ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ | ই-পেপার

বান্দরবানে ওয়ার্ল্ড ভিশন উদ্যোগে তিন’দিন ব্যাপী প্রাণীর ভ্যাকসিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান প্রতিনিধি: মঙ্গলবার ১৯মে -হতে ২১মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বান্দরবান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভাবেই ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ হলে তিন দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্যের সুরক্ষা, খামারিদের জীবিকার নিরাপত্তা ও পশু-পাখি থেকে মানুষের রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সারা দেশের মতো প্রাণীদের জন্য ‘ভ্যাকসিনেশন টিকার চালু করতে যাচ্ছে বান্দরবান শাখার গ্রাউস- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এর অংশ হিসেবে বুধবার বান্দরবানে গ্রাউস- ওয়ার্ল্ড ভিশন উদ্যাগে ‘অ্যানিমেল ভ্যাকসিনেশন ভ্যাকসিন’ বা প্রাণীদের টিকা তৈরির বিষয়ে একটি পর্যালোচনায় এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রাউস-বান্দরবান সদর এরিয়াও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাউস- বান্দরবান সদর জানায়, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং পোষা প্রাণীর কার্যকর টিকাদান ব্যবস্থাপনায় নির্দেশিকা’ তৈরির চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্রাউস- বান্দরবান সদর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বান্দরবান শাখার বিশেষজ্ঞ, ডা,জুলহাজ আহমেদ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। বান্দরবান পার্বত্য জেলা। এই দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্ধোধন করেন।

শিশুদের জন্য ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ থাকলেও, প্রাণীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা এতদিন ছিল না বাংলাদেশে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশ সংক্রামক ব্যাধির অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যার প্রায় ৭০ শতাংশই প্রাণীবাহিত রোগ। অধিক জনসংখ্যা, মানুষ-প্রাণীর ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের কারণে এখানে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা), জলাতঙ্ক ও অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক বেশি। একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ বা রেকর্ড-কিপিং সিস্টেম না থাকায় রোগ মোকাবিলা বা নজরদারি করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।

এ সমস্যা সমাধানেই গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও পোষা প্রাণীর জন্য আলাদা টিকাদান কার্ড বা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাণীর পরিচয়, টিকাদানের ইতিহাস ও পরবর্তী টিকার সময়সূচি লেখা হবে হবে, যা সেবার সঠিক ট্র্যাকিং এবং সমন্বয়ে সহায়তা করবে।

এর ফলে প্রাণীর মৃত্যুহার কমবে, চিকিৎসার খরচ কমবে ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে মনে করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মোঃ সেলিম উদ্দিন উপসহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার ম্যানেজার আশীষ কুমার হাওলাদারও টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট এম এ আজিজ গ্রাউসের প্রোগ্রাম, টুলু মার্মাসহ উপসহকারী প্রাণীর সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সেলিম উদ্দিন ও মংক্য চিং মার্মা জুনিয়র কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার, গ্রাউস বান্দরবান সদর এরিয়া প্রোগ্রাম, বান্দরবান সদর।

এসময় প্রধান অতিথি গ্রাউস-বান্দরবান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ডা,জুলহাস আহমেদ বলেন, ‘প্রাণীদের ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় টিকাদান সক্ষমতা মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি। টিকাদান ব্যবস্থা শক্তিশালী না করলে প্রাণিসম্পদ খাত তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারবে না।’

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতের জিডিপিতে প্রায় ১ দশমিক ৮১ শতাংশ অবদান এবং প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ সরাসরি এই খাতের সঙ্গে জড়িত। তবে গ্রামীণ খামারিদের মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের হার মাত্র ২০ শতাংশের মতো।

গ্রাউস-বান্দরবান সদর এরিয়া, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তারা বক্তব্যতে ‘সম্প্রতি বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব আমাদের শিখিয়েছে যে টিকাদানের ঘাটতি কীভাবে মানুষ ও প্রাণী উভয়ের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। প্রাণীদের টিকা দেওয়া মানে শুধু তাদের রক্ষা করা নয়, বরং পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যকেও রক্ষা করা।’

আরও এদিকে গ্রাউস- বান্দরবান সদর এরিয়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গবেষক কর্মকর্তা মোঃ সেলিম উদ্দিন উপসহকারী প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর বান্দরবান সদর তিনি বলেন, ‘নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে খামারিরা সহজে টিকার হিসাব রাখতে পারবেন, যা তাদের প্রাণীর রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে। এটি শেষ পর্যন্ত খামারি এবং ভোক্তা—উভয়কেই লাভবান করবে।’

এসময় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কে বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকার ভ্যাকসিন ইপিআই মতো হবে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এ সংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ থাকবে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বান্দরবানে ওয়ার্ল্ড ভিশন উদ্যোগে তিন’দিন ব্যাপী প্রাণীর ভ্যাকসিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ

আপডেট সময়ঃ ১০:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান প্রতিনিধি: মঙ্গলবার ১৯মে -হতে ২১মে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বান্দরবান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভাবেই ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ হলে তিন দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্যের সুরক্ষা, খামারিদের জীবিকার নিরাপত্তা ও পশু-পাখি থেকে মানুষের রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সারা দেশের মতো প্রাণীদের জন্য ‘ভ্যাকসিনেশন টিকার চালু করতে যাচ্ছে বান্দরবান শাখার গ্রাউস- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এর অংশ হিসেবে বুধবার বান্দরবানে গ্রাউস- ওয়ার্ল্ড ভিশন উদ্যাগে ‘অ্যানিমেল ভ্যাকসিনেশন ভ্যাকসিন’ বা প্রাণীদের টিকা তৈরির বিষয়ে একটি পর্যালোচনায় এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রাউস-বান্দরবান সদর এরিয়াও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাউস- বান্দরবান সদর জানায়, এ কর্মসূচির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশে গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি এবং পোষা প্রাণীর কার্যকর টিকাদান ব্যবস্থাপনায় নির্দেশিকা’ তৈরির চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্রাউস- বান্দরবান সদর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বান্দরবান শাখার বিশেষজ্ঞ, ডা,জুলহাজ আহমেদ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর। বান্দরবান পার্বত্য জেলা। এই দুই দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্ধোধন করেন।

শিশুদের জন্য ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ থাকলেও, প্রাণীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা এতদিন ছিল না বাংলাদেশে।

সংস্থাটি আরও জানায়, বাংলাদেশ সংক্রামক ব্যাধির অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, যার প্রায় ৭০ শতাংশই প্রাণীবাহিত রোগ। অধিক জনসংখ্যা, মানুষ-প্রাণীর ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের কারণে এখানে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা), জলাতঙ্ক ও অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক বেশি। একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ বা রেকর্ড-কিপিং সিস্টেম না থাকায় রোগ মোকাবিলা বা নজরদারি করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে।

এ সমস্যা সমাধানেই গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি ও পোষা প্রাণীর জন্য আলাদা টিকাদান কার্ড বা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রাণীর পরিচয়, টিকাদানের ইতিহাস ও পরবর্তী টিকার সময়সূচি লেখা হবে হবে, যা সেবার সঠিক ট্র্যাকিং এবং সমন্বয়ে সহায়তা করবে।

এর ফলে প্রাণীর মৃত্যুহার কমবে, চিকিৎসার খরচ কমবে ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে মনে করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মোঃ সেলিম উদ্দিন উপসহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার ম্যানেজার আশীষ কুমার হাওলাদারও টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট এম এ আজিজ গ্রাউসের প্রোগ্রাম, টুলু মার্মাসহ উপসহকারী প্রাণীর সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ সেলিম উদ্দিন ও মংক্য চিং মার্মা জুনিয়র কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার, গ্রাউস বান্দরবান সদর এরিয়া প্রোগ্রাম, বান্দরবান সদর।

এসময় প্রধান অতিথি গ্রাউস-বান্দরবান জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ডিএলও) জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ডা,জুলহাস আহমেদ বলেন, ‘প্রাণীদের ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় টিকাদান সক্ষমতা মাত্র ১০ শতাংশের কাছাকাছি। টিকাদান ব্যবস্থা শক্তিশালী না করলে প্রাণিসম্পদ খাত তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারবে না।’

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতের জিডিপিতে প্রায় ১ দশমিক ৮১ শতাংশ অবদান এবং প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ সরাসরি এই খাতের সঙ্গে জড়িত। তবে গ্রামীণ খামারিদের মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের হার মাত্র ২০ শতাংশের মতো।

গ্রাউস-বান্দরবান সদর এরিয়া, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তারা বক্তব্যতে ‘সম্প্রতি বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব আমাদের শিখিয়েছে যে টিকাদানের ঘাটতি কীভাবে মানুষ ও প্রাণী উভয়ের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। প্রাণীদের টিকা দেওয়া মানে শুধু তাদের রক্ষা করা নয়, বরং পরিবেশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যকেও রক্ষা করা।’

আরও এদিকে গ্রাউস- বান্দরবান সদর এরিয়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গবেষক কর্মকর্তা মোঃ সেলিম উদ্দিন উপসহকারী প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর বান্দরবান সদর তিনি বলেন, ‘নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে খামারিরা সহজে টিকার হিসাব রাখতে পারবেন, যা তাদের প্রাণীর রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হবে। এটি শেষ পর্যন্ত খামারি এবং ভোক্তা—উভয়কেই লাভবান করবে।’

এসময় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বান্দরবান শাখার এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কে বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকার ভ্যাকসিন ইপিআই মতো হবে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এ সংক্রান্ত একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ থাকবে।’