ঢাকা, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ই-পেপার

নৈশ ভোজে গুলি, ভেঙে না পড়ে যা বললেন ট্রাম্প

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৮ বার পড়া হয়েছে

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশ ভোজের অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, গুলির ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে- এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তিনি ‘মানসিকভাবে ভেঙে পড়া’ ব্যক্তি নন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। এটা বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন হলেও আমি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনই যাপন করি।

আমি মনে করি, আমি পরিস্থিতিটা যতটা ভালোভাবে সামলানো যায়, ততটাই সামলাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক মানুষ আছে যারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমি সে রকম নই। আমি বিষয়গুলো যেমন আছে তেমনভাবেই নিই।

আমি দেশের জন্য কাজ করছি, অন্য কোনও কারণে নয়।’

ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রশংসাও করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমাকে অনেকবার বলেছেন- তুমি ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে আছো। তবে তার জন্যও বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বসে ছিলাম।

একটি শব্দ শুনলাম- ভাবছিলাম এটা হয়তো কোনও ট্রে পড়ে যাওয়ার শব্দ, কিন্তু তা ছিল না। আবারও বলছি, খুব সাহসী কিছু মানুষ অসাধারণ কাজ করেছেন। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত।’

যদিও সন্দেহভাজন হামলাকারীর তার কাছে পৌঁছাতে অনেক পথ অতিক্রম করতে হতো উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশ ভোজে গুলির ঘটনার আগে কোনও ধরনের হুমকির বিষয়ে তিনি বা তার দল অবগত ছিলেন না। আমাদের কাছে কোনও পূর্ব সতর্কতা ছিল না।

আমরা কিছুই জানতাম না।’

টার্গেট করা হয়েছিল কি না- এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘এরা পাগল ধরনের মানুষ, আপনি কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না। তবে সে আমার থেকে অনেক দূরে ছিল।’

সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি বলেন, ‘অনেক নিরাপত্তাকর্মী সাধারণ অতিথির ছদ্মবেশে টেবিলে বসে ছিলেন। পুরো কক্ষজুড়ে আমাদের লোক ছিল, তাই তার জন্য আমার কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল।’

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে নৈশ ভোজের সময় বিকট গুলির শব্দের পর দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে। যে হোটেলে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটির নাম ওয়াশিংটন হিলটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, সাত থেকে আটটি গুলির শব্দ শোনার পর প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি এবং অন্য অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। মূলত ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সঙ্গে নৈশ ভোজে অংশ নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রচণ্ড গুলির শব্দের সময় সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা চিৎকার করে সবাইকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে বলেন।

এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের কেউ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন, কেউ আবার আশ্রয় নেন টেবিলের নিচে। পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশাপাশি এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

পরবর্তীতে আটক করা হয় সন্দেহভাজন শ্যুটারকে। তাকে আদালতে তোলা হবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস। সেখানে তার বিরুদ্ধে দুটি চার্জ আনা হয়েছে। এই গুলির ঘটনার পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নৈশ ভোজে গুলি, ভেঙে না পড়ে যা বললেন ট্রাম্প

আপডেট সময়ঃ ১২:৫৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশ ভোজের অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনার পর নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব অত্যন্ত বিপজ্জনক।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, গুলির ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে- এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তিনি ‘মানসিকভাবে ভেঙে পড়া’ ব্যক্তি নন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। এটা বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন হলেও আমি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনই যাপন করি।

আমি মনে করি, আমি পরিস্থিতিটা যতটা ভালোভাবে সামলানো যায়, ততটাই সামলাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক মানুষ আছে যারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। আমি সে রকম নই। আমি বিষয়গুলো যেমন আছে তেমনভাবেই নিই।

আমি দেশের জন্য কাজ করছি, অন্য কোনও কারণে নয়।’

ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রশংসাও করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি আমাকে অনেকবার বলেছেন- তুমি ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বে আছো। তবে তার জন্যও বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বসে ছিলাম।

একটি শব্দ শুনলাম- ভাবছিলাম এটা হয়তো কোনও ট্রে পড়ে যাওয়ার শব্দ, কিন্তু তা ছিল না। আবারও বলছি, খুব সাহসী কিছু মানুষ অসাধারণ কাজ করেছেন। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত।’

যদিও সন্দেহভাজন হামলাকারীর তার কাছে পৌঁছাতে অনেক পথ অতিক্রম করতে হতো উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশ ভোজে গুলির ঘটনার আগে কোনও ধরনের হুমকির বিষয়ে তিনি বা তার দল অবগত ছিলেন না। আমাদের কাছে কোনও পূর্ব সতর্কতা ছিল না।

আমরা কিছুই জানতাম না।’

টার্গেট করা হয়েছিল কি না- এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘এরা পাগল ধরনের মানুষ, আপনি কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না। তবে সে আমার থেকে অনেক দূরে ছিল।’

সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন তিনি বলেন, ‘অনেক নিরাপত্তাকর্মী সাধারণ অতিথির ছদ্মবেশে টেবিলে বসে ছিলেন। পুরো কক্ষজুড়ে আমাদের লোক ছিল, তাই তার জন্য আমার কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল।’

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে নৈশ ভোজের সময় বিকট গুলির শব্দের পর দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে। যে হোটেলে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটির নাম ওয়াশিংটন হিলটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, সাত থেকে আটটি গুলির শব্দ শোনার পর প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি এবং অন্য অতিথিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। মূলত ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সঙ্গে নৈশ ভোজে অংশ নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রচণ্ড গুলির শব্দের সময় সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা চিৎকার করে সবাইকে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে বলেন।

এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের কেউ মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন, কেউ আবার আশ্রয় নেন টেবিলের নিচে। পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশাপাশি এফবিআই প্রধান কাশ প্যাটেলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

পরবর্তীতে আটক করা হয় সন্দেহভাজন শ্যুটারকে। তাকে আদালতে তোলা হবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অ্যাটর্নি অফিস। সেখানে তার বিরুদ্ধে দুটি চার্জ আনা হয়েছে। এই গুলির ঘটনার পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।