১১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

বর্তমানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারো বাড়ছে হুন্ডির দাপট

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারো বেড়েছে হুন্ডির দাপট। হুন্ডিবাজদের তৎপরতায় রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশই বৈধ পথে দেশে আসছে না। ফলে কমে যাচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ। আর তাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। বিগত ৬ মাস ধরেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রেমিট্যান্স কমার কারণ অনুসন্ধানে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, হুন্ডিবাজরা সক্রিয় হওয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স কমছে। তাছাড়া রেমিট্যান্স কমার আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেক দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ই এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। তাছাড়া করোনায় যেসব প্রবাসী চাকরিচ্যুত হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেনি। আর যাদের বেতন কমেছিল, তারা আগের বেতনে যেতে পারেনি। একই সাথে নতুন করে কর্মী বিদেশে যাওয়ার সংখ্যাও কমে গেছে। ওসব কারণেই কমছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। যদিও করোনার সময় রেমিট্যান্স বেড়েছিল। আর তার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রবাসীরা তাদের সঞ্চয় দেশে পাঠাচ্ছিল এবং হুন্ডি বন্ধ থাকায় তা ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ডলারে ব্যাংক থেকে পাচ্ছে ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা। কোনো ক্ষেত্রে ৮৩ টাকাও পাচ্ছে। আর হুন্ডিতে পাঠালে পাওয়া যাচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। হু-িতে রেমিট্যান্সে পাঠালে প্রতি ডলারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হলেও হুন্ডিতে পাঠালেই প্রবাসীরা বেশি টাকা পাচ্ছে। তাছাড়া ব্যাংকে পাঠালে শতকরা ৪ থেকে ৬ শতাংশ খরচ হয়। কিন্তু হুন্ডিতে কোনো খরচ নেই। তাছাড়া ব্যাংকে পাঠালে দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে নামের ভিন্নতায় রেমিট্যান্স পেতে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু হুন্ডি পাঠালে দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যায়। মূলত হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠালে কোনো জটিলতা নেই কিন্তু ব্যাংকে পাঠালে নানা জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়। নামের বানান ভুল বা ঠিকানা ভুল হলে রেমিট্যান্সের অর্থ তুলতে অনেক বেগ পেতে হয়। যদিও ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠালে কোনো ঝুঁকি নেই কিন্তু হুন্ডিতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। আর তা জেনেও প্রবাসীরা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ওসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে, তার ৪০ শতাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলে আসে। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ হুন্ডি এবং বাকি ৩০ শতাংশ নগদ আকারে প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে আসে।
সূত্র জানায়, হুন্ডি বন্ধ হলে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত হুন্ডি কমাতে বৈদেশিক মুদ্রার দরে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। তার মধ্যে কার্ব মার্কেট ও ব্যাংকের মধ্যে ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে পারলে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স কমবে। বর্তমানে হুন্ডিতে ডলারের বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম কমে গেলে হুন্ডি নিরুৎসাহিত হবে। সেজন্য বাজারের নগদ ডলারের প্রবাহ বাড়াতে হবে। বর্তমানে কার্বে প্রতি ডলার গড়ে ৯৩ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্যাংকের বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা। বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের ১ কোটির বেশি শ্রমিক কর্মরত। আগে প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ লাখ শ্রমিক বিদেশে গেছে। কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ সালে মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার শ্রমিক বিদেশে যেতে পেরেছেন। চলতি বছরেও প্রবাসীদের নতুন কাজ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কম।
সূত্র আরো জানায়, গত বছর বিলম্বে বেতন পেয়েছে এমন প্রবাসী ছিল ৪৭ শতাংশ, ২৬ শতাংশের চাকরি চলে গেছে। আর অস্থায়ী কাজ করতো এমন প্রবাসী ছিল ২৭ শতাংশ। তাদের বেতনভাতা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৬ হাজার জন বিদেশ থেকে দেশে ফেরত এসেছে। তারা সবাই এখনো যেতে পারেনি। ওসব কারণেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। গত বছরের নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। গত নভেম্বরে এসেছে ১৫৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কম।
এদিকে পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোয় চিঠি দিয়ে হুন্ডিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত আইনে হুন্ডি নিষিদ্ধ। ওই কারণে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে হুন্ডিবাজদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর কয়েকটি দেশের দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, করোনা-পরবর্তী সময়ে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা কমে গেছে। কারণ যাদের ব্যাংক হিসাব নেই, তারা অন্য কোনো প্রবাসীর ব্যাংক হিসাব থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছিল। কিন্তু কোনো কারণে ওই প্রবাসী দেশে এসে আর যেতে পারছে না। ফলে যাদের ব্যাংক হিসাব নেই তারা এখন হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। প্রবাসীরা অনেক এলাকায় ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকিং সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বাংলাদেশের এক্সচেঞ্জ হাউজ বা ব্যাংকের শাখা খোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ওই প্রেক্ষিতে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা এবং ব্যাংকের শাখাগুলোর সেবার মান আরো বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের কাছে গিয়ে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করাসহ বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সেজন্য বিদেশে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর উপশাখা খোলার অনুমোদন দেয়ারও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে ভারসাম্য রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। রেমিট্যান্স কমলে অর্থনীতিও লন্ডভন্ড হয় পড়ে। এ বিষয়টি মনে রেখে রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়াটা জরুরি। আর করোনার সময় রেমিট্যান্স কেন বাড়ল এবং এখন কেন কমছে, তা নিয়ে বিদেশে গিয়ে একটি গবেষণা হওয়া উচিত। এর প্রকৃত কারণ বের করে তার প্রতিকার দরকার।

