সরকার শাহাদত হোসেন: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাকে কাগজে-কলমে ‘মৃত’ দেখিয়ে ১৪ মাস বয়সী নিজের কন্যাশিশুকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া শিশু আদিবার মা খালেদা বেগম পোশাক কারখানায় কাজ করেন ঢাকায়। কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করায় মেয়েকে সুন্দরগঞ্জে তার খালার বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন তিনি। এই সুযোগে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা আজাহার আলীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর খালার বাড়ি থেকে বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে শিশু আদিবাকে নিয়ে যান আজাহার আলী। এরপর কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও শিশুটিকে ফিরিয়ে না দেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা ও খালার পরিবারের সদস্যরা।
পরে তারা জানতে পারেন, নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা একটি এফিডেভিটে খালেদা বেগমকে মিথ্যাভাবে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর সাদুল্যাপুর উপজেলার পূর্বখামার দশলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শিশুকে উদ্ধার ও আইনগত সহায়তা চেয়ে গত ২৭ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন খালেদা বেগম। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন বুধবার ভোরে সাদুল্যাপুর থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে নলডাঙ্গা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুল ইসলাম জানান, সুন্দরগঞ্জ থানার অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করতে দিনভর অভিযান চালানো হয়। সন্ধ্যায় শিশুটিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, শিশুটির বাবা মাদক ও জুয়ায় আসক্ত বলে জানা গেছে। জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শিশুকে বিক্রির অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।