তারেক রহমানের সঙ্গে তারো আসোর বৈঠক, বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী জাপান
- আপডেট সময়ঃ ০২:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অন্যদিকে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো দেশটিতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারো আসোর নেতৃত্বাধীন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বৈঠকে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। পাশাপাশি দেশটিতে বিদ্যমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে। এ কারণে জাপানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কারও করা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এ চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চান তিনি।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তারো আসোর দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তারেক রহমান। ২০০৬ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে জাপান সফরে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে, তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর আগের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন।
সাক্ষাতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাপানের পক্ষে প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ জাতীয় সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা।



















