• শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা বেনজীরের অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী দুয়েক সময় আমাদের ট্রলার-টহল বোটে মিয়ানমারের গুলি লেগেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সহকর্মীকে হত্যাকারী কনস্টেবল মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি পরিবারের বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী চেকিংয়ের জন্য গাড়ি থামানো চাঁদাবাজির অংশ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা কতজন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট বান্দরবান থেকে কেএনএফের ৩১ জনকে পাঠানো হলো চট্টগ্রাম কারাগারে

মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক ধীরগতির যান চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা

Reporter Name / ২২৫ Time View
Update : বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার, ইজিবাইক মতো ধীরগতির যান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর ওসব যানের সাথে যাত্রীবাহী বাস কিংবা পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনের সংঘর্ষে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-কুমিল্লা সব সড়কের চিত্রই প্রায় এক। অধিকাংশ মহাসড়কে সার্ভিস রোড না থাকায় স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতে মানুষ এসব পরিবহনকে বেছে নিচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় সার্ভিস রোড থাকলেও আইনের কড়াকড়ি না থাকায় ওসব যানবাহন নিশ্চিন্তে মহাসড়কে চলছে। ফলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ, ঘটছে প্রাণহানি। বিশেষজ্ঞ এবং পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্যানুযায়ী গত বছর দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৪ হাজার ৪৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ধীরগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১ হাজার ২২১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইজিবাইক, অটোচার্জার, নসিমন, করিমনের কারণে ৩১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। রিকশা ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটেছে ১০১টি দুর্ঘটনা। সাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে ৬৮টি, লেগুনার সঙ্গে ১১টি, ট্রাক্টর দিয়ে ১০৮টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা-বেবিট্যাক্সির সংঘর্ষে ৩৯৫টি ও অন্যান্য তিন চাকার যানবাহনে ২২৬টি সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর ২০১৯ সালে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৫ হাজার ৬৪৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে ধীরগতির যানবাহনের কারণে ১ হাজার ৭৫৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইজিবাইক, অটোচার্জার, নসিমন, করিমনের কারণে ২৩৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। রিকশা ভ্যানের সংঘর্ষে ঘটেছে ১৫২টি দুর্ঘটনা। সাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০৮টি, লেগুনার সঙ্গে ২৬টি, ট্রাক্টর দিয়ে ১৩৩টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা-বেবিট্যাক্সির সংঘর্ষে ৭৭৩টি ও অন্যান্য তিন চাকার যানবাহনে ৩২৯টি দুর্ঘটনা সড়কে ঘটেছে। অথচ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-তে মহাসড়কের ব্যবহার সম্পর্কিত ৪৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে- জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক সাধারণত দ্রুতগতির মোটরযান চলাচলে ব্যবহৃত হবে। এ ক্ষেত্রে জেলা মহাসড়ক থেকে আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে জাতীয় মহাসড়কে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুতগতির মোটরযান অগ্রাধিকার পাবে। এ আইন অমান্যকারী ব্যক্তি অনধিক এক মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কাটা হবে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)সারা দেশে অবৈধভাবে চলা বিদ্যুৎচালিত যানবাহন, বিশেষ করে ইজিবাইক, ভটভটি, নসিমনকে শৃঙ্খলায় আনতে প্রায় দুই বছর আগে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছিল। গত সেপ্টেম্বরে বিআরটিএ বুয়েটের সঙ্গে আলোচনা করে ওই খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে ২৮ কিলোমিটার অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন। মহাসড়কে ওসব গাড়ি বেপরোয়াভাবে চলাচলের ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। ওই সড়কে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সঙ্গে গত ৬ মাসে দুই শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। থানা ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্যানুযায়ী গত দুই মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাতে নিহত হয়েছে ১১ জন আর আহত প্রায় অর্ধশতাধিক। ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৮ কিলোমিটার রাস্তায় থ্রি-হুইলার রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি। গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, টঙ্গী-কালীগঞ্জ, নবীনগর-চন্দ্রা, বিশ্ব ইজতেমা মহাসড়কে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ তিন চাকার যানবাহন। অবৈধ ওসব যান মহাসড়কে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গাজীপুর জেলায় জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা মহাসড়কসহ মোট ৪০১ দশমিক ৩৩৪ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। মহাসড়কে প্রবেশের ১১৫টি পয়েন্ট রয়েছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের জনবল কম থাকায় ৮০টি ডিউটি পোস্টে ফোর্স দেয়া হয়। আর জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের আওতায় লোকবল কম থাকায় সব পয়েন্টে সব সময় পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হয় না। ওই ফাঁকে অবৈধ অটোরিকশা বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মহাসড়কে চলে আসে। মূলত সার্ভিস লেন না থাকায় মহাসড়কে দিয়ে ধীরগতির ওসব যানবাহনে যাতায়াত করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category