জমি বিরোধে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
নওগাঁর নিয়ামতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত হাবিবুর রহমানের দুই ভাগনে ও দুলাভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তাররা হলেন—হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন (২৫) এবং ভাগনে সবুজ রানা (২০)। তাদের সবার বাড়ি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।
পুলিশ সুপার জানান, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। হাবিবুর রহমান তার বাবার কাছ থেকে বেশি জমি পাওয়ায় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এর জের ধরে হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার রাতে তারা হাবিবুরের বাড়িতে গিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৮) ঘর থেকে বের হলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরিবারের সবাইকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তাদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (১০) ও সাদিয়া আক্তার (৩)-কেও হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নেমে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে সবুজ রানা হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানায়, পুরো পরিবারকে হত্যা করলে হাবিবুরের সম্পত্তির ভাগ তারা পাবে—এই উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের এক স্বজনের বাড়িতে আগুন দেয়। বুধবার সকালে বাহাদুরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



















