চেষ্টা ‘র ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত।
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩৬ বার পড়া হয়েছে
মারুফ হোসেন : মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রত্যয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানী ঢাকার মহাখালী রাওয়া ক্লাবে বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আবেগঘন পরিবেশে উদযাপিত হলো মানবিক ও নারী সংগঠন “চেষ্টা”-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল “১৫ বছরের পথচলায় মানবিক সেবায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ”। প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয় সংগঠনটির দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ড, সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এবং নারীর উন্নয়ন ও কল্যাণে বিভিন্ন অবদানের চিত্র।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেষ্টার প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. নাজনীন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা খুকু আহমেদ এবং বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, লেখিকা ও সংগঠক কণা রেজা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে স্মরণ করা হয় চেষ্টার প্রতিষ্ঠাতা লে. জেনারেল হারুন অর রশিদ বীরপ্রতীক, প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ডা. মো. মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ড. মো. হারুন অর রশিদ, সদস্য সামসুন নাহারের স্বামী ডা. ফজলে এলাহী এবং চেষ্টার শুভাকাঙ্ক্ষী তরুণ ব্যবসায়ী সৈয়দ মো. সাঈদ-কে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া চেষ্টার সদস্যা ফারজানা আহমেদের স্বামী মোস্তাক আহমেদের দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) কাওসার মাহমুদ।
স্বাগত বক্তব্যে চেষ্টার সেক্রেটারি গুলশান নাসরীন চৌধুরী সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ, নারী উন্নয়ন কর্মসূচি, শিক্ষা সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “চেষ্টা শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি মানবতার সেবায় নিবেদিত একটি পরিবার।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান। দীর্ঘদিনের অবদান ও সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ নিম্মী চৌধুরী, সাহানা পারভীন, লায়লা নাজনীন হারুন, গুলশান নাসরীন চৌধুরী, দিলরুবা মাহমুদ এবং সাকেরা খান-কে আজীবন সদস্য হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ সময় করতালির মাধ্যমে তাঁদের অভিনন্দিত করেন উপস্থিত অতিথি ও সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) কাওসার মাহমুদ এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল হক। তাঁরা চেষ্টার মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এ ধরনের সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে উঠে আসে মানবতা, নারী নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্ববোধের নানা দিক। জামালপুর থেকে আগত বীরকন্যা রঙ্গমালার কন্যা হেনা বেগম চেষ্টার কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে প্রয়াস সংগঠনটি চালিয়ে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বিশিষ্ট উদ্যোক্তা, লেখিকা ও সংগঠক কণা রেজা বলেন, নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে চেষ্টার মতো সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে মানবিক সংগঠনগুলোর সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক সূচকের মাধ্যমে পরিমাপ করা যায় না; মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি চেষ্টার ১৫ বছরের সাফল্যময় পথচলার প্রশংসা করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা খুকু আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিকতা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে লায়লা নাজনীন হারুন সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, আগামী দিনে চেষ্টার মানবিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে। নারী উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সফল করতে সহযোগিতাকারী সকল সদস্য, অতিথি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, প্রয়াত শুভাকাঙ্ক্ষী ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের স্মরণে পরিবেশিত হয় গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে অংশগ্রহণ করেন সাহানা আহমেদ, কানিজ মাহমুদ, শাহনাজ মান্নান, নিম্মী চৌধুরী, আইভী মামুনসহ চেষ্টার সদস্যবৃন্দ। তাঁদের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে এবং আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন চেষ্টার ভাইস প্রেসিডেন্ট সাহানা আহমেদ। তিনি উপস্থিত সকল অতিথি, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও মানবতার কল্যাণে চেষ্টার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উৎসবমুখর, আবেগঘন ও স্মৃতিময় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানবিক সংগঠন “চেষ্টা” তার ১৫ বছরের গৌরবময় পথচলার সাফল্য উদযাপন করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। মানবতার সেবায় নিবেদিত এই সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।





















