পার্বত্য অঞ্চলে নির্বাচন ও নিরাপত্তা: আলীকদম সেনা জোনের সমন্বিত প্রস্তুতির বাস্তবতা।
- আপডেট সময়ঃ ০৯:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১০৮ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। ভৌগোলিক দুর্গমতা, বিচিত্র জাতিগোষ্ঠীর বসবাস এবং সামাজিক বাস্তবতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অধিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় দাবি করে। এই প্রেক্ষাপটে পার্বত্য বান্দরবান জেলার আলীকদম ও লামা উপজেলায় নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি ও সমন্বয় জোরদারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সভাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) লামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এ সভায় নির্বাচনকালীন সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন লামা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩১ বীর)।
সভায় আলীকদম ও লামা উপজেলার আওতাধীন সকল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আবহাওয়াজনিত প্রতিবন্ধকতাকে বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় আলীকদম সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক, সাব-জোন কমান্ডার, জোনাল স্টাফ অফিসার, আলীকদম ও লামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর প্রতিনিধিসহ নির্বাচন ও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে জোন কমান্ডার স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে গৃহীত সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা, বাহিনীগুলোর দায়িত্ব বণ্টন এবং সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
মতবিনিময়কালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি সংবিধানস্বীকৃত ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম। এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হওয়া দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা বিশেষভাবে জরুরি। এ ক্ষেত্রে গুজব প্রতিরোধ, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও সরকারের নীতিমালার আলোকে নির্বাচনকালীন সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী টহল জোরদার, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই প্রস্তুতি সভা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা পার্বত্য বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহের সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতাই পারে এই অঞ্চলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে।


























