• সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা বেনজীরের অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী দুয়েক সময় আমাদের ট্রলার-টহল বোটে মিয়ানমারের গুলি লেগেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সহকর্মীকে হত্যাকারী কনস্টেবল মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি পরিবারের বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী চেকিংয়ের জন্য গাড়ি থামানো চাঁদাবাজির অংশ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা কতজন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট বান্দরবান থেকে কেএনএফের ৩১ জনকে পাঠানো হলো চট্টগ্রাম কারাগারে

লাঠি নিয়ে সড়কে নেমে দ্রব্যমূল্য কমানো যাবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী

Reporter Name / ১১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সড়কে লাঠিসোঁটা নিয়ে দ্রব্যমূল্য কমানো যাবে না। কমানো যাবে না মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতিও। মূল্যস্ফীতি কমাতে গেলে বসে কথা বলতে হবে, মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি ইকোনোমিক মেমোরেনডাম’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, কাগজে রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবর দেখি। এটি লুকানোর কোনো বিষয় না। আমি রাজনৈতিক সংঘর্ষের কথা বলছি না, বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা বলছি না। তবে আকাশে কালো মেঘ দেখতে পাই। আমরা আশা করবো, কালো মেঘ থেকে ঝড় আসবে না। ঝড় কারও জন্যই মঙ্গলের হবে না। আজ আবারও বলছি, আমাদের সবাইকে আলোচনার পথে আসতে হবে। সভ্যতা-ভদ্রতার পথে আসতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা একটি বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সে বিবেচনায় আমাদের বিশ্বমানের আচরণও করতে হবে। আমি বিনয়ের সঙ্গে সব মহলের রাজনীতিকদের বলবো, আসুন আলোচনা করি। ব্যাংকিং খাত নিয়ে এম এ মান্নান বলেন, এ খাতের সমস্যা আছে। আমরা এগুলো মোকাবিলা করবো, সমাধান করবো। সংস্কার করতেই হবে, আমাদের ভোটাররা এটা চান। এখানে রাজনৈতিক কিছু বিষয় আছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জোর কদমে হয়তো হাঁটতে পারবো না, তবে সামনে যাবোই। আমরা সঠিকপথে আছি, শেখ হাসিনার কৌশলে দেশের কল্যাণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কৌশল মানেই দেশের কল্যাণ। তার পরিকল্পনায় দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, খাদ্যঘাটতি কমেছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। বেড়েছে খাদ্য উৎপাদন ও সাক্ষরতার হার। শ্যামগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া গাড়ি চালিয়ে যাবেন একটি খাল পার হতেও সমস্যা হবে না। সবখানে সেতু ও কালভার্ট আমরাই করেছি। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যান ড্যান চেন, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন প্রমূখ।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গৃহকর্মীর অধিকার আমাদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশে ভালো পরিমাণে (যথেষ্ট) টাকা আছে, তবে তা যথাস্থানে খরচ হয় না। তিনি বলেন, টাকা বাংলাদেশে মোটামুটি ভালো পরিমাণে আছে। তবে অনেক সময় প্রধানমন্ত্রী চাইলেও যথাস্থানে খরচ করতে পারেন না। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নিম্নআয়ের মানুষ, কৃষক, মজুর ও নারীদের জন্য শেখ হাসিনার দরদ আছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এসব মানুষের জন্য কিছু করতে চান। এজন্য এ খাত সংশ্লিষ্টরা ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব নিয়ে আসুন। আমি পরিকল্পনা কমিশনে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী একনেক প্রধান। প্রস্তাবটাকে আইনের সঙ্গে মিলিয়ে আনুন। আমরা এটাকে দেখবো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান আপনাদের কল্যাণ হোক। কিন্তু কিছু আইনি বাধা, সাংস্কৃতিক কিছু বাধা আছে। এটা পার হওয়ার পর আমরা অনুমোদন দেবো। আপনারা শেখ হাসিনাকে সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন। সামাজিক শান্তি নষ্ট হলে কিন্তু সবার জন্য অমঙ্গল। গৃহকর্মীর অধিকার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যারা ঘরে কাজ করেন তারাও বাংলাদেশের মানুষ। গত কয়েক বছর দেশে খেয়েপরে বাঁচার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমাজে এখনো কিছু লোক উপোস থাকে, আধপেটা খেয়ে থাকে। এখনো কিছু মানুষ অবিচারের শিকার হয়, নানা ধরনের লাঞ্ছনার শিকার হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র। সবাই স্বাধীন নাগরিক, ভোটাধিকারও সমান- এটা আইনের কথা। কিন্তু বাস্তবে সমান না। বাস্তবে সব মানুষ স্বাধীন নয়। তিনি বলেন, সমাজে অনেকেই কিছু সম্মানী ভাতা নিয়ে কাজ করেন। কোনো গৃহকর্ত্রী বাড়াবাড়ি করবেন না, এটা উচিত নয়। গৃহকর্মীর জন্য পরিষ্কার আইন থাকা প্রয়োজন। এম এ মান্নান আরও বলেন, আমাদের চাহিদা মেটানোর জন্য রাস্তায় চাপ দিয়ে থাকি, কাজ করতে দেবো না, বাস চলতে দেবো না- এটা হতে পারে না। লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে হবে। এই ধরনের নেতিবাচক আচরণ বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়নের অর্থ বুঝতে পেরেছে, তারা আরও উন্নয়ন চায়। আমি গ্রামের ছেলে। আমি গ্রামে হাওরে যাই, গ্রামের মানুষ টিউবওয়েল চায়, পাকা পায়খানা, স্কুল চায়। গ্রামের মানুষও বোঝেন আরও বিদ্যুৎ, সড়ক, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন দরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. এহছানে এলাহী প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category