ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ই-পেপার

সাংবাদিকদের মতামত উপেক্ষা নয়’—সাইবার আইন সংশোধনী পুনর্বিবেচনার দাবি

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৫৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘সাংবাদিকদের মতামত উপেক্ষা করে আইন চাপিয়ে দেওয়া হলে উদ্বেগ বাড়বে’
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনীতে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, আইন প্রণয়নের নামে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তাই কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময় করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো আইন প্রণয়ন বা চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অনলাইনে ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ বা ‘যাচাইহীন’ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিএমএসএফের মতে, এসব বিধান সংবাদ প্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন Committee to Protect Journalists (CPJ)-ও প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিএমএসএফের দাবি, ‘ভুল তথ্য’, ‘অপতথ্য’ কিংবা ‘যাচাইহীন তথ্য’—এসব বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনে সুস্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও প্রয়োগযোগ্য মানদণ্ড থাকতে হবে। অন্যথায় জনস্বার্থে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা কিংবা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, সাইবার অপরাধ দমন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
বিএমএসএফ সরকারকে প্রস্তাবিত সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের মালিক, আইনজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাইবার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, অংশীজনদের মতামত ও পেশাগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হলে একদিকে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সাংবাদিকতা ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাংবাদিকদের মতামত উপেক্ষা নয়’—সাইবার আইন সংশোধনী পুনর্বিবেচনার দাবি

আপডেট সময়ঃ ০১:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘সাংবাদিকদের মতামত উপেক্ষা করে আইন চাপিয়ে দেওয়া হলে উদ্বেগ বাড়বে’
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনীতে সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, আইন প্রণয়নের নামে বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তাই কোনো আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময় করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো আইন প্রণয়ন বা চাপিয়ে দেওয়া হলে তা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অনলাইনে ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’ বা ‘যাচাইহীন’ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিএমএসএফের মতে, এসব বিধান সংবাদ প্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন Committee to Protect Journalists (CPJ)-ও প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিএমএসএফের দাবি, ‘ভুল তথ্য’, ‘অপতথ্য’ কিংবা ‘যাচাইহীন তথ্য’—এসব বিষয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনে সুস্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও প্রয়োগযোগ্য মানদণ্ড থাকতে হবে। অন্যথায় জনস্বার্থে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা হয়রানি, মামলা কিংবা আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনটি বলেছে, সাইবার অপরাধ দমন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।
বিএমএসএফ সরকারকে প্রস্তাবিত সংশোধনী পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের মালিক, আইনজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাইবার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, অংশীজনদের মতামত ও পেশাগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হলে একদিকে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সাংবাদিকতা ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।