• সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সিন্ডিকেটদের মদদ দিচ্ছে বিএনপি: কাদের পরজীবি দল হিসেবে জাপার প্রয়োজন আছে, গৃহপালিত নয়: জিএম কাদের দেশে কিশোর-তরুণদের প্রাণঘাতী যানে পরিণত হয়েছে মোটরবাইক চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী ১৪০০ জন ভারতীয় বন বিভাগের সহায়তায় নিজ দেশে ফিরল দুই হাতি বান্দরবানে সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ে অনীহা বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালকেরই কোটি টাকার অস্ত্রোপচার বাংলাদেশে করা হয়েছে বিনামূল্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন কমিটি গঠন হাইকোর্টের

বইমেলায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে চান না ডিএমপি কমিশনার

Reporter Name / ৬৩ Time View
Update : রবিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলা একাডেমিকে ঘিরে চারপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বইমেলাকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার আশঙ্কাও একেবারে এড়িয়ে যাননি। আজ রোববার অমর একুশে বইমেলার রমনা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) নিরাপত্তার বিস্তারিত তুলে ধরার সময় এসব কথা বলেন। জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কারণ হিসেবে তিনি অভিজিৎ হত্যার রায়ের পর জঙ্গিদের ক্ষিপ্ত থাকা এবং মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত মেজর জিয়া বাইরে থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে তেমন কিছু ঘটবে না বলেই তার আশা। জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কেমন, এমন প্রশ্নে ডিএমপি প্রধান বলেন, অভিজিৎ হত্যা মামলার রায়ে জঙ্গিরা ক্ষিপ্ত হওয়া স্বাভাবিক বলে আমরা মনে করছি। আমাদের যে আলোচনা হয়েছে, সেখানেও চুল চেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে তাদের মূল নেতা মেজর জিয়া সে এখনও বাইরে আছে। এই ঝুঁকিকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বইমেলায় নিরাপত্তা দেওয়া ডিএমপির বৃহৎ একটি কর্মকা-ে পরিণত হয়েছে জানিয়ে শফিকুল বলেন, মেলার মূল প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনারকেন্দ্রিক ও শাহবাগ, টিএসসিকেন্দ্রিক একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এসব দিকে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বৈশিষ্টগুলো হলো- বাংলা একাডেমি, টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও শহীদ মিনার, শাহবাগ, নীলক্ষেত এলাকায় একটি প্রাথমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এদিকে কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সন্দেহজনক কিছু দেখলে তাদের তল্লাশি করা হবে। মেলার মূল প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দুটি গেইট, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চারটি প্রবেশ ও চারটি বের হওয়ার গেইট থাকবে। প্রতিটি প্রবেশের রাস্তায় মেটাল ডিটেক্টর থাকবে, সার্চ করা হবে। পাশাপাশি সন্দেহ হলে আলাদা রুম থাকবে সেখানে নিয়ে তল্লাশি করা হবে। তিনি মেলার নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ মেলা ও এর আশপাশের প্রতিটি সড়ক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে এসেছে। এছাড়া মেলার ভেতর ও বাহিরে সাদা পোশাকে ফোর্স মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ডিবি, সিটিটিসি, মোবাইল টিম মোতায়েন থাকবে। ডগ স্কোয়াড, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। সোয়াতের ভ্যান, সিআইডির পক্ষ থেকে সরবরাহ করা ক্রাইম সিন ভ্যান থাকবে। চিকিৎসকদের দলও থাকবে। খাওয়ার পানি সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি যাদের দুগ্ধ পোষ্য শিশু আছে তাদের জন্য কন্ট্রোল রুমের ভেতরে ব্রেস্ট ফিডিংয়ের জায়গা থাকবে। উষ্কানিমূলক বইয়ের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনারা জানেন লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে হঠাৎ করে কিছু আপত্তিকর বই চলে আসে। এটা নিয়ে হইচই শুরু হয়ে যায়। এটা নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি মিটিংয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আসলে বাংলা একাডেমিতে প্রতিদিন যে শতশত বই প্রকাশিত হয় সেগুলো মনিটরিং করা প্রায় অসম্ভব ব্যপার। এতগুলো বই পড়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যপার। তবে এগুলোকে মনিটরিং করতে আমাদের সিটিটিসির পক্ষ থেকে লোক থাকবে। তারা প্রতিদিন কী কী বই আসছে সেটি দেখবেন। এখন রাতের বেলা যদি কেউ বই এনে রাখেন তাহলে তার দায় স্টল মালিক ও প্রকাশককে নিতে হবে।” মেলায় ঢোকার বেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা আছে সেগুলো মেনে চলা হবে। মাস্ক ছাড়া মেলায় প্রবেশ করা যাবে না এবং গেইটে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হবে। “মেলার ভেতরে ভ্রাম্যমান দল থাকবে। আর স্টলের প্রত্যেককে কোভিড টিকা দেওয়ার সনদ দেখাতে হবে। নয়তো জরিমানা করা হবে এবং মেলায় স্টলে কাজ করতে দেওয়া হবে না।” ডিএমপি কমিশনার বলেন, জরুরি মুহূর্তের জন্য সোয়াতের ভ্যান, ফায়ার সার্ভিসের লোক থাকবে। আগুনসহ যেকোনো মুহূর্তে তারা কাজ করবে। “আর বিষ্ফোরণ ঘটনানোর মতো ক্ষমতা জঙ্গিদের নেই। তবে মূল নেতা যে, সে বাহিরে আছে। আপনারা জানেন, সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারে দেশে বিদেশে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। আমরাও চেষ্টা করছি তাকে ধরার জন্য। আশা করছি তেমন কিছু হবে না।” সাত বছর আগে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে জঙ্গি কায়দায় হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়। চাপাতির আঘাতে আঙুল হারান তার স্ত্রী। এ মামলার রায়ে গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়াসহ পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদ- এবং উগ্রপন্থি ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় আদালত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category