ঢাকা, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬ | ই-পেপার

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ১১:১৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তিনি মাতারবাড়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার মাতারবাড়ীর হেলিপ্যাডে অবতরণের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মাতারবাড়ী শুধুনয় গোটা মহেশখালীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা, প্রত্যাশা ও আশাবাদ। মাতারবাড়ীর মানুষ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর গতি আরও বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মাতারবাড়ী বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এখানে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। পাশাপাশি রয়েছে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বৃহৎ শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা। গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে মাতারবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের অন্যতম প্রত্যাশা—মাতারবাড়ীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রকল্পের সুফল সরাসরি স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি রয়েছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাতারবাড়ীকে ঘিরে যে বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, তার সুফল যদি স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে এটি শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন সফর এ প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে সরেজমিন ধারণা নেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মাতারবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাতারবাড়ী সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাদের আশা, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি মাতারবাড়ী হবে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র। আর সেই উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে মহেশখালী মাতারবাড়ীর

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মহেশখালীর মাতারবাড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ১১:১৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তিনি মাতারবাড়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার মাতারবাড়ীর হেলিপ্যাডে অবতরণের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে মাতারবাড়ী শুধুনয় গোটা মহেশখালীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা, প্রত্যাশা ও আশাবাদ। মাতারবাড়ীর মানুষ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর গতি আরও বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মাতারবাড়ী বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এখানে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। পাশাপাশি রয়েছে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বৃহৎ শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা। গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে মাতারবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের অন্যতম প্রত্যাশা—মাতারবাড়ীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে। বিশেষ করে বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রকল্পের সুফল সরাসরি স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি রয়েছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাতারবাড়ীকে ঘিরে যে বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, তার সুফল যদি স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে এটি শুধু কক্সবাজার নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন সফর এ প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে সরেজমিন ধারণা নেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মাতারবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাতারবাড়ী সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাদের আশা, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি মাতারবাড়ী হবে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার একটি শক্তিশালী কেন্দ্র। আর সেই উন্নয়নের সুফল পৌঁছাবে মহেশখালী মাতারবাড়ীর