• সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সিন্ডিকেটদের মদদ দিচ্ছে বিএনপি: কাদের পরজীবি দল হিসেবে জাপার প্রয়োজন আছে, গৃহপালিত নয়: জিএম কাদের দেশে কিশোর-তরুণদের প্রাণঘাতী যানে পরিণত হয়েছে মোটরবাইক চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ পেতে আগ্রহী ১৪০০ জন ভারতীয় বন বিভাগের সহায়তায় নিজ দেশে ফিরল দুই হাতি বান্দরবানে সড়ক নির্মাণে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি ব্যবহার স্পেনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ে অনীহা বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালকেরই কোটি টাকার অস্ত্রোপচার বাংলাদেশে করা হয়েছে বিনামূল্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশু আয়ানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন কমিটি গঠন হাইকোর্টের

ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name / ২২৫ Time View
Update : শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী ও খুনিরা তৎপর রয়েছে, তৎপর থাকবে। তাদের ষড়যন্ত্রও চলতে থাকবে। কিন্তু এ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। ইনশাল্লাহ, জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। গত শুক্রবার মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নাগরিক সংবর্ধনায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মালদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইস্কান্ধার স্কুল অডিটোরিয়ামে, মালে চাঁদনী মাগুতে সমবেত হন। শেখ হাসিনা বলেন, বারবার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কতবার আমাকে বন্দি করা হয়েছে। এমনকি আমাকে ক্যান্টনমেন্টে ডিজিএফআইয়ের সেলেও নিয়ে গেছে ইন্টারোগেশন করার জন্য। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, জাতির পিতার মেয়ে। আমি এসবে কখনো পাত্তা দিইনি, ভয় পাইনি। আমার সবসময় একটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, যখন বেঁচে আছি, আল্লাহর একটা ইশারা। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে আমি পারব। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। জাতির পিতা সবসময় মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, উন্নত জীবন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমার লক্ষ্য এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে একটা সুন্দর জীবন দেওয়া। তিনি বলেন, এটুকু করতে পারাই হবে আমার সার্থকতা। আর এটুকু করতে পারলেই আমি মনে করি ষড়যন্ত্রকারীরা, যে খুনিরা আমার বাবাকে হত্যা করেছে বাংলাদেশের মানুষকে পদদলিত করে রাখার জন্য, তাদের উপযুক্ত জবাব আমি দিতে পারব। ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় এবং এরপর ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে জাতির পিতাকে হত্যার বিচারের পথ রহিত করায় তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের পদক্ষেপ এবং ১৫ আগস্টের কালরাতে বিদেশে থাকায় বেঁচে যাওয়া তাদের দুই বোনকে (শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা) দেশে ফিরতে না দেওয়ায় ছয় বছর বিদেশে রিফিউজি জীবনযাপনে বাধ্য হবার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে সরকার গঠনের পর ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স রহিত করে জাতির পিতা হত্যার এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রবাসীদের কল্যাণ করা আওয়ামী লীগ সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বর্তমানে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছেন তা সমাধানে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমি একটি সফল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি। অনথিভুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়টি সংলাপে প্রাধান্য পেয়েছে। এখানে অকস্মাৎ এসে পড়ায় যারা এখনো বৈধতা পাননি, তাদের বিষয়ে মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এমওইউ সইয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ সরাসরি মালদ্বীপের মুদ্রায় যাতে দেশে পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থাও নেব, যাতে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে না হয়। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এখানকার প্রবাসীরা যাতে দেশে টাকা পাঠাতে পারেন সে ব্যবস্থা সরকার করে দেবে, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এখানকার বিভিন্ন দ্বীপের অভিবাসীরা যাতে নির্বিঘেœ দেশে টাকা পাঠাতে পারেন, সেজন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংককে আমি বলবো, এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক মানি এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাটা করে দেবে, যাতে ডলার কিনে আবার বাংলাদেশে পাঠানোয় যে লোকসান হয়, সেটা বন্ধ হয়। দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোদের জন্য সরকার দুই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে টাকা আপনারা পাঠান, তার চেয়েও বেশি টাকা কিন্তু সরাসরি আপনার পরিবার পেয়ে থাকে। মালদ্বীপের সঙ্গে কানেকটিভিটির উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরই আমাদের সরকার বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেয় এবং বেসরকারি খাতে বিমান পরিচালনারও সুযোগ সৃষ্টি করে, যে কারণে আজ একটি বেসরকারি খাতের বিমান মালদ্বীপে আসা শুরু করেছে। সরকারি বিমানে আমরা মালদ্বীপে যাতায়াতের একটা ব্যবস্থা করব, সে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে। উল্লেখ্য, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সংযোগ জোরদারে সম্মত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বিমান ভারতের চেন্নাই হয়ে মালদ্বীপের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ চালু করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুদেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীরা আপনাদের (মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশী) সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। সরকার সমস্যা সমাধানে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ করার বিষয়টিকে আমরা সবসময়ই একটা দায়িত্ব মনে করি। তবে, আপনারা একটা কাজ করবেন, যারা বিদেশে আসতে চান, তারা যেন দালাল ধরে না আসেন। তারা যেন বৈধভাবে আসার চেষ্টা করেন। কেননা অনেকে বাড়িঘর বিক্রি করে অনেক কষ্টে প্রবাসে পাড়ি জমালেও কাক্সিক্ষত বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হন। প্রবাসে অবৈধ পথে পাড়ি জমাতে গিয়ে অনেকের মৃত্যু হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এভাবে সোনার হরিণের পেছনে ছোটার কোনো দরকার নেই। তাছাড়া সরকার দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি যার মাধ্যমে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে রেজিস্ট্রেশন করেই তারা বিদেশে আসতে পারেন। কাজেই বাড়ি-ঘর বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা দেওয়ার কোনো দরকার নেই। বরং প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধাও তারা নিতে পারবেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোনো জামানত ছাড়াই এ ঋণ দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, যাতে করে কারো বাড়ি-ঘর বিক্রি বা বন্ধক রেখে বিদেশে আসতে না হয়, সেজন্যই সরকার প্রবাসী কল্যাণব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, মালদ্বীপে যে ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের সরকার মালদ্বীপে অভিবাসী প্রত্যাশীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে দেবে। এ নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মালদ্বীপে কী ধরনের কাজের ব্যবস্থা রয়েছে, তার একটা ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিলে আরও ভাল কাজের সুযোগ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি মালদ্বীপের যারা বাংলাদেশে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছে তাদের বৃত্তি দেওয়ারও উদ্যোগ নেবে সরকার। মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সবাইকে করোনার টিকা দেওয়ায় মালদ্বীপ সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তারা এখানে কোনো তফাৎ করেনি, সবাইকে টিকা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছে। বাংলাদেশের পণ্যের একটি ভাল বাজার মালদ্বীপে রয়েছে এবং এখানে পণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণেরও বিষয়েও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তার আলাপ হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইতোপূর্বে মালদ্বীপে ডিস্যালাইনিটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নৌবাহিনীর জাহাজে করে মালদ্বীপে সুপেয় পানি এবং পানি লবণাক্ততা মুক্ত করার মেশিন পাঠানোয় বাংলাদেশের উদ্যোগের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাছাড়া করোনাকালীন জরুরি ওষুধ-পত্রও আমরা পাঠিয়েছি। আবার করোনাকালীন বিমানবাহিনীর বিমান পাঠিয়ে ১০ হাজার প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিল সরকার। তার সরকারের দুটি কার্গো বিমান কেনার পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের আশ্বস্ত করেন, তাহলে আর তাদের মালপত্র দেশে পাঠাতে কোনো সমস্যা হবে না। এ সময় করোনা মোকাবিলায় দেশের সব শ্রেণী-পেশার জনগণকে এক লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়াসহ দেশব্যাপী শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ এবং দেশের সব গৃহহীনকে অন্তত একটি করে ঘর দেওয়ার মাধ্যমে ঠিকানা গড়ে দেওয়ার পদক্ষেপের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারপ্রধান বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতার অনুসরণ করা এ পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখেই আমাদের সরকার পথ চলছে। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমাদের দেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। কাজেই সকলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলবেন। কেননা আপনাদের বংশধরেরা যাতে ভালভাবে বাঁচতে পারে, চলতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করে দিয়ে গেলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category