ভারতে শেয়ারবাজার ও রুপির বড় পতন
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি সাশ্রয়, আমদানি হ্রাস ও স্বর্ণ কেনা কমানোর মতো পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানের পর সোমবার বড় পতনের মুখে পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজার। একই সঙ্গে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা রুপির মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত গত মাসের শেষের দিকে জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও তারা আপাতত ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।
সোমবার ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার এনএসই নিফটি-৫০ সূচক ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমে ২৩,৮১৫.৮৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে বিএসই সেনসেক্স সূচক ১.৭ শতাংশ বা প্রায় ১,২৭৬ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছে ৭৬,০১৫.২৮ পয়েন্টে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে রুপির মান শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯৫.৩১ রুপিতে দাঁড়িয়েছে, যা এক দিনে রুপির ইতিহাসের সর্বোচ্চ পতন। এর আগে গত ২৭ মার্চ এক দিনে রুপির এত বড় পতন দেখা গিয়েছিল।
এদিকে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেজরিওয়াল রিসার্চ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা অরুণ কেজরিওয়াল সোমবারের বাজার পরিস্থিতিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি বিনিয়োগকারীদের একটি ‘তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বাজারের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রচেষ্টার পরও তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নামছে না। এটি বাজারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে’।
এদিন ভারতের ১৬টি প্রধান খাতের মধ্যে ১৩টি খাতেই লোকসান দেখা গেছে। স্মল-ক্যাপ এবং মিড-ক্যাপ শেয়ারগুলোর দাম কমেছে প্রায় ১.৫ শতাংশ করে। তেলের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল-এর শেয়ারের দাম ২.৩ থেকে ৩ শতাংশ কমেছে। বাজার মূলধনের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৩.৩ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।
ভ্রমণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইন্ডিয়ান হোটেলস, লেমন ট্রি, চালেট হোটেলস, টমাস কুক ও যাত্রা অনলাইনের শেয়ারের দাম ১ থেকে ৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর শেয়ার দর কমেছে ৪.৯ শতাংশ।
সরকারের স্বর্ণ কেনা কমানোর বার্তার প্রভাবে জুয়েলারি খাতের শেয়ারগুলোতে বড় ধস নেমেছে। টাইটান, সেনকো গোল্ড এবং কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ারের দাম ৬.৭ থেকে ৯.৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। প্রত্যাশিত মুনাফা করতে না পারায় স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শেয়ার দর ৪.৫ শতাংশ কমেছে, যার প্রভাবে সরকারি ব্যাংকগুলোর সূচক কমেছে ২.৫ শতাংশ।
তবে মন্দা বাজারের মধ্যেও হুন্দাই মোটর ইন্ডিয়ার শেয়ারের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ত্রৈমাসিক মুনাফা বৃদ্ধির খবরে এগ্রো কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান ইউপিএল-এর শেয়ার দর বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ।
সূত্র: ডন





















