অভিযান শেষ রাত পেরোতেই ফের ব্যানার, চসিকের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময়ঃ ০৬:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে

রিপন চৌধুরী বিশেষ প্রতিনিধি: িচট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক জাকির হোসেন সড়কে অবৈধ ঝুলন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অভিযান যেন স্থায়ী সুফল দিতে পারছে না। প্রচারসামগ্রী অপসারণের পর এক রাত না পেরোতেই একই এলাকায় ফের টাঙানো হয়েছে লার্নআপ একাডেমি ও হাবিব একাডেমির ব্যানার। এতে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় চসিকের অভিযান, নিয়মিত তদারকি ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে দৃশ্যমান এ ঘটনায় নগরবাসীর প্রশ্ন—অভিযান চালিয়ে ব্যানার-পোস্টার সরানো হলেও তা পুনরায় টাঙানো ঠেকানো যাচ্ছে না কেন? সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, আর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে
জানা গেছে, জাকির হোসেন সড়কে ঝুলন্ত প্রচারসামগ্রী অপসারণে উদ্যোগ নেয় চসিক। অভিযানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরপরই একই এলাকায় লার্নআপ একাডেমির আলী স্যার ও হাবিব একাডেমির নামে ব্যানার পুনরায় টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়।
একই স্থানে বারবার প্রচারসামগ্রী টাঙানোর এ ঘটনায় অভিযানের স্থায়িত্ব ও নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অভিযান পরিচালনার পরও যদি অল্প সময়ের মধ্যে আগের চিত্র ফিরে আসে, তাহলে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব—সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
জাকির হোসেন সড়ক নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর একটি। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝুলন্ত ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী থাকলে সড়কের দৃশ্যমান সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ ও আশপাশের পরিবেশও প্রচারসামগ্রীতে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে।
নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হলেও অপসারণের পর একই ধরনের প্রচারসামগ্রী পুনরায় টাঙানো হলে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। শুধু ব্যানার খুলে ফেলাই নয়, পুনরায় যাতে কেউ একই স্থানে ব্যানার টাঙাতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি।
নগরীর সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অবৈধভাবে ঝুলিয়ে রাখা প্রচারসামগ্রী অপসারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের মাঠপর্যায়ের তদারকি কতটা নিয়মিত, তা জানতে চান নগরবাসী।
জাকির হোসেন সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় কি না, পরিদর্শনে অবৈধ ব্যানার-পোস্টার শনাক্ত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অপসারণের পর একই স্থানে পুনরায় প্রচারসামগ্রী টাঙানো ঠেকাতে কী ধরনের নজরদারি রয়েছে—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগর ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিধি লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, এক দিনের অভিযান সাময়িক পরিবর্তন আনলেও পরদিনই আগের অবস্থা ফিরে আসতে পারে।
এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি একই স্থানে বারবার ব্যানার টাঙানোর ঘটনা শনাক্ত ও নথিভুক্ত করা যেতে পারে। প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সহজ হতে পারে।
জাকির হোসেন সড়কে পুনরায় ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় লার্নআপ একাডেমি ও হাবিব একাডেমির সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও নিয়মিত তদারকি, অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণ এবং পুনরায় একই কাজ করা হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, চসিকের অভিযান যেন কেবল সাময়িকভাবে ব্যানার-পোস্টার সরানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত এবং নিয়ম ভঙ্গের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।






















