আলাদা সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হলেও, ভোট কবে ও কীভাবে হবে তা নিয়ে দলগুলোর মতবিরোধ রয়েছে। অনেক দল সনদে সই করার আগে বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত ব্যাখ্যা চায়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গতকাল রাতে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছে, তারা ‘সংবিধান আদেশ’ জারি ছাড়া সনদে সই করবে না। দলটি বলেছে, জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, এবার আর সে সুযোগ নেই। এনসিপি সংবিধান সংস্কারসহ নতুন করে আলোচনা শুরুর পক্ষে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আজ রাতে দলটির বৈঠক রয়েছে। দলের এক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, সনদের চূড়ান্ত কপি হাতে পেয়েছেন, গরমিল থাকলে জানানো হবে। তবে তিনি সনদ ঘিরে ‘নানামুখী অপতৎপরতা’ থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

বামপন্থী কয়েকটি দলও সনদে সই না করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সনদের অঙ্গীকার অংশে একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা কমিশন গ্রহণ করেনি।

গত ৩১ জুলাই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়। এরপর ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন। সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে সম্মতি এলেও, গণভোটের সময়, ভিত্তি ও প্রশ্নপত্র নিয়ে এখনো দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির অবস্থান ভিন্ন।

ঐকমত্য কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যার বৈঠকে দলগুলো সনদে সই করবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রয়োজনে বাস্তবায়নের পথ নিয়েও নতুন আলোচনা হবে। বৈঠকটি বিটিভি নিউজে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে জানান, কমিশন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর আজ সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

জুলাই সনদ নিয়ে নতুন সংকট, ‘অতি জরুরি’ বৈঠক সন্ধ্যায়

আপডেট সময়ঃ ০৪:২১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ বলে জানা গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ‘অতি জরুরি’ বৈঠকে বসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এর আগে কমিশনের সদস্যরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সর্বমোট ৬টি সংস্কার কমিশনের ৮৪টি প্রস্তাব নিয়ে তৈরি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। এটি আগামী শুক্রবার স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সনদের চূড়ান্ত অনুলিপি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়। তবে এখনো সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি। কমিশন এ বিষয়ে আলাদা সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হলেও, ভোট কবে ও কীভাবে হবে তা নিয়ে দলগুলোর মতবিরোধ রয়েছে। অনেক দল সনদে সই করার আগে বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত ব্যাখ্যা চায়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গতকাল রাতে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছে, তারা ‘সংবিধান আদেশ’ জারি ছাড়া সনদে সই করবে না। দলটি বলেছে, জুলাই ঘোষণাপত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, এবার আর সে সুযোগ নেই। এনসিপি সংবিধান সংস্কারসহ নতুন করে আলোচনা শুরুর পক্ষে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। আজ রাতে দলটির বৈঠক রয়েছে। দলের এক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, সনদের চূড়ান্ত কপি হাতে পেয়েছেন, গরমিল থাকলে জানানো হবে। তবে তিনি সনদ ঘিরে ‘নানামুখী অপতৎপরতা’ থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

বামপন্থী কয়েকটি দলও সনদে সই না করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সনদের অঙ্গীকার অংশে একটি ধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা কমিশন গ্রহণ করেনি।

গত ৩১ জুলাই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হয়। এরপর ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন। সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নিয়ে সম্মতি এলেও, গণভোটের সময়, ভিত্তি ও প্রশ্নপত্র নিয়ে এখনো দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির অবস্থান ভিন্ন।

ঐকমত্য কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যার বৈঠকে দলগুলো সনদে সই করবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। প্রয়োজনে বাস্তবায়নের পথ নিয়েও নতুন আলোচনা হবে। বৈঠকটি বিটিভি নিউজে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে জানান, কমিশন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর আজ সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।