• বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০১:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
শান্তিরক্ষার দায়িত্বে সরকার সচেতন থাকবে: আইনমন্ত্রী পদধারী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবশ্যই দলীয় শৃঙ্খলা মাথায় রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হরতাল-অবরোধের প্রভাব পণ্য পরিবহনে, বাড়তি ব্যয়ের বোঝা ভোক্তাদের কাঁধে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে উৎসাহিত করা হবে: এলজিআরডি মন্ত্রী বিশ্বকাপ ব্যর্থতা, অনুসন্ধানে বিসিবির কমিটি পোর্তোকে হারিয়ে নক আউট পর্বে বার্সেলোনা তাইজুল ঝলকে দ্বিতীয় দিন শেষেও এগিয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বিচারকের সই জাল: দুই পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৪ ডিসেম্বর ‘অনুমতি ছাড়া তথ্য ব্যবহারে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা’

ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে বিএনপি আরও ছোট হয়ে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

Reporter Name / ৩৬৫ Time View
Update : সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে বিএনপির এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ২০১৪ ও ২০১৮ সালে যে ভুল করেছে, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে আরও ছোট হয়ে যাবে। যেটা তাদের জন্য আত্মহননমূলক হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। না হলে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না এবং কোনো নির্বাচনও বাংলাদেশে হতে দেবে না। এ ধরনের একটা সতর্কবাণী তারা উচ্চারণ করছেন এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এর উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এ ধরনের কথা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই বলে আসছিল এবং ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। সে সময় তারা ৫০০ ভোটকেন্দ্র জ¦ালিয়ে দিয়েছিল, ছাত্র-ছাত্রীদের নতুন বই পুড়িয়ে দেয়। কারণ স্কুলগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেখানে রক্ষিত ছিল বইগুলো। তারা বহু মানুষকে হত্যা করেছে, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হত্যা করেছে। এরপরও তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, দেশে নির্বাচন হয়েছে। ২০১৮ সালেও নির্বাচনের সময় প্রথমে তারা নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তখনও তারা এ ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়েছে। কিন্তু পরে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে শুরুতে তারা বানচালের দিকে না গিয়ে, যদি শুরু থেকে সিরিয়াসলি অংশগ্রহণ করতো, তাহলে হয়তো তারা আরও ভালো ফলাফল করতে পারতো। বর্তমানে বিএনপির একই তর্জন গর্জন শোনা যাচ্ছে, যখন নির্বাচনের বাকি সোয়া দুই বছর বা তার কিছু বেশি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তারা যে ভুল করেছে, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে বিএনপি আসলে যে ছোট হয়ে আসছে, তারা আরও ছোট হয়ে যাবে। যেটা তাদের জন্য আত্মহননমূলক হবে। যেটি ২০১৪ সালে তাদের জন্য হয়েছিল আত্মহননমূলক, ২০১৮ সালে হয়েছিল। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ এবং লেখনি সেন্সর করার জন্য আওয়ামী লীগ এক লাখ অ্যাকটিভিস্ট নিয়োগ করবে, বিএনপির এমন অভিযোগ সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব অ্যাকটিভিস্ট কাজ করবে। এখনও হাজার হাজার অ্যাকটিভিস্ট আমাদের দলের বা ঘরানার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকটিভ আছে। সেগুলো সমন্বয় ঘটিয়ে যাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে সে কথা বলা হয়েছে। যারা এসব কথা বলে তাদের আসলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে চলে সে সম্পর্কে ধারণা নেই। এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকটিভিস্টরা কাজ করবে। কার কণ্ঠ কে রোধ করবে? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রিজভী আহমেদরা বিদেশে অ্যাকটিভিস্ট নিয়োগ করেছে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য। সে অপপ্রচারের জন্য সুপ্রচার আরও জোরালো হবে। তখন এ অপপ্রচারগুলো মাঠে মারা যাবে। সে শঙ্কা থেকে তারা এসব কথা বলছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি কিছু অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সেসব ব্যক্তি অনলাইনে যে দেশ থেকে এ ধরনের অপপ্রচার চালায়, সে দেশের আইন অনুযায়ী সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষকে অবারিত সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনেক সময় অস্থিরতা তৈরি করা হয়। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের বিরুদ্ধে, ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে অহেতুক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু মূল ধারার গণমাধ্যমগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে। এই করোনার মধ্যে অনেক ধরনের গুজব রটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, দেশ এবং বিদেশ থেকে। তিনি আরও বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার জন্য অনেকগুলো কাজ করেছে। যেমন অনলাইন গণমাধ্যমের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু, আইপিটিভি রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করা এবং কিছুকিছু অনলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিদেশ থেকে বসে বসে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিবিশেষ এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে…। করোনা যেমন নানা ধরনের ভ্যারিয়েন্ট প্রকাশ করে বিভিন্ন সময়, এসব অনলাইন পোর্টালগুলোর দেখা যায় মাঝে মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় প্রকাশ হয়। কিন্তু এগুলোর পেছনে একই ব্যক্তিবিশেষ, তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, রিপোর্টার্স উইদাউট ফ্রন্টিয়ার (রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস) প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে একটি আপত্তিকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে। আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেটির প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমরা জানিয়েছিলাম এটা সংশোধন করা না হলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো। রিপোর্টার উইদাউট ফ্রন্টিয়ারের অফিস ফ্রান্সে। ফরাসি আইনে ফরাসি আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ফরাসি আইন অনুযায়ী এমনকি ইউরোপিয়ান আইন অনুযায়ী ব্যক্তিবিশেষকে কটাক্ষ করে, টার্গেট করে তারা যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, তা করতে পারে না। ফরাসি আইনের সেই ধারা উল্লেখ করে, ইউরোপিয়ান আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ করে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, অন্যান্য দেশ থেকেও যারা এ ধরনের কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ওটিটি প্লাটফর্মে কোনো কন্টেন্ট রিলিজ করতে এখন কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। ওটিটিতে সিনেমা রিলিজ করতে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই, নাটক প্রকাশ করতেও কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিংবা ওয়েবসিরিজ আকারে প্রকাশ করার জন্য অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ওটিটির প্রতিটি কন্টেন্ট সেন্সর করা দুরূহ কাজ। বছরে ৫০টি বা ১০০টি সিনেমা রিলিজ হয়, সেগুলো সেন্সর করা সহজ। কিন্তু বছরে শত শত, হাজার হাজার কন্টেন্ট ওটিটিতে প্রকাশ পায়, সেগুলো সেন্সর করা দুরূহ কাজ। সে কারণে ভারতে যেভাবে করা হচ্ছে এবং অন্যান্য দেশে যেভাবে করা হচ্ছে, সেভাবে একটি নীতিমালার খসড়া আমরা করেছি। সেটা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা জারি করবো। মন্ত্রী বলেন, যাতে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে এমন কোনো কন্টেন্ট না যায়। আমাদের দেশে বিজাতীয় সংস্কৃতি উৎসাহিত হয় সে ধরনের কোনো কনটেন্ট যাতে না যায়। কিংবা আমাদের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করতে পারে, বিপথগামী করতে পারে, এমন কোনো কন্টেন্ট না যায়। সেগুলোকে মাথায় রেখে আমরা একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category