ট্যাগস :

ভাগাড়সহ কোনো স্থানেই ময়লা পোড়ানো যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

বর্তমানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারো বাড়ছে হুন্ডির দাপট

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমানে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আবারো বেড়েছে হুন্ডির দাপট। হুন্ডিবাজদের তৎপরতায় রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশই বৈধ পথে দেশে আসছে না। ফলে কমে যাচ্ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ। আর তাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। বিগত ৬ মাস ধরেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে রেমিট্যান্স কমার কারণ অনুসন্ধানে খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, হুন্ডিবাজরা সক্রিয় হওয়ায় ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স কমছে। তাছাড়া রেমিট্যান্স কমার আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেক দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ই এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। তাছাড়া করোনায় যেসব প্রবাসী চাকরিচ্যুত হয়েছিল, তাদের অনেকেই এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেনি। আর যাদের বেতন কমেছিল, তারা আগের বেতনে যেতে পারেনি। একই সাথে নতুন করে কর্মী বিদেশে যাওয়ার সংখ্যাও কমে গেছে। ওসব কারণেই কমছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। যদিও করোনার সময় রেমিট্যান্স বেড়েছিল। আর তার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রবাসীরা তাদের সঞ্চয় দেশে পাঠাচ্ছিল এবং হুন্ডি বন্ধ থাকায় তা ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠালে প্রতি ডলারে ব্যাংক থেকে পাচ্ছে ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা। কোনো ক্ষেত্রে ৮৩ টাকাও পাচ্ছে। আর হুন্ডিতে পাঠালে পাওয়া যাচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা। হু-িতে রেমিট্যান্সে পাঠালে প্রতি ডলারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হলেও হুন্ডিতে পাঠালেই প্রবাসীরা বেশি টাকা পাচ্ছে। তাছাড়া ব্যাংকে পাঠালে শতকরা ৪ থেকে ৬ শতাংশ খরচ হয়। কিন্তু হুন্ডিতে কোনো খরচ নেই। তাছাড়া ব্যাংকে পাঠালে দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে নামের ভিন্নতায় রেমিট্যান্স পেতে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু হুন্ডি পাঠালে দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যায়। মূলত হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠালে কোনো জটিলতা নেই কিন্তু ব্যাংকে পাঠালে নানা জটিলতা মোকাবিলা করতে হয়। নামের বানান ভুল বা ঠিকানা ভুল হলে রেমিট্যান্সের অর্থ তুলতে অনেক বেগ পেতে হয়। যদিও ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠালে কোনো ঝুঁকি নেই কিন্তু হুন্ডিতে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। আর তা জেনেও প্রবাসীরা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ওসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে, তার ৪০ শতাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলে আসে। বাকি ৬০ শতাংশের মধ্যে ৩০ শতাংশ হুন্ডি এবং বাকি ৩০ শতাংশ নগদ আকারে প্রবাসীদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে আসে।
সূত্র জানায়, হুন্ডি বন্ধ হলে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত হুন্ডি কমাতে বৈদেশিক মুদ্রার দরে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। তার মধ্যে কার্ব মার্কেট ও ব্যাংকের মধ্যে ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে পারলে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স কমবে। বর্তমানে হুন্ডিতে ডলারের বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে। কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম কমে গেলে হুন্ডি নিরুৎসাহিত হবে। সেজন্য বাজারের নগদ ডলারের প্রবাহ বাড়াতে হবে। বর্তমানে কার্বে প্রতি ডলার গড়ে ৯৩ থেকে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্যাংকের বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৮৮ টাকা। বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের ১ কোটির বেশি শ্রমিক কর্মরত। আগে প্রতিবছর ১০ থেকে ১২ লাখ শ্রমিক বিদেশে গেছে। কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ সালে মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার শ্রমিক বিদেশে যেতে পেরেছেন। চলতি বছরেও প্রবাসীদের নতুন কাজ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কম।
সূত্র আরো জানায়, গত বছর বিলম্বে বেতন পেয়েছে এমন প্রবাসী ছিল ৪৭ শতাংশ, ২৬ শতাংশের চাকরি চলে গেছে। আর অস্থায়ী কাজ করতো এমন প্রবাসী ছিল ২৭ শতাংশ। তাদের বেতনভাতা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৬ হাজার জন বিদেশ থেকে দেশে ফেরত এসেছে। তারা সবাই এখনো যেতে পারেনি। ওসব কারণেও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। গত বছরের নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। গত নভেম্বরে এসেছে ১৫৫ কোটি ডলার, যা গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ২৫ দশমিক ২৬ শতাংশ কম।
এদিকে পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোয় চিঠি দিয়ে হুন্ডিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রচলিত আইনে হুন্ডি নিষিদ্ধ। ওই কারণে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে হুন্ডিবাজদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর কয়েকটি দেশের দূতাবাস থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, করোনা-পরবর্তী সময়ে প্রবাসীদের ব্যাংকিং সুবিধা কমে গেছে। কারণ যাদের ব্যাংক হিসাব নেই, তারা অন্য কোনো প্রবাসীর ব্যাংক হিসাব থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছিল। কিন্তু কোনো কারণে ওই প্রবাসী দেশে এসে আর যেতে পারছে না। ফলে যাদের ব্যাংক হিসাব নেই তারা এখন হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। প্রবাসীরা অনেক এলাকায় ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাংকিং সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় বাংলাদেশের এক্সচেঞ্জ হাউজ বা ব্যাংকের শাখা খোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ওই প্রেক্ষিতে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলা এবং ব্যাংকের শাখাগুলোর সেবার মান আরো বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের কাছে গিয়ে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করাসহ বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সেজন্য বিদেশে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর উপশাখা খোলার অনুমোদন দেয়ারও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে ভারসাম্য রাখতে বড় ভূমিকা পালন করে। রেমিট্যান্স কমলে অর্থনীতিও লন্ডভন্ড হয় পড়ে। এ বিষয়টি মনে রেখে রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়াটা জরুরি। আর করোনার সময় রেমিট্যান্স কেন বাড়ল এবং এখন কেন কমছে, তা নিয়ে বিদেশে গিয়ে একটি গবেষণা হওয়া উচিত। এর প্রকৃত কারণ বের করে তার প্রতিকার দরকার।