ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ই-পেপার

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে যেভাবে হত্যা করা হয়

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৪৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাব। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল একটি সুসংগঠিত ছিনতাইকারী চক্র। চক্রটি বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মারধরের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

কুমিল্লায় আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন
গত ২৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় পৌঁছান বুলেট বৈরাগী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারী চক্রটি তাকে টার্গেট করে। তারা তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে প্রচণ্ড মারধর করে এবং চলন্ত সিএনজি থেকে নিচে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকালে কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা মূলত গভীর রাতে মহাসড়কের পাশে নির্জন স্থানে বাস থেকে নামা দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে যেভাবে হত্যা করা হয়

আপডেট সময়ঃ ০৬:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র‍্যাব। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল একটি সুসংগঠিত ছিনতাইকারী চক্র। চক্রটি বুলেট বৈরাগীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মারধরের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

কুমিল্লায় আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন
গত ২৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় পৌঁছান বুলেট বৈরাগী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারী চক্রটি তাকে টার্গেট করে। তারা তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে প্রচণ্ড মারধর করে এবং চলন্ত সিএনজি থেকে নিচে ফেলে দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকালে কোটবাড়ি এলাকার একটি হোটেলের পাশ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার অপরাধী চক্রের সদস্য। তারা মূলত গভীর রাতে মহাসড়কের পাশে নির্জন স্থানে বাস থেকে নামা দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।