• রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৬:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এমপি আজীমকে আগেও তিনবার হত্যার পরিকল্পনা হয়: হারুন ঢাকাবাসীকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে সংসদীয় সরকারের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার হিরো আলমকে গাড়ি দেওয়া শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে প্রবাসীদের কোটি টাকা আশুলিয়ায় জামায়াতের গোপন বৈঠক, পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার ২২ এমপি আজীমের হত্যাকারীরা প্রায় চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পত্রিকার প্রচার সংখ্যা জানতে নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন উদ্ধারের মামলার বিচার শেষ হয়নি ৯ বছরও বিচারপতি অপসারণের রিভিউ শুনানি ১১ জুলাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউসেফ কাজ করছে: স্পিকার

জ্বালানি তেলের মূল্য আর কতদিন নাকানিচুবানি খাওয়াবে

Reporter Name / ১৩৪ Time View
Update : শনিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ব্যবসাক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাজারে বিদ্যমান খুব শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই রুই-কাতলাদেরকে টক্কর দিয়ে প্রায় সময় সরকারের পক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে যায়। সরকারের অবস্থা কখনো কখনো অনেকটা এতিম বাচ্চার মতো হয়ে যায়। তারা না পারে এগোতে না পারে পেছোতে। সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের এই পেরে না ওঠার ব্যাপারটাকে সরকারের একপ্রকার দুর্বলতা হিসেবেই দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।
জ¦ালানি তেল নিয়ে সরকারের নাকানিচুবানি খাওয়ার ব্যাপারটাই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানির তেল একটু বাড়লেই এ দেশের বাজারে বহুগুণ বেড়ে যায়। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে স্থানীয় বাজারে ডিজেল ও কেরোসিন তেলের মূল্য ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব মহলে অসন্তোষ বিরাজ করছে। জানা যায়, ডিজেল ও কেরোসিন তেল উভয়ের মূল্য ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, মূল্য বৃদ্ধির আগে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হতো ৬৫ টাকায়। মূল্যবৃদ্ধির পর তা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫ টাকা। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের এখনো শেষ আশ্রয়স্থল কেরোসিন তেল। কেরোসিন তেলকে তাই বলা হয় গরীবের জ¦ালানি। গরীবের সেই জ¦ালানিরও এখন বড়লোকি হাবভাব। দাম বেড়ে যাওয়ায় কেরোসিন কিনতে বেশ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে গরীব মানুষকে।
বিদায়ী বছরের জুন থেকে টানা পাঁচ মাস জ¦ালানি তেল বিক্রিতে লোকসানে থাকার পর বিশ্ববাজারে দাম কমতে শুরু করায় এখন লাভ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। প্রতি লিটার ডিজেলে দুই টাকার বেশি লাভ হচ্ছে। তার পরও এখনো দাম কমানোর কথা ভাবছে না বিপিসি। বিপিসি বলছে, বিশ্ববাজারে জ¦ালানি তেলের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারে কমানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে দাম কমায় এখন দেশেও জ¦ালানি তেলের দাম কমা উচিত। তবে যেহেতু এখনো বিশ্ববাজারে দাম ওঠানামা করছে তাই স্থিতিশীল অবস্থা দেখেই দেশে কমানো উচিত, তা না হলে আবার কয়েক দিন পরেই দাম বাড়াতে বা কমাতে হবে।
২০১৪ জুন থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত জ¦ালানি বিভাগের তথ্য মতে, টানা প্রায় সাত বছরে ৪৩ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা লাভ করেছে বিপিসি। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় সংস্থাটির দাবি অনুসারে চলতি বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জ¦ালানি তেল বেচে প্রায় এক হাজার ১৪৭ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। লোকসান কমাতে গত ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ানো হয়।
জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা কতটা গ্রহণযোগ্য সে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষীয় পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে তেলের মূল্য বাড়ানো ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না।
এটি আসলে যৌক্তিক কোন ব্যাখ্যা নয়। শিশুকে প্রবোধ দেওয়ার মতো ব্যাপার। কর্তৃপক্ষীয় পর্যায় থেকে আরও বলা হয়েছে, ভারতের জ¦ালানি তেলের দাম আমাদের চেয়ে বেশি। তাই অভ্যন্তরীণ বাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা না হলে ভারতে তেল পাচার হয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল। এ এক অদ্ভুত যুক্তি। তাহলে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত রয়েছেন, তারা কী করছেন? আর ভারতে কতটুকু তেলই বা পাচার হতে পারে?
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কম ছিল। সে সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে এর দাম তো কমানো হয়নি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক বক্তব্যে বলেছে, ‘বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশে ডিজেল/কেরোসিনের মূল্য অপরিবর্তিত ছিল এবং ইতোমধ্যে বিপিসি ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। তাছাড়া জ¦ালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে প্রায় ৩৩,৭৩৪.৭৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিপিসি গ্রহণ করেছে।’
এতে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়, জ¦ালানি তেলের ক্ষেত্রে সরকার বিগত বছরগুলোতে কোনো ভর্তুকি দেয়নি। অতিরিক্ত মূল্যে জ¦ালানি তেল বিক্রি করে বিপিসি বিপুল অঙ্কের অর্থ লাভ করেছে।
জ¦ালানি তেলের সাথে সংশ্লিষ্ট আরও একটি বিষয় হলো, জ¦ালানি তেলের দাম বাড়ায় যেসব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে, এখন দাম কমালেও সেগুলো কমবে না। তাই তেলের দাম কমানোর পর যদি সরকার যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ভাড়া কমানো নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জ¦ালানি তেলের দাম কমানোর কোন মানে হয় না। কেননা, সরকার দাম কমাবে তো মানুষের সুবিধার জন্যই।
আন্তর্জাতিক বাজার কখনোই খুব দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকে না। জ¦ালানি তেলের দাম নিয়মিত ওঠা নামা করে। আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী, আমদানিকারক দেশগুলো নিজস্ব বাজারে তেলের সরবরাহ মূল্য নির্ধারণ করে থাকে। খুচরা পর্যায়ে তেলের দাম নির্ধারণে সারা বিশ্বের অভিজ্ঞতায় প্রধানত তিনটি পদ্ধতি লক্ষ্য করা যায়। তাই তেলের দাম নির্ধারনে প্রচলিত ৩টি পদ্ধতির মধ্যে অধিকাংশ দেশ মার্কেট ডিটারমাইন্ড অর্থাৎ বাজার দরের সাথে নিয়মিত সমন্বয় পদ্ধতি মেনে চলে। এ ছাড়া কিছু দেশে আছে প্রাইস সিলিং বা সর্বোচ্চ মূল্য বেধে দেয়ার পদ্ধতি এবং সবচেয়ে কঠোর পদ্ধতি হলো ফিক্সড প্রাইস বা একদর পদ্ধতি।
তেলের দাম নির্ধারণের প্রচলিত পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করে জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফিক্সড প্রাইস হচ্ছে সরকার নির্ধারিত থাকে। আর সিলিং হলো মার্কেট প্রাইসের সাথেই থাকে তবে একটা সর্বোচ্চ মূল্যের ওপরে উঠতে পারে না। সেই সময়টাতে হয়তো সরকার ভর্তুকী দেয়। আর মার্কেট প্রাইসের সাথে রিলেটেড যেটা তাদের সমন্বয়ের কোনো লিমিট নাই। যতবার খুশী তারা সমন্বয় করতে পারে। ঘন ঘন করতে পারে, দুই মাস ধরে নাও করতে পারে। এটা আন্তর্জাতিক বাজারের দরের সাথের সরাসরি সম্পর্কিত।
অন্যদিকে বাংলাদেশে নিকট প্রতিবেশি দেশ ভারতের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন লক্ষ্য করা যায়। ওখানে জ¦ালানি তেলের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয় বাজার মূল্যের সাথে সমন্বয় করে। ডায়নামিক ডেইলি প্রাইসিং মেথড নামে এই পদ্ধতি ২০১৭ সাল থেকে চালু হয়েছে দেশটিতে। বাজার দর অনুযায়ী এ পদ্ধতিতে প্রতিদিনই দাম সমন্বয়ের সুযোগ আছে। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মন্থর গতিতে চলা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে যে আশার আলো দেখা যাচ্ছে জ¦ালানি তেলের দাম না কমালে সরকার সেই সম্ভাবনাময় আলো বিনষ্ট করে ফেলার একটা শঙ্কা আছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে ভাবা উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category