সরকারের পে স্কেল ঘোষণার দিনে বিএডিসি’র বেতন গ্রেড অবনমন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পরিপত্র জারি
- আপডেট সময়ঃ ০৩:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে
কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-র রয়েছে অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। কৃষির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ: যেমন মানসম্পন্ন বীজ, নন-ইউরিয়া সার ও সেচ সুবিধাদি সারাদেশের কৃষকদের দোরগোড়ায় যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটি প্রতি উৎপাদন বর্ষে গড়ে বিভিন্ন ফসলের প্রায় ১.৫০ লাখ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনপূর্বক সরবরাহ করে থাকে। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন বিভিন্ন প্রকারের সার আমদানি করে কৃষকের চাহিদা মোতাবেক বিতরণসহ নিরাপদ মজুদ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কার্যকরভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে ভূউপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করে বিভিন্ন সময়োপযোগী সেচ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকদের নিকট সেচ সুবিধাদি প্রদানপূর্বক দক্ষ সেচ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বিএডিসি বদ্ধপরিকর।
সরকার আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এবং বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রমকে গতিশীল, টেকসই ও সুসংহত করতে সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএডিসি। দেশে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনসহ এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে কৃষকদের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী পাটবীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চলতি উৎপাদন বর্ষ হতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হিসেবে চলমান রয়েছে। অন্যদিকে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সারা দেশে ২০,০০০ কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উক্ত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএডিসিকে প্রায় ৯,০০০ কিলোমিটার খাল-নালা পুনঃখননের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিগত অর্থবছরে প্রায় ৮৫৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
যে সময়ে বিএডিসি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ঠিক সেই সময়ে বিএডিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অবনমনসহ অন্যান্য বিষয়ে নিয়ে পরিপত্র জারিতে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত প্রাপ্ত বেতনগ্রেড অবনমনসহ নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক ও অগ্রহণযোগ্য শর্ত জুড়িয়ে দিয়ে একটি পরিপত্র বিগত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করে। উক্ত পরিপত্রে ৯১টি ক্যাটাগরির ৪,৬৯৯টি পদের বেতনগ্রেড ও আনুষঙ্গিক বিষয়াবলী নির্ধারণে স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
উক্ত পরিপত্রটি জারি হওয়ার পরপরই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রীতিমতো স্তব্ধ ও হতবাক হয়ে পড়েছেন। একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের বেতনগ্রেড নিয়ে টানাটানির বিষয়টি রীতিমতো পরিতাপ ও লজ্জার বিষয় মর্মে মানববন্ধনে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অসন্তোষ ও উষ্মা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, বিএডিসি’র অনুমোদিত মোট জনবল ৬,৮০০ জন, এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন প্রায় ২৭০০ জন। এই অপ্রতুল জনবল দিয়ে সরকারের সুনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে বিএডিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতা ও কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিলেও এর পুরস্কার হিসেবে বিএডিসি’র কপালে জুটল বেতনগ্রেড অবনমনের মতো মর্যাদাহানিকর শাস্তি।
১৯৬১ সালে অর্ডিন্যান্স (Ordinance) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটির নাম পরিবর্তন করে ১৯৭৬ সালে বিএডিসি হিসেবে আখ্যায়িত সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি সবুজ বিপ্লব ঘটাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের সংবিধানের২৯(১) ধারা, বিএডিসি আইন ২০১৮, ১৯৯০ সালের অনুমোদিত প্রবিধানমালা এবং ১৯৯৯ সালের গেজেটের ব্যত্যয় ঘটিয়ে স্কেল অবনমনসহ অন্যান্য বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত অফিস আদেশ বাতিলের দাবিতে যৌক্তিক আন্দোলনের সর্বাত্মক ঘোষণা দিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গেজেট বাতিলের কার্যসূচির অংশ হিসেবে আজ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রোজ মঙ্গলবার দিলকুশাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ দেশব্যাপী সকল কার্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতিসহ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিপত্র বাতিল করে যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য কর্মসূচি পালনসহ সকল কার্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশে নতুন নিয়োগযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত মেনে বিএডিসিকে নিয়োগবিধি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা চূড়ান্ত করার আগে অর্থ বিভাগের মতামত ও সম্মতি এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ১৪ জানুয়ারি জারি করা আগের আদেশটি বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন আদেশে বিএডিসি’র প্রায় সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন গ্রেড এক ধাপ কমানো হয়েছে।











