জাঁকজমক আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন—উন্নয়ন প্রকল্পে আশার আলো, তবে চ্যালেঞ্জ কি কাটছে?
- আপডেট সময়ঃ ০৭:১৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ২ বার পড়া হয়েছে
উৎসবমুখর পরিবেশে ১৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি থাকলেও, উৎসবের আড়ালে বন্দরের বাস্তব সক্ষমতা ও চলমান চ্যালেঞ্জ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন , শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজ ও জলযান থেকে একযোগে এক মিনিট হুইসেল বাজিয়ে দিবসটির সূচনা করা হয়। ধর্মীয় আচার, দোয়া ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে প্রয়াত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মরণ করা হয়। বন্দরের হাসপাতালের রোগীদের জন্য বিশেষ খাবার, শিক্ষার্থীদের জন্য ভিডিও প্রদর্শনী—সব মিলিয়ে আয়োজন ছিল বর্ণিল ,
রোববার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে, বাড়বে কর্মসংস্থান ,
বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ হ্যান্ডেল করলেও এখনও জট, খালাস বিলম্ব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটেনি , নতুন টার্মিনাল, ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিল্ডিংসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন থাকলেও সেগুলোর গতি ও কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে মিশ্র মত ,
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আধুনিকায়নের উদ্যোগ থাকলেও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস সমন্বয় এবং পরিবহন সংযোগে দুর্বলতা রয়ে গেছে , ফলে বন্দরের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা , সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বড় বিনিয়োগ ও প্রকল্পের কথা বললেও, বাস্তবে সময়মতো প্রকল্প শেষ হওয়া, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ,
১৩৯ বছরে পা রাখা এই বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হলেও, টেকসই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন শুধু উদযাপন নয়—কার্যকর সংস্কার, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিমূলক বাস্তবায়ন ,
উৎসবের আলো ঝলমলে আয়োজনের মধ্যেও প্রশ্ন একটাই—চট্টগ্রাম বন্দর কি সত্যিই ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত, নাকি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিই রয়ে যাবে কাগজে-কলমে?
























