• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
‘মুজিবনগর দিবস’ বাঙালির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন: প্রধানমন্ত্রী শ্রম আইনের মামলায় ড. ইউনূসের জামিনের মেয়াদ বাড়ল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্ব থাকবে জনস্বাস্থ্যেও: পরিবেশ মন্ত্রী অনিবন্ধিত অনলাইনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ: তথ্য প্রতিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বিকল্পভাবে পণ্য আমদানির চেষ্টা করছি: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে: রাষ্ট্রপতি শান্তি আলোচনায় কেএনএফকে বিশ্বাস করেছিলাম, তারা ষড়যন্ত্র করেছে: সেনাপ্রধান বন কর্মকর্তার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়: পরিবেশমন্ত্রী পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম: ১৪ বছর ধরে সরানোর অপেক্ষা ভাসানটেক বস্তিতে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা হবে : মেয়র আতিক

৫০ বছরেও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গড়ে ওঠেনি: বাংলাদেশ কংগ্রেস

Reporter Name / ৭০ Time View
Update : রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেস বলেছে, ৫০ বছরেও দেশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গড়ে ওঠেনি। গত রোববার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে লিখিত প্রস্তাবে এ কথা বলেন দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম। এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ছাড়াও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে ইয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার অর্ধ-শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন আজও গড়ে ওঠেনি। ফলে দেশের প্রতিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে। ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন’ নামে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং সাড়ে তিন বছর অনায়াসেই পার করে দিয়েছে। সাধারণ হিসেবে আর মাত্র দেড় বছর পর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে যে পরিবেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল, তার সামান্যতম পরিবর্তন হয়নি। সংসদের তথাকথিত বর্তমান বিরোধী দল বা অতীতে ক্ষমতাভোগী বড় কোনো দল সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করছে না। তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বললেও রহস্যজনক কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে কোনো রকম তাগিদ দেখাচ্ছে না। মনে হচ্ছে এই অব্যবস্থা ও অনিয়মের নির্বাচন তারাও চাচ্ছেন। দলটির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও বিগত সাড়ে তিন বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। ফলে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে সাম্প্রতিক নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। কমিশনে দেওয়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রস্তাবগুলো হচ্ছে-
১. ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সংশোধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জন্ম, মৃত্যু ও বয়সের ভিত্তিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্পন্ন করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সরবরাহকৃত তথ্য অনুসারে জাতীয় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে।
২. সব ধরনের নির্বাচন পরিচালিত হতে হবে নির্বাচন কমিশনের দ্বারা এবং নির্বাহী বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে বাধ্য থাকবে। জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা/মহানগর নির্বাচন কর্মকর্তারা এবং ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত হবেন। নির্বাচনের সময়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
৩. জাতীয় বাজেটের ০.০২ শতাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ করতে হবে যা নির্বাচন কমিশন দলগুলোর মধ্যে সমহারে বণ্টন করবে। রাজনৈতিক দলগুলো ওই অর্থ সমাজ কল্যাণমূলক কাজ ও দল পরিচালনায় ব্যয় করবে। এর হিসাব বছর শেষে কমিশনে জমা দিতে হবে।
৪. নির্বাচনে সব ধরনের প্রচারণা হবে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা ও নির্দেশনা অনুসারে। প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মুদ্রণ ফি গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন সব প্রার্থীর নাম ও ছবি সম্বলিত পোস্টার মুদ্রণ করে প্রার্থীদের মধ্যে সমসংখ্যক পোস্টার বিতরণ করবে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীরা ওসই পোস্টার প্রদর্শন করবেন।
৫. ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর অবস্থান ও পরিচালনায় গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে এবং ভোট প্রদানের পর প্রতীকসহ মুদ্রিত টোকেন প্রদান পদ্ধতি চালু করতে হবে।
৬. জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন মাস পূর্বে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে এবং তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিদ্যমান সরকার ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ বলে অভিহিত হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত যাবতীয় লোকবল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কর্তৃক মনোনীত একজন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বদলীর ক্ষমতা এককভাবে আরেকজন নির্বাচন কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত থাকবে।
৭. যেকোনো নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনুমোদিত বা নিবন্ধিত দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষণ সংস্থা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অবাধ সুযোগ প্রদান করতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারীদের মতামত ও প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা প্রদান করা যাবে না।
৮. নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো ও দলীয় সদস্যদের যেকোনো বেআইনি ও অগণতান্ত্রিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে ‘পলিটিক্যাল ট্রাইব্যুনাল’ ও ‘পলিটিক্যাল আপিলেট ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করতে হবে। পলিটিক্যাল ট্রাইব্যুনালে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর যেকোনো কমিটি বা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে।
৯. নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ সৃষ্টি, রাজনৈতিক সংষ্কৃতির উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, দায়িত্ববোধ, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নরোধ, পরমৎ সহিষ্ণুতা, দেশপ্রেম, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের বিকাশ, মতামত গ্রহণ এবং নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর সম্পর্কোন্নয়নের লক্ষ্যে দলগুলোর চেয়ারম্যান ও মহাসচিব (বা সমমানের পদধারী)-দের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের যেকোন সময় দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত রোববার চারটি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানালেও একটি দল সংলাপে অংশ নেবে না বলে জানায় ইসি। গত রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করে ইসি। এনডিএম এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং পরে বাংলাদেশ কংগ্রেস ইসির বৈঠকে অংশগ্রহণ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category