• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এএসপি আনিস হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী অ্যামাজন-শেভরন-বোয়িং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জন: স্ত্রীসহ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলা আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না: সালমান এফ রহমান ভিকারুননিসায় যমজ বোনকে ভর্তির নির্দেশ হাইকোর্টের এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি পটুয়াখালীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বাইক পোড়ালেন পাঠাও চালক

Reporter Name / ৩৬৮ Time View
Update : সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর বাড্ডায় ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন রাইড শেয়ারিং প্লাটফর্ম ‘পাঠাও’র এক চালক। গতকাল সোমবার সকালে বাড্ডার লিংক রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই মোটরসাইকেলের চালক মামলা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি নিজের মোটরসাইকেলে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় আশপাশে লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তিনি তাদের বাধা দেন। এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আইন অমান্য করায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ওই মোটরসাইকেলচালকের কাগজপত্র দেখতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ তাকে থামিয়ে আগুন নেভায়। তিনি আরও বলেন, তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে যেন সকালবেলা কোনো মোটরসাইকেল না দাঁড়ায়, এমন নির্দেশনা ছিল দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যদের প্রতি। ঘটনাস্থলে রাইড শেয়ারিংয়ের (পাঠাও) একটি মোটরসাইকেল দাঁড়ালে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা চালকের কাছে কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু ওই চালক কাগজপত্র না দেখিয়ে উল্টো রেগে গিয়ে নিজের বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার পর পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল ও শওকত আলমকে বাড্ডা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে শওকত জানান, মামলার জের ধরে ট্রাফিক পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। গত সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশ একটি মামলা দেওয়ার পর গতকাল সোমবার আবারও মামলা দিতে চাইলে ক্ষোভ থেকে এই কাজ করেছেন বলে জানান। শওকত আলম সোহেল বলেন, ?আমার নিজের ইচ্ছাতেই গাড়ি (মোটরসাইকেল) জ¦ালাইছি। এতে তো আমার-ই ক্ষতি হলো। রাগ করতে গিয়ে নিজের গাড়িই জ¦ালিয়ে দিলাম। পুলিশের কোনো দোষ নেই। তিনি বলেন, আমি কেরানীগঞ্জে ব্যবসা করতাম। দেড় মাস ধরে পাঠাও চালাই। গত সপ্তাহেও আমাকে একটা মামলা দেওয়া হয়েছিল। গতকাল সোমবার ট্রাফিক পুলিশ আবারও মামলা দিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেন এ ঘটনা ঘটিয়েছি তা জানতে চেয়েছে। এখন আমি এলাকায় চলে যাচ্ছি। আমি এই ঘটনায় অনুতপ্ত। এ বিষয়ে বাড্ডা থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সকালে বাড্ডা এলাকায় একটি ঘটনা ঘটে। আমরা তার পোড়ানো গাড়ি ও তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসি। তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো ভুল ছিল কিনা, কী ঘটেছিল এসব বিষয় জনার জন্য ওনাকে এখানে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। বাড্ডা থানার সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) সুবীন রঞ্জন দাস বলেন, লোকটি খুবই হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে মনে হলো। তার এলাকায় ব্যবসা ছিল। করোনায় লস করে এখন বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এসব কারণে হতাশা থেকে হয়তো এ কাজ করেছেন। ঘটনার আগে রাইড শেয়ারিংয়ের জন্য ওই এলাকায় অনেকে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কর্তব্যরত ট্রাফিক সদস্যরা সেখানে গেলে অনেকে সেখান থেকে সরে যান। তবে শওকত আলম সেখানে থেকে যান। এ সময় কাগজপত্র চেক করতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাইকে আগুন ধরিয়ে দেন। স্থানীয় দোকানদার জাকির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মামলা দেওয়ার জন্য পুলিশ কাগজপত্র নিয়ে গেলে ওই লোক নিজের গাড়িতে (মোটরসাইকেলে) হঠাৎ করে আগুন ধরিয়ে দেন। লোকটি পুলিশের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই আগুন ধরিয়ে দেন। এভাবে আগুন দেওযায় আমাদের দোকান-পাটেও আগুন লেগে যেতে পারতো। আগুন নেভাতে পানি দিতে গেলে আমাকেও গালিগালাজ করেন তিনি। এখানকার সাইনবোর্ডগুলোও আগুনের ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, মামলা কিন্তু ওই লোককে দেওয়া হয়নি। পাশের একজনকে মামলা দেওয়ার সময় তিনি এই কাজ করেছেন। তিনি হঠাৎ করেই নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category