গর্ভবতী নারীও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন সেনা রিজিয়ন
- আপডেট সময়ঃ ০৪:১৫:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩৬ বার পড়া হয়েছে
মোঃ জুয়েল হোসাইন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: রবিবার( ০২ আগস্ট) সকালে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের আয়োজনে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে, সদর দপ্তর, ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড, বান্দরবান সেনানিবাসের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের আওতায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১১টি সম্প্রদায়ের সর্বমোট ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছে।
বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের একটি দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চল, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত এবং অনেক পাড়া মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন ও দূরবর্তী। দুর্গম পাহাড়ি পথ, দীর্ঘ দুরত্ব ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে এসব এলাকার জনগণের জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। জরুরি পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীকে সময়মতো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে সাধারণ রোগও জটিল ও প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা এবং গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন ঝুঁকি শনাক্তকরণ, নিরাপদ প্রসব এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়, যা মা ও শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। এই বাস্তবতা অনুধাবন করে বান্দরবান রিজিয়ন একটি মানবিক, জনকল্যাণমূলক ও দুরদর্শী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি পাড়া থেকে শিক্ষিত ও অগ্রহী নারীকে নির্বাচন করে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ এলাকায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সহায়তা করবে, স্বাহ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে রোগীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি সময়োপযোগী মানবিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।









