• সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সিন্ডিকেটদের মদদ দিচ্ছে বিএনপি: কাদের পরজীবি দল হিসেবে জাপার প্রয়োজন আছে, গৃহপালিত নয়: জিএম কাদের দেশে কিশোর-তরুণদের প্রাণঘাতী যানে পরিণত হয়েছে মোটরবাইক চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী ১৪০০ জন ভারতীয় বন বিভাগের সহায়তায় নিজ দেশে ফিরল দুই হাতি বান্দরবানে সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ে অনীহা বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালকেরই কোটি টাকার অস্ত্রোপচার বাংলাদেশে করা হয়েছে বিনামূল্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন কমিটি গঠন হাইকোর্টের

অস্ত্র মামলায় স্বাস্থ্যের মালেকের দণ্ড ৩০ বছর, সাজা খাটবেন ১৫ বছর

Reporter Name / ৩৫২ Time View
Update : সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অস্ত্র আইনে হওয়া মামলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে বাদলের পৃথক দুই ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন আদালত। তবে উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে। সে ক্ষেত্রে ১৫ বছর সাজা ভোগ করতে হবে মালেককে। গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গাড়িচালক আবদুল মালেক ওরফে ড্রাইভার মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১-এর পুলিশ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি অস্ত্র আইনের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১-এর উপপরিদর্শক মেহেদী হাসান চৌধুরী আসামি মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৪ এপ্রিল আসামি মালেকের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন। বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ জন সাক্ষী আদালত সাক্ষ্য প্রদান করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করেন আদালত।

‘আমি কোনো অন্যায় করিনি, আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’

স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক আবদুল মালেকের (৬৩) বিরুদ্ধে করা অস্ত্র আইনের মামলায় তাঁকে দুই ধারায় ১৫ বছর করে ৩০ বছরের কারাদ-াদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে, এই সাজা একই সময়ে হওয়ায় তাঁকে ১৫ বছর কারাভোগ করতে হবে। ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রবিউল আলম গতকাল সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। এদিকে, রায় ঘোষণার পরে আবদুল মালেক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমার কাছ থেকে কিছুই পায়নি। সব সাক্ষ্য মিথ্যা। আমাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমার কাছ থেকে কিছুই উদ্ধার হয়নি।’ আবদুল মালেক আরও বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পায়নি।’ এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেন আদালত। আলোচিত এ মামলার ১৩ সাক্ষীর মধ্যে সবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেন আদালত। ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া এলাকা থেকে আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করে র্যা ব। পরদিন র‌্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র্যা বের প্রাথমিক গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আবদুল মালেক অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জাল টাকার ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- করেন। তিনি এলাকার সাধারণ মানুষকে অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন। জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে তাঁর কর্মকা-। তাঁর ভয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে সর্বদা আতঙ্ক বিরাজ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব তুরাগ থানাধীন কামারপাড়াস্থ বামনের টেকের বাসা নম্বর ৪২-এ অভিযান চালিয়ে আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ টাকার জালনোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আবদুল মালেককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি পেশায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহণ পুলের একজন গাড়িচালক। তিনি একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাস। ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম সাভার স্বাস্থ্য প্রকল্পে গাড়িচালক হিসেবে যোগ দেন। পরে ১৯৮৬ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহণ পুলে চালক হিসেবে যোগ দেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আবদুল মালেকের স্ত্রীর নামে ঢাকার কামারপাড়ায় দুটি সাত তলা বিলাসবহুল ভবন রয়েছে। ধানম-ির হাতিরপুলে সাড়ে চার কাঠা জমিতে একটি নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবন রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কামারপাড়ায় ১৫ কাঠা জমিতে একটি ডেইরি ফার্ম আছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে তাঁর বিপুল টাকা গচ্ছিত রয়েছে। গ্রেপ্তারের দিন র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আবদুল মালেক তাঁর অবৈধ সম্পদ রক্ষার জন্য বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করেন। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন ছিলেন। অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবহার করে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন। আবদুল মালেকের ১০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ আছে। মালেক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করার নামে টাকা নিতেন।’ জানা গেছে, মালেক তাঁর মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অফিস সহকারী পদে, ভাই আবদুল খালেককে অফিস সহায়ক পদে, ভাতিজা আবদুল হাকিমকে অফিস সহায়ক পদে, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতনকে ক্যান্টিন ম্যানেজার হিসেবে, ভাগ্নে সোহেল শিকারীকে ড্রাইভার পদে, ভায়রা মাহবুবকে ড্রাইভার পদে, নিকট আত্মীয় কামাল পাশাকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দিয়েছেন। মালেক নিজে গাড়িচালক হলেও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের জন্য বরাদ্দ একটি সাদা পাজেরো জিপ (গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো গ- ১৩-২৯৭৯) নিয়মিত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। ওই গাড়িটি ছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরও দুটি গাড়ি তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন। একটি পিকআপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঠ-১৩-৭০০১) তিনি নিজের গরুর খামারের দুধ বিক্রি এবং মেয়ের জামাইয়ের পরিচালিত ক্যান্টিনের মালামাল পরিবহণের কাজে ব্যবহার করতেন। অপর একটি মাইক্রোবাস (গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-৫৩-৬৭৪১) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যেরা ব্যবহার করতেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category