• সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার

ফেসবুক-ইউটিউব কর না দেওয়া দুঃখজনক: হাইকোর্ট

Reporter Name / ১৪০ Time View
Update : শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যেখানে দেশের একজন সাধারণ মানুষ আয়কর দেয়, সেখানে গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, ইয়াহু, অ্যামাজনসহ বড় টেক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় না করা ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে হাই কোর্টের এক রায়ে। আদালত বলেছে, এসব কোম্পানির পাশাপশি ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি, লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের লেনদেন থেকে উৎসে কর, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য পাওনা। এই পাওনা তারা পরিশোধ করবে- এটা দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে। গুগল, ফেইসবুক, ইউটিউব, ইয়াহু, অ্যামাজনসহ ইন্টারনেটভিত্তিক অন্যান্য সোশাল মিডিয়া কোম্পানি ও প্ল্যাটফর্ম থেকে সব ধরনের রাজস্ব আদায়ের নির্দেশনা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাই কোর্ট। গতবছর নভেম্বরে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের ১৪৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, ’মূল্য সংযাজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ৪ ধারা অনুযায়ী ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৭৫ ধারা অনুযায়ী এসব কোম্পানি আয়কর রিটার্ন দিতেও বাধ্য। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বেসরকারি মোবাইল অপারেটর ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও খবর থেকে উদ্ধৃত করে রায়ে বলা হয়, “এটা কাচের মত স্পষ্ট যে- ইন্টারনেটভিত্তিক এসব প্ল্যাটফর্ম মূসক, টার্নওভার কর, সম্পূরক শুল্ক এবং ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৫ ধারা অনুযায়ী মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ কোনো ধরনের রাজস্ব সরকারকে দিচ্ছে না। এটি বেআইনি। যেখানে আমাদের দেশের একজন সাধারণ মানুষও আয়কর দেয়, সেখানে এ ধরনের বৃহৎ টেক জায়ান্টদের থেকে আয়কর রাজস্ব আদায় না করা দুঃখজনক। বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাগ্রহিতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ক্ষুদ্র থেকে বড়- সব ধরনের উদ্যোক্তা বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ঝুঁকছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে। ইন্টারনেটভিত্তিক ইকমার্স প্লাটফর্ম ক্রমেই দেশে একটি বড় বাণিজ্য খাত হয়ে উঠছে। তবে চটকদার, লোভনীয় বিজ্ঞাপনে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগও উঠেছে কিছুকিছু ইকমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে। যে কারণে আইন-নীতিমালা করে সম্ভাবনাময় এ খাতটিকে শৃঙ্খলায় আনার কথা ভাবছে সরকার। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো যে কোনো রকম কর বা ফি না দিয়েই বাংলাদেশ থেকে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে যাচ্ছে, সোশাল মিডিয়া আর ইন্টারনেট ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের লেনদেন থেকে সরকার যে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে, সে বিষয়টি আদালতে গড়ায় তিন বছর আগে। ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল বিষয়টি নিয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লবসহ সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবী। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত ১২ এপ্রিল রুলসহ আদেশ দেয়। ওই আদেশে সার্চ ইঞ্জিন গুগল, ইয়াহু, ই-কমার্সের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্ম থেকে বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি, লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের লেনদেন থকে উৎসে কর, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১১ নভেম্বর বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। গত বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচরপতি মো. আশরাফুল কামাল। তার সাথে একমত পোষণ করেছেন বিচারক রাজিক আল জলিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category