ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

নিউইয়র্কে হামলার ঘটনায় সরকারের গভীর ‘দুঃখ প্রকাশ’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৪১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে গত সোমবার নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া একটি নিন্দনীয় ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই হামলা ঘটিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সমর্থকরা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই জঘন্য ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সেই বিষাক্ত ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা, যা হাসিনার শাসনামলে ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ—এই অশুভ উত্তরাধিকার ভেঙে দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।’

এতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধি দলকে প্রথমে ভিভিআইপি গেট দিয়ে নেওয়া হয় এবং নিরাপদ যানবাহনে তোলা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে বিকল্প পথে বের হতে বাধ্য হন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ভিভিআইপি প্রটোকল ও নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হলেও, দুঃখজনকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন। ঘটনার পরপরই নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি দলের সবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার অটল। বাংলাদেশ কিংবা দেশের বাইরে, যেখানেই হোক না কেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো ঘটনা বরদাশত করা হবে না। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

নিউইয়র্কে হামলার ঘটনায় সরকারের গভীর ‘দুঃখ প্রকাশ’

আপডেট সময়ঃ ০৮:৪১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছে যে গত সোমবার নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া একটি নিন্দনীয় ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই হামলা ঘটিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সমর্থকরা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই জঘন্য ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সেই বিষাক্ত ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা, যা হাসিনার শাসনামলে ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ—এই অশুভ উত্তরাধিকার ভেঙে দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।’

এতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গী রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধি দলকে প্রথমে ভিভিআইপি গেট দিয়ে নেওয়া হয় এবং নিরাপদ যানবাহনে তোলা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে বিকল্প পথে বের হতে বাধ্য হন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ভিভিআইপি প্রটোকল ও নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানানো হলেও, দুঃখজনকভাবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এর ফলে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন। ঘটনার পরপরই নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি দলের সবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবারও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন রক্ষায় আমাদের অঙ্গীকার অটল। বাংলাদেশ কিংবা দেশের বাইরে, যেখানেই হোক না কেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো ঘটনা বরদাশত করা হবে না। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনি ও কূটনৈতিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।