• শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

সাদা পোশাকে স্বস্তিতে আইনজীবীরা

Reporter Name / ৮০ Time View
Update : রবিবার, ১৪ মে, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে গত শনিবার অধস্তন আদালতের বিচারক ও আইনজীবীদের কালো কোট এবং গাউন পরিধান করার আবশ্যকতা নেই বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পাল্টে গেছে ঢাকা অধস্তন আদালতের চিত্র। কালো কোট-গাউনের বদলে আইনজীবীদের গায়ে দেখা গেছে সাদা শার্ট ও সালোয়ার কামিজ। আজ রোববার ঢাকার অধস্তন আদালতে দেখা গেছে, তীব্র গরমে হাইকোর্ট প্রশাসনের এই বিজ্ঞপ্তি আইনজীবীদের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে। আইনজীবীরা সাদা শার্ট ও টাই পরে শুনানি করছেন। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে অধস্তন আদালতের আইনজীবী মিয়া হোসেন বলেন, এই তীব্র গরমে কালো কোট ও গাউন পরে আমাদের শুনানি করতে অনেক কষ্ট হয়। দেরিতে হলেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং প্রতিবছর এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ জানাই। ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মুন্নি আক্তার বলেন, কোট-গাউন পরার আবশ্যকতা উঠিয়ে দেওয়া আইন অঙ্গনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রতি বছর গরমের সময়ে যেন এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে সেই কামনা করছি। এর আগে দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে অধস্তন আদালতের বিচারক ও আইনজীবীদের কালো কোট এবং গাউন পরিধান করার আবশ্যকতা নেই বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। শনিবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নির্দেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. গোলাম রব্বানীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত, ট্রাইব্যুনালগুলোর বিচারক এবং আইনজীবীদের মামলা শুনানিকালে পরিধেয় পোশাক সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশব্যাপী চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের আলোচনাক্রমে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের সব অধস্তন দেওয়ান ও ফৌজদারি আদালত, ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং আইনজীবী ক্ষেত্রমতো সাদা ফুল শার্ট বা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ ও সাদা নেক ব্যাড বা কালো টাই পরিধান করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কালো কোট এবং গাউন পরিধান করার আবশ্যকতা নেই। এ নির্দেশনা ১৪ মে থেকে পরবর্তী নির্দেশ প্রদান না করা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে উচ্চ আদালতের আইনজীবী ও বিচারকদের ড্রেস কোড অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানানো হয়। গত ১১ মে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি গরমে আইনজীবীদের ড্রেস কোড পরিবর্তনে প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ জানান। উচ্চ তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে আইনজীবী ও বিচারকদের জন্য গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ভিন্ন ভিন্ন ড্রেস কোড নির্ধারণের জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মূলত একটি গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। বছরের প্রায় ৮ মাস উচ্চ তাপমাত্রা থাকে। আইনজীবীদের আদালতে পরিধানের জন্য সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস, ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ রুলস ১৯৭৩ এবং আপিল বিভাগের রুলস ১৯৮৮-তে শীত ও গ্রীষ্মকালে একই ধরনের পোশাক পরিধানের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত আইনজীবীদের পোশাকটি মূলত ব্রিটিশ ভাবধারা ও আবহাওয়া বিবেচনায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কালের বিবর্তে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন হওয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশ গ্রীষ্মপ্রধান দেশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু আইনজীবীদের কল্যাণ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুবিবেচনায় পোশাকের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে দেশের হাজার হাজার আইনজীবী প্রতি বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উচ্চমাত্রার গরম আবহাওয়ার কারণে নিদারুণ, অসহনীয়, অবর্ণনীয়, শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে লাখো লাখো বিচারপ্রার্থীকে আইনি সেবা দিয়ে আসছেন। একই সাথে নিম্ন ও উচ্চ আদালতের বিচারকরা একই ধরনের পোশাক পরিধান করায় অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছেন। এতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত গরমে নিয়ম অনুযায়ী, কালো কোট, গাউন, কলার, ব্যান্ড বা টাই পরিধানের কারণে প্রতিবছর বহু সংখ্যক আইনজীবী হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন এবং অনেক আইনজীবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তীব্র গরম এবং তাপ প্রবাহের কারণে অনেক বয়স্ক আইনজীবী আদালতে যেতে পারেন না। ফলে অনেক আইনজীবী পেশাগত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইতোপূর্বে করোনা মহামারির সময়ে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা মোতাবেক ড্রেস কোড পরিবর্তন করা হয়েছিল উল্লেখ করে আবেদনে আরও বলা হয়, তাতে আদালতের বিচারকার্য বা আইনজীবীদের পেশাগত কোনো অসুবিধা হয়নি। তাই আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, বিচারক এবং বিচার বিভাগের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে আইনজীবীদের প্রচলিত পোশাকের পরিবর্তন আবশ্যক বিধায় বিষয়টি সুবিবেচনায় নিয়ে আইনজীবী এবং বিচারকদের জন্য গ্রীষ্ম ও শীতকালীন ভিন্ন ভিন্ন ড্রেস কোড নির্ধারণের আবেদন জানানো হয়। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা জেলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় শফিউল আলম ওরফে আলাউদ্দিন নামে এক আইনজীবীর হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category