ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

তানজানিয়ার নাগরিকদের দু’বার সাজা, একটি বাতিলে হাইকোর্টের রুল

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • / ৮৪৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তানজানিয়ার নাগরিকদের নিকট থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের একই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি আলাদা যাবজ্জীবন সাজার একটি দ- কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে তানজানিয়ার দুই নাগরিকের করা রিটের শুনানি নিয়ে গত রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ১৯৯৫ সালে বেনাপোল বন্দরে সাড়ে তিন কেজি ওজনের হেরোইন নিয়ে তানজানিয়ার চার নাগরিক গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনায় যশোরের শার্শা থানায় একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দুটি পৃথক চার্জশিট দেয়। একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে, অপরটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। এরপর ১৯৯৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই মামলায় পৃথকভাবে ঘোষণা করা রায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন আদালত। এরপর ওই দ-ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন করেন। এরপর ২০০২ সালের ৭ আগস্ট একটি মামলার রায় এবং ২০০৪ সালের ২২ জুন ওই আসামিদের আপিল আবেদনও খারিজ করে রায় দেন। এর ফলে বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকে। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করেন তারা। ওই আপিল তামাদি হওয়ার কারণে শুনানি নিয়ে তা ২০১৮ সালের ৩০ জুন খারিজ করে রায় দেন। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদ- বহালই থাকে। জানা গেছে, তারা গত ২৬ বছর ধরে কারাগারে আছেন। চার আসামির মধ্যে কারাগারে একজন মারা গেছেন এবং তার লাশ তানজানিয়ায় পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর দুই আসামি পৃথক পৃথক সাজার ঘটনা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, একই ঘটনায় পৃথক পৃথক দুইবার সাজার রায় ঘোষণা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৬

তানজানিয়ার নাগরিকদের দু’বার সাজা, একটি বাতিলে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
তানজানিয়ার নাগরিকদের নিকট থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের একই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি আলাদা যাবজ্জীবন সাজার একটি দ- কেন বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্টদের ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে তানজানিয়ার দুই নাগরিকের করা রিটের শুনানি নিয়ে গত রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, ১৯৯৫ সালে বেনাপোল বন্দরে সাড়ে তিন কেজি ওজনের হেরোইন নিয়ে তানজানিয়ার চার নাগরিক গ্রেপ্তার হন। এই ঘটনায় যশোরের শার্শা থানায় একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ দুটি পৃথক চার্জশিট দেয়। একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে, অপরটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। এরপর ১৯৯৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই মামলায় পৃথকভাবে ঘোষণা করা রায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন আদালত। এরপর ওই দ-ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন করেন। এরপর ২০০২ সালের ৭ আগস্ট একটি মামলার রায় এবং ২০০৪ সালের ২২ জুন ওই আসামিদের আপিল আবেদনও খারিজ করে রায় দেন। এর ফলে বিচারিক আদালতের রায় বহাল থাকে। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল আবেদন করেন তারা। ওই আপিল তামাদি হওয়ার কারণে শুনানি নিয়ে তা ২০১৮ সালের ৩০ জুন খারিজ করে রায় দেন। এর ফলে তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদ- বহালই থাকে। জানা গেছে, তারা গত ২৬ বছর ধরে কারাগারে আছেন। চার আসামির মধ্যে কারাগারে একজন মারা গেছেন এবং তার লাশ তানজানিয়ায় পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর দুই আসামি পৃথক পৃথক সাজার ঘটনা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, একই ঘটনায় পৃথক পৃথক দুইবার সাজার রায় ঘোষণা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারা সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।