• শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা বেনজীরের অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী দুয়েক সময় আমাদের ট্রলার-টহল বোটে মিয়ানমারের গুলি লেগেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সহকর্মীকে হত্যাকারী কনস্টেবল মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি পরিবারের বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী চেকিংয়ের জন্য গাড়ি থামানো চাঁদাবাজির অংশ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা কতজন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট বান্দরবান থেকে কেএনএফের ৩১ জনকে পাঠানো হলো চট্টগ্রাম কারাগারে

প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষুদেবার্তা: উদ্বোধনের অপেক্ষায় ফেনীর সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন

Reporter Name / ৪৫৭ Time View
Update : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা দিয়ে বরাদ্দ পাওয়া ফেনীর আলোচিত সেই প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে ভবনটি। সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ভবনটি। জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ জুন ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেন খোকন নামের এক প্রবাসী রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্ষুদেবার্তা দেন। এরপরই ওই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিন বছর পর ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে ভবনটিতে এখনো চেয়ার-টেবিল দেওয়া হয়নি। শেষ হয়নি বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজও। তাই এখনো ওই ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭২ সালে তৎকালীন ইউপি সদস্য আফজালুর রহমানের দান করা ৪০ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠা হয় রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই সময়ে তিনকক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেড ঘরে স্কুলটির কার্যক্রম চালানো হতো। ১৯৭৪ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। এ সময় পুরাতন ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সেখানে আরেকটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেখানেও শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান হতো না। সব সময় গাদাগাদি করে অংশ নিতে হতো শ্রেণি কার্যক্রমে। বিষয়টি জানতে পেরে স্কুলের ভূমিদাতা আফজালুর রহমানের ছেলে প্রবাসী আনোয়ার হোসেন খোকন ২০১৮ সালের ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠান। ওই ক্ষুদেবার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে স্কুলটির কোড নম্বর পাঠিয়ে তিনি লেখেন, এই স্কুলটি স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আফজালুর রহমানের জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। বার্তায় বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান তিনি। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন একান্ত সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিঞাকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চারদিনের মাথায় ২৬ জুন বিকেলে নতুন ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন পায় রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুল ভবনটি বাস্তবায়নের কাজ পায় ‘মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল জানান, একটি ক্ষুদেবার্তা পেয়েই রতনপুরে স্কুল ভবনের অনুমোদন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে জানান তিনি। রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারজান আক্তার জানান, করোনার সময়ে বন্ধের মাঝেই স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। স্কুল খোলার পর নতুন ঝকঝকে ভবনটি দেখে খুবই খুশি হয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে চেয়ার-টেবিল ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এখনো নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনায় স্কুলে প্রতিদিন মাত্র দুটি শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম চলে। তাই নতুন ভবনে পাঠদান না করলেও খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাওয়া রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পর শিক্ষা বিভাগের একটি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। বরাদ্দ পেলেই সেখানে নতুন চেয়ার-টেবিল দেয়া হবে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। দ্রুতই এসব সমস্যা সমাধান করে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান জানান, একটি সুন্দর ঘর ও নতুন ঝকঝকে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে পারলে শিশুরা উৎসাহী হয়। এতে করে শিক্ষার মান ও হার বাড়বে। সুদৃশ্য এ দালানটি ওই এলাকার শিক্ষার অগ্রগতিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category