ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ই-পেপার

চুয়েটে তীব্র অচলাবস্থা: ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ নতুন উপাচার্য

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৭ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনটির ভেতরের ফটক এবং মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অন্যদের জন্য সকালের খাবারের ব্যবস্থা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন- প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও প্রকৌশলী টিটু মো. সোহান। এ সময় প্রকৌশলী শাহরিয়ারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, কাল রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটাই আমরা খেয়েছিলাম। এখানে থেকে আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে, রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।

আলোচনার সুযোগ পাননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি আলোচনা করতে চাই। কিন্তু এখনো তো সেই সুযোগই হয়নি। সোমবার একবার তাদের সামনে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের আচার-আচরণে সেই সুযোগ একদমই পাওয়া যায়নি।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। সোমবার তাকে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকেছেন। আমরা অবরুদ্ধ সবাইকে সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

সোমবার রাতভর প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডা দিতে দেখা যায়।

এদিকে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।

পরে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন না ছাড়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ভেতরের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

​জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের-এর বাসভবনে কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ ​ঢাকা, ১২ অক্টোবর ২০২৬: জাতীয় পার্টির মাননীয় চেয়ারম্যান, গণমানুষের নেতা জননেতা আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি-এর রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে একদল দুষ্কৃতকারী কর্তৃক হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। ​ কতিপয় দুষ্কৃতকারী ও অরাজকতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার বাসভবনে এ ধরনের হীন ও কাপুরুষোচিত হামলা দেশের রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তিশৃঙ্খলার ওপর এক চরম আঘাত। এটি স্পষ্টতই রাজনীতিকে সহিংস করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। ​জাতীয় ছাত্র সমাজ স্পষ্টভাবে জানাতে চান, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গ-সংগঠনসমূহের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে থামানো যাবে না। পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সাক্ষাৎকারে ​দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন : ১. অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। ২. বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ​যদি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী হামলার পেছনে থাকা অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে জাতীয় ছাত্র সমাজ দেশের ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

৫

চুয়েটে তীব্র অচলাবস্থা: ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ নতুন উপাচার্য

আপডেট সময়ঃ ০১:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২-এ প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনটির ভেতরের ফটক এবং মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অন্যদের জন্য সকালের খাবারের ব্যবস্থা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন- প্রকৌশলী শাহরিয়ার ও প্রকৌশলী টিটু মো. সোহান। এ সময় প্রকৌশলী শাহরিয়ারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, কাল রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটাই আমরা খেয়েছিলাম। এখানে থেকে আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে, রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অনেকেরই অনেক সমস্যা হচ্ছে।

আলোচনার সুযোগ পাননি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি আলোচনা করতে চাই। কিন্তু এখনো তো সেই সুযোগই হয়নি। সোমবার একবার তাদের সামনে গিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের আচার-আচরণে সেই সুযোগ একদমই পাওয়া যায়নি।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। সোমবার তাকে বের হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও তিনি স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকেছেন। আমরা অবরুদ্ধ সবাইকে সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

সোমবার রাতভর প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের সেখানে খাওয়া-দাওয়া ও আড্ডা দিতে দেখা যায়।

এদিকে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের বাসে হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া চুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।

পরে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন না ছাড়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ভেতরের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।