প্যাডেল রিকশা বন্ধ ও নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা চেয়ে আইনি নোটিশ
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
দেশব্যাপী প্যাডেলচালিত রিকশা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালুর নীতিমালা প্রণয়ন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ম্যাপরেফারেন্স দেখা
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশের বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে।
নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশেরও কম মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহার করলেও এসব যানবাহন সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখছে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং সরকারি জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় বাড়াচ্ছে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড ও ক্ষুদ্র বস্তুকণাসহ বিভিন্ন দূষণকারী উপাদান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে এবং নাগরিকদের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ মানুষ গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল। বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক মানুষ প্যাডেল রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। তীব্র গরম, বৃষ্টি, যানজট ও প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় রিকশা চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে পেশি ও অস্থিসন্ধির ক্ষয়, অপুষ্টি এবং অকাল বার্ধক্যসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যের কারণে এই কঠোর শ্রমকে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করা পেশা বলা যায় না। সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ থাকায় প্যাডেল রিকশা বন্ধে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নোটিশে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে স্থানীয় পরিবহনের আধুনিক, মানবিক ও প্রয়োজনীয় মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে এর জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। এতে গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং সিস্টেম, ব্যাটারির মান, যানবাহনের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং বৈজ্ঞানিক চার্জিং ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎকে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় নয়, বরং জনগণের যাতায়াত, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার যৌক্তিক ব্যবহার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংরক্ষণ প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। তাই জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, উচ্চহারে পরিবেশ কর আরোপ এবং রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার ও মিটারভিত্তিক পরিবহন সেবাকে উৎসাহিত করার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আইনজীবী নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্যাডেল রিকশা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ, নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা প্রণয়ন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
















