ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অবহিত করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সরকার গঠন করেছিল। গত কয়েক দিন ধরে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন ও লংমার্চ চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৩ ধারায় প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের কথা বলা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।

ইমরান খান ২০২২ সালে পার্লামেন্টে আস্থাভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে সেই দণ্ড ভোগ করছেন।

ইমরান খান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন-এমন পরিস্থিতিতে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে পিটিআই। এরই অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে দলটি। তবে এখনো লংমার্চ ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। এটি পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

দ্য ডন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, তিনি পিটিআইকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে দেবেন না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রদেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে এবং সাধারণ মানুষ কিছু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি সেখানে জরুরি অবস্থার অধীনে গভর্নর শাসন চালু হবে। এর ফলে প্রদেশটিতে পিটিআইয়ের ক্ষমতা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য ডন

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি

আপডেট সময়ঃ ০২:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সদস্যদের অবহিত করা হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সরকার গঠন করেছিল। গত কয়েক দিন ধরে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে ইমরান খানকে কারাগার থেকে মুক্ত করার দাবিতে আন্দোলন ও লংমার্চ চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৩ ধারায় প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের কথা বলা হয়। পরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন।

ইমরান খান ২০২২ সালে পার্লামেন্টে আস্থাভোটে হেরে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান। এরপর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে সেই দণ্ড ভোগ করছেন।

ইমরান খান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন-এমন পরিস্থিতিতে তাঁর মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে পিটিআই। এরই অংশ হিসেবে গত ৫ অক্টোবর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে দলটি। তবে এখনো লংমার্চ ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। এটি পিটিআই-শাসিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

দ্য ডন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, তিনি পিটিআইকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে দেবেন না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির ফলে প্রদেশটিতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে এবং সাধারণ মানুষ কিছু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি সেখানে জরুরি অবস্থার অধীনে গভর্নর শাসন চালু হবে। এর ফলে প্রদেশটিতে পিটিআইয়ের ক্ষমতা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সূত্র: দ্য ডন