ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ | ই-পেপার

শান্ত-মুমিনুলে ভর করে চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৭৯

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না! আজ দিনের শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তবে সেই ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তাদের দৃঢ় জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাংলাদেশ।

যদিও বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাওয়া ইনিংসে বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা। এতে দিনের দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি ভেসে যায় এবং পরে খেলা শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে পঞ্চম দিন পর্যন্ত।

দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২ রান। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ায় সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রান। হাতে আছে আরও ৭ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ এবং মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করবেন।

আগের দিন অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। দিনের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জয়। আব্বাস আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি এই ওপেনার। এরপর ইনিংসের ১১তম ওভারে হাসান আলির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম। মাত্র ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেই অবস্থায় দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তারা পাকিস্তানি বোলারদের হতাশ করেন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১০৫ রান। এই জুটিই বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। বৃষ্টির বিরতির পর আরও সতর্ক হয়ে ব্যাট করেন মুমিনুল। ১০৫ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তবে অর্ধশতক পূরণের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রান করে আউট হওয়ার আগে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিগত মাইলফলকও।

নোমান আলীর বলে এক রান নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এই অর্জন গড়লেন তিনি। এর আগে শুধু মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন। ৭৬ টেস্টের ১৪১ ইনিংসে ১৩ সেঞ্চুরি ও ২৭ ফিফটিতে এই কীর্তি গড়েছেন মুমিনুল। একই সঙ্গে এটি ছিল তার টানা পঞ্চম টেস্ট ফিফটি।

অন্য প্রান্তে শান্ত ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল। অধিনায়ক হিসেবে ইনিংস গড়ার পাশাপাশি দলের লিডও বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত। তার সঙ্গে আছেন মুশফিকুর রহিম।

বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৪৮.৪ ওভার। এই সময়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ১৪৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করেছিল, জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ৩৮৬ রানে। ফলে শেষ দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে লিড আরও বড় করে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া।

পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে, সকাল পৌনে ১০টায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩/১০

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬/১০

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৭/০) ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (জয় ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৫৮*, মুশফিক ১৬*; আফ্রিদি ১২-২-৩৯-১, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১১.৩-২-২৩-১, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ৮-০-৩২-০)

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্ত-মুমিনুলে ভর করে চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের লিড ১৭৯

আপডেট সময়ঃ ০৫:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না! আজ দিনের শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তবে সেই ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তাদের দৃঢ় জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাংলাদেশ।

যদিও বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাওয়া ইনিংসে বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা। এতে দিনের দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি ভেসে যায় এবং পরে খেলা শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে পঞ্চম দিন পর্যন্ত।

দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৫২ রান। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ায় সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রান। হাতে আছে আরও ৭ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ এবং মুশফিকুর রহিম ১৬ রানে অপরাজিত থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করবেন।

আগের দিন অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। দিনের দ্বিতীয় বলেই চার মেরে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি জয়। আব্বাস আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি এই ওপেনার। এরপর ইনিংসের ১১তম ওভারে হাসান আলির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাদমান ইসলাম। মাত্র ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেই অবস্থায় দলের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তারা পাকিস্তানি বোলারদের হতাশ করেন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ১০৫ রান। এই জুটিই বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। বৃষ্টির বিরতির পর আরও সতর্ক হয়ে ব্যাট করেন মুমিনুল। ১০৫ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তবে অর্ধশতক পূরণের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রান করে আউট হওয়ার আগে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিগত মাইলফলকও।

নোমান আলীর বলে এক রান নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এই অর্জন গড়লেন তিনি। এর আগে শুধু মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবাল এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন। ৭৬ টেস্টের ১৪১ ইনিংসে ১৩ সেঞ্চুরি ও ২৭ ফিফটিতে এই কীর্তি গড়েছেন মুমিনুল। একই সঙ্গে এটি ছিল তার টানা পঞ্চম টেস্ট ফিফটি।

অন্য প্রান্তে শান্ত ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল। অধিনায়ক হিসেবে ইনিংস গড়ার পাশাপাশি দলের লিডও বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত। তার সঙ্গে আছেন মুশফিকুর রহিম।

বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৪৮.৪ ওভার। এই সময়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ১৪৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করেছিল, জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ৩৮৬ রানে। ফলে শেষ দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে লিড আরও বড় করে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া।

পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে, সকাল পৌনে ১০টায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩/১০

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬/১০

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৭/০) ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (জয় ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৫৮*, মুশফিক ১৬*; আফ্রিদি ১২-২-৩৯-১, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১১.৩-২-২৩-১, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ৮-০-৩২-০)