বান্দরবানে নানা দিয়ে বর্ষবরণের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫ বার পড়া হয়েছে
মোঃ জুয়েল হোসাইন,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: আজ ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান জেলা প্রসাশক চত্বরে নানা দিয়ে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বর্ষবরণের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সাচিং প্রু জেরি এমপিসহ জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস বেলুন উড়িয়ে নববর্ষ দিনটি উদযাপিত করা হয়।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, জেলা প্রশাসক কর্মকর্তাগণসহ,জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই,পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান, দলের নেতাগণসহ সরকারি /বেসরকারি নানান প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাগণ।
পুরোনো বছরের গ্লানি, জীর্ণতা আর শোককে পেছনে ফেলে নতুন আশা ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের পথচলা। ভোরের নতুন সূর্যের আলোয় সারা দেশে নব আনন্দে উদযাপিত হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ।
আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশে হালখাতার সেই পুরোনো জৌলুস কিছুটা কমলেও বাঙালির আত্মপরিচয় আর সম্প্রীতির এই উৎসবে যুক্ত হয়েছে বর্ণিল সব নতুন মাত্রা। ঋতুচক্রের আবর্তনে আসা এই দিনটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এক মিলনমেলায় শামিল করেছে, যা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও এমপি পক্ষ থেকে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্র তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলা নববর্ষ আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক।
এটি আমাদের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পয়লা বৈশাখ আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। তিনি বিশেষ করে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনপদের সঙ্গে এই উৎসবের নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও লোকজ কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বান্দরবান বরাবরের মতোই বর্ষবরণের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ত্রিপুরাদের সাংস্কৃতিক অনুষদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের শোভাযাত্রায় ‘শান্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তা’র প্রতীক হিসেবে সাংস্কৃতিক, নৃত্য,আবৃতি, কবিতা, আদিবাসীদের নাচ, গান ইত্যাদি স্থান পেয়েছে। রঙিন কাগজে নির্মিত বিশাল সব প্রতিকৃতি আর বাদ্যযন্ত্রের তালে মুখরিত এই শোভাযাত্রার মূল বার্তা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।
এছাড়া রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’র প্রতিপাদ্যে সম্মিলিত কণ্ঠে গানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছেন। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীও দিনভর তোপখানা রোডে গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব আয়োজনে বর্ষবরণ করছে।
শুভ যাত্রাটি বান্দরবান শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এর হল রুমে গিয়ে শেষ হয়।
বান্দরবান জেলারস্থ ও সংস্কৃতি অধীনে শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে আদিবাসীদের নৃত্য, নাচ, গান আর লোকজ দিয়ে মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া আনন্দকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্ষবরণের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বান্দরবান পৌরস্থ বিশেষ করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বান্দরবান জেলা পুলিশ, ডিবি,সেনাবাহিনী ও র্যাব প্রতিটি উৎসবস্থলে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুর ইসলাম বাচ্চু,সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনারুল ইসলাম মিনার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকের হোসেনসহ রিপোর্টার্স ইউনিটিও সকল সদস্যবৃন্দ।
এসময় জেলা প্রশাসক পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নববর্ষের এই প্রভাত আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে বাঙালির চিরন্তন ঐক্যের শক্তিকে, যেখানে নতুনের জয়গান আর মানবতার আহ্বানই হয়ে উঠেছে মুখ্য।



















