• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এএসপি আনিস হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী অ্যামাজন-শেভরন-বোয়িং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জন: স্ত্রীসহ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলা আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না: সালমান এফ রহমান ভিকারুননিসায় যমজ বোনকে ভর্তির নির্দেশ হাইকোর্টের এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি পটুয়াখালীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি’র অস্তিত্ব সন্দেহজনক: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ২২৩ Time View
Update : সোমবার, ৮ নভেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কারণে বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের সাজা হওয়ায় রাজনৈতিক দল হিসেবে ভবিষ্যতে দলটির অস্তিত্ব টিকে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, অস্ত্র চোরাচালান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীর নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক দল টিকে থাকবে কীভাবে? সোমবার কুইন এলিজাবেথ সেন্টারে যুক্তরাজ্যে (ইউকে) বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী জনগণের দেয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় ভাষণদানকালে প্রধানমন্ত্রী এমন প্রশ্ন তোলেন। লন্ডনে তাঁর বাসস্থান থেকে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অস্ত্র চোরাচালান ও দুর্নীতির পাশাপাশি হত্যা মামলায়ও সাজাপ্রাপ্ত। তিনি বলেন, কেবলমাত্র আমাদেরই (সরকার) না, বেগম খালেদা জিয়ার ছেলেদের এই দুর্নীতির চিত্র আমেরিকার এফবিআই’র করা তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা (সরকার) বিদেশ থেকে তাদের পাচারকৃত কিছু অর্থ দেশে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাদের (খালেদা জিয়া ও তার ছেলেদের) কোন দেশপ্রেম ছিলনা, বরং তাদের চিন্তা ছিল ক্ষমতা ভোগ এবং লুঠপাট করা। শেখ হাসিনা লন্ডনে তাদের (তারেক রহমান) বিলাসবহুল জীবন যাপন ও আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় এসে হাওয়া ভবন চালুর মাধ্যমে লুঠপাটের রাজত্ব কায়েম এবং লুঠেপুটে খাওয়া-দাওয়া শুরু করে। দেশের জনগণের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে। ঐ সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়। তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিকভাবে, জনগণ সামনের দিকে অগ্রসর হতে চায়, আমি কখনো জনগণকে পেছনের দিকে যেতে দেখিনি। কিন্তুু তারা সেটাই করেছে। সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার পর বাংলাদেশ অন্ধকার যুগে নিমজ্জিত হয়। তিনি বলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের জনগণ সরকারের সেবা পেতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করায় দেশের ভাগ্যের চাকা সামনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সর্বদা দেশের জনগণের পাশে থাকে এবং জনগণের কল্যাণের চিন্তা করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষাবত্তি করে চলে না, আজকের বাংলাদেশ তাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে আসে এবং আমরা সক্ষমতা অর্জন করেছি। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, একটি কুচক্রীমহল এ সরকারকে বিশেষকরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে দুর্নীতির অভিযোগ এনে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি বিশ্ব ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেও তারা তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পদ্মা সেতুতে কোন দুর্নীতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ র্দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য গড়তে ক্ষমতায় আসেনি। তিনি বলেন, আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে ক্ষমতায় এসেছি। এটিই আমাদের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি ১শ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান। সারা দেশে এসব অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, আপনারা (প্রবাসীরা) বিনিয়োগ করতে চাইলে, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আমরা তা করবো। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, তাঁর সরকার প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শেখ হাসিনা দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা কোন ধরনের সমস্যায় পড়লে তাদের সে ব্যাপারে তাঁকে অবহিত করতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন যে, কোন সমস্যার সমাধান তিনি করবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা যাতে অন্য দেশেও বিনিয়োগ করতে পারে সরকার সেটিরও পথ সুগম করবে। সরকার প্রধান বলেন, আমার পিতা পাকিস্তানিদের কাছ থেকে এই দেশ স্বাধীন করেছেন এবং আমি জানি কীভাবে বাংলাদেশের উন্নতি করতে হয়। ৭ নভেম্বরের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৭৫ সালের পর ১৯ বার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। তিনি বলেন, প্রতি বার অভ্যূন্থানকালে জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হাজার হাজার কর্মকর্তা ও সৈন্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে ৭ নভেম্বর হচ্ছে সৈনিক হত্যা দিবস। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফ এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এর আগে গত রোববার স্থানীয় সময় সকালে লন্ডনে বর্তমান আবাসস্থল থেকে ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনের (বিএইচসি) সম্প্রসারিত অংশ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের যথাযথ সেবা দিতে দেশের কূটনীতিকদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, প্রবাসীদের যথাযথ সেবা প্রদান এবং তাদের সুস্থতার জন্য আপনাদের (কূটনীতিকদের) প্রয়োজন। সারা বিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের জন্য অবদান রাখছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগে আসলে কূটনীতিটা শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক কূটনীতিতে পরিণত হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, একদিকে বাংলাদেশকে তুলে ধরা, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের রপ্তানি কীভাবে বাড়াতে পারি, বিনিয়োগ কীভাবে বাড়াতে পারি, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি কীভাবে হতে পারে, দেশের মানুষ কীভাবে ভালো থাকতে পারে- সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান বিশ্বে এককভাবে কেউ এগিয়ে গিয়ে উন্নতি করতে পারে না। এখন সম্মিলিত প্রচেষ্টাও দরকার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে প্রত্যেকটি কূটনৈতিক মিশনের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। রফপ্তানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আলোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে নেই, বরং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ মর্যাদা ধরে রেখে একটি উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category