ঢাকা, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে জ্বালানি উৎস নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সাথে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতে চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।

শামা ওবায়েদ বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না সরকার। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায়।

সরকার জনগণের সাথে ভাঁওতাবাজি করছে: জামায়াত আমির
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সাথে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময়ঃ ০২:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প ও বহুমুখী জ্বালানি উৎস খুঁজছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

শামা ওবায়েদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সাথে জ্বালানি উৎস নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সাথে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতে চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।

শামা ওবায়েদ বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে শুধু বন্যা, অবৈধ অভিবাসন বা বিভিন্ন সংকটের দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায় না সরকার। বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায়।

সরকার জনগণের সাথে ভাঁওতাবাজি করছে: জামায়াত আমির
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর এই অধিবেশনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা ও আকাঙ্ক্ষা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একই সাথে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।