০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেঙ্গুতে দেশে প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী। নানা উদ্যোগেও কাজে আসছে না। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এখনই ডেঙ্গু সংক্রমণের উপযুক্ত সময়। এ ব্যাপারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরম খেসারত দিতে হবে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার একই সময়ের মধ্যে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ জনই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০ জন। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ২৭৬ জন ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১২ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ২০৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯২৩ জন। এ সময়ে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭৭ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৬৬২ জন। ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ৩২৯ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৬১ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমের আবহাওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত মৌসুম। আর এবার জানুয়ারিতে বোঝা যাচ্ছিল ডেঙ্গু রোগী বাড়বে। বছরের প্রথম দিকেই কীটতত্ত্ববিদরা বলেছিলেন, এবারও এডিসের সংক্রমণ ২০১৯ সালকে ছাড়িয়ে যাবে। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু থেকে মুক্তির বিকল্প নেই। এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে ওই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর ৩ এপ্রিল তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেছিল। সেখানে বলা হয়, ঢাকার ৪.৫৩ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে ২৫ মার্চ থেকে চলা ওই জরিপের ১০ দিনেই এমন চিত্র মিলেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ মার্চ থেকে দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে ২১ জন কীটতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে গঠিত দল ১০ দিনে ৩ হাজার ১৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করেছে। তার মধ্যে ১৪৩টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। বাড়িতে লার্ভা শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি মেয়র একমত পোষণ করে তারা নগরবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানোর কর্মসূচি হাতে নেয়। তার মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা তৈরি করতে ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। আর উত্তর সিটি করপোরেশনও একই কাজ করছে। তাছাড়া সংস্থাটির মেয়র প্রতি শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নিজ নিজ বাসা পরিষ্কার করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ড্রোন ব্যবহার করছে। মশক নিধনে দুই সিটির বরাদ্দ অর্থ পর্যাপ্ত। তার মধ্যে মশক নিধনে ঢাকা উত্তরে (ডিএনসিসি) চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৮৫ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণে (ডিএসসিসি) বরাদ্দ ২৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ওই বরাদ্দের আওতায় নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইডিং করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের এমন কার্যক্রমের পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
এদিকে এ বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী জানান, এখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আর এমন আবহাওয়ায় আরো বাড়তে পারে। তবে করোনা সংক্রমণের এই সময়ে খুব বেশি একটা বাড়বে না। কারণ মানুষ এখন কিছুটা সচেতন। জ¦র হলে মানুষ বের হয় না। তাই সংক্রমণও তেমন বাড়বে না। আর যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় সেখানে নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড পরিচালনা করলে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনকে কার্যক্রম পরিচালনায় আরো তৎপর হতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গু থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা কম। আর ২০২০ সালের তুলনায় অর্ধেক।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ জুলাই ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেঙ্গুতে দেশে প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী। নানা উদ্যোগেও কাজে আসছে না। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, এখনই ডেঙ্গু সংক্রমণের উপযুক্ত সময়। এ ব্যাপারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চরম খেসারত দিতে হবে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার একই সময়ের মধ্যে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ জনই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০ জন। বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ২৭৬ জন ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২১২ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত সর্বমোট ২ হাজার ২০৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯২৩ জন। এ সময়ে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭৭ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৬৬২ জন। ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ৩২৯ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৬১ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমের আবহাওয়া ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত মৌসুম। আর এবার জানুয়ারিতে বোঝা যাচ্ছিল ডেঙ্গু রোগী বাড়বে। বছরের প্রথম দিকেই কীটতত্ত্ববিদরা বলেছিলেন, এবারও এডিসের সংক্রমণ ২০১৯ সালকে ছাড়িয়ে যাবে। সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু থেকে মুক্তির বিকল্প নেই। এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে ওই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর ৩ এপ্রিল তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরেছিল। সেখানে বলা হয়, ঢাকার ৪.৫৩ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে ২৫ মার্চ থেকে চলা ওই জরিপের ১০ দিনেই এমন চিত্র মিলেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ২৫ মার্চ থেকে দুই সিটির ৯৮টি ওয়ার্ডে জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে ২১ জন কীটতত্ত্ববিদের সমন্বয়ে গঠিত দল ১০ দিনে ৩ হাজার ১৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করেছে। তার মধ্যে ১৪৩টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। বাড়িতে লার্ভা শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি মেয়র একমত পোষণ করে তারা নগরবাসীকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানানোর কর্মসূচি হাতে নেয়। তার মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা তৈরি করতে ফেস্টুন ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। আর উত্তর সিটি করপোরেশনও একই কাজ করছে। তাছাড়া সংস্থাটির মেয়র প্রতি শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নিজ নিজ বাসা পরিষ্কার করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই সঙ্গে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে ড্রোন ব্যবহার করছে। মশক নিধনে দুই সিটির বরাদ্দ অর্থ পর্যাপ্ত। তার মধ্যে মশক নিধনে ঢাকা উত্তরে (ডিএনসিসি) চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৮৫ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণে (ডিএসসিসি) বরাদ্দ ২৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ওই বরাদ্দের আওতায় নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইডিং করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের এমন কার্যক্রমের পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
এদিকে এ বিষয়ে কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী জানান, এখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। আর এমন আবহাওয়ায় আরো বাড়তে পারে। তবে করোনা সংক্রমণের এই সময়ে খুব বেশি একটা বাড়বে না। কারণ মানুষ এখন কিছুটা সচেতন। জ¦র হলে মানুষ বের হয় না। তাই সংক্রমণও তেমন বাড়বে না। আর যেসব এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয় সেখানে নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড পরিচালনা করলে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনকে কার্যক্রম পরিচালনায় আরো তৎপর হতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গু থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা কম। আর ২০২০ সালের তুলনায় অর্ধেক